পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও অনুগ্রহ আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আমরা যখন আজকের সুসমাচারের সেই মধ্যরাতের বন্ধুটির কথা শুনি, যে তার বন্ধুর প্রয়োজনে রুটি চাইতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অদ্ভুত কিন্তু পরিচিত দৃশ্য। সেই বন্ধুটি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, তার হাতে কিছুই নেই, তার ঘরে কোনো খাবার নেই, কিন্তু তার হৃদয়ে আছে এক গভীর আকুতি। সে জানে, সে যার কাছে এসেছে, সে তার বন্ধু। সে জানে, রাত যত গভীরই হোক, তার বন্ধুর দরজা তার জন্য বন্ধ থাকতে পারে না। আমাদের জীবনের অনেক রাত এমন—যেখানে আমরা শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে থাকি, যেখানে আমাদের সব পরিকল্পনা, সব স্বপ্ন, সব চেষ্টা যেন সেই তালাবদ্ধ দরজার মতো মনে হয়।
বেনের কথা ভাবলে, আমার মনে পড়ে তার সেই অদম্য কৌতূহলের কথা। তার সেই প্রিয় বিমানগুলো, সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, আর কম্পিউটারের কোডিং-এর জগতে তার সেই গভীর ডুব—এসবই কি ছিল না এক প্রকারের কড়া নাড়া? সে যখন তার বাবার সাথে বসে নতুন কোনো কোড লিখত বা কোনো এয়ারলাইন্সের রুট নিয়ে আলোচনা করত, তখন সে আসলে তার বাবার সাথে এক গভীর সংযোগ তৈরি করছিল। সেই মুহূর্তগুলো ছিল তার জীবনের এক জীবন্ত প্রার্থনা। সে যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, তখন সে কেবল শহর দেখছিল না, সে দেখছিল ঈশ্বরের সৃষ্টিকে। সে ছিল এক আধুনিক দিনের অভিযাত্রী, যে জানত কীভাবে মুহূর্তের গভীরে গিয়ে বসতে হয়।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে, প্রতিটি দিন আপনাদের কাছে কতটা দীর্ঘ। সেই শূন্য চেয়ার, বেনের সেই প্রিয় জায়গাটি, তার কম্পিউটারের সেই অন্ধকার স্ক্রিন—এগুলো কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগায় না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমাদের এই ব্যথা কি আপনার চোখে পড়ে না? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
প্রথম পাঠে সাধু পল গালাতীয়দের ভর্ৎসনা করছেন। তিনি জিজ্ঞেস করছেন, ‘তোমরা কি আত্মার দ্বারা শুরু করে এখন মাংসের দ্বারা শেষ করছ?’ বেনের জীবন কি ছিল না আত্মার এক নিরন্তর যাত্রা? এই ছোট মানুষটি, যে তার ১৫ বছরের জীবনে আমাদের শিখিয়ে গেল কীভাবে অন্যের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতে হয়—মনে পড়ে সেই পিগি ব্যাংকের কথা? সে তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে।
আজকের সুসমাচারে যীশু আমাদের বলছেন, ‘পিতা তাঁর কাছে যারা চায়, তাদের পবিত্র আত্মা দেবেন।’ এটিই আমাদের সেই রুটি, যা আমাদের প্রয়োজন। যখন আমাদের হৃদয় ভেঙে যায়, যখন আমরা মনে করি আমরা কিছু হারিয়ে ফেলেছি, তখন যীশু আমাদের কাছে আসেন। তিনি আমাদের সেই পবিত্র আত্মা দেন, যা আমাদের শোকের মাঝেও আশা জোগায়। বেনের সেই হাসি, তার সেই গিগলগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।