পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর।
আমরা যখন আজকের সুসমাচারের সেই আঙুরক্ষেতের মালিকের দিকে তাকাই, তখন আমাদের মনে হতে পারে যে এটি কেবল একটি হিসাব-নিকাশের গল্প। কিন্তু একটু গভীরে তাকালে, এটি আসলে ঈশ্বরের হৃদয়ের এক অসীম উদারতার গল্প। সেই মালিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বারবার বাজারে গিয়েছেন। তিনি সেই সব মানুষদের খুঁজছিলেন যারা কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। এমনকি যারা একদম শেষ মুহূর্তে এসেছিল, তাদেরও তিনি একই মজুরি দিলেন। এটি আমাদের হিসাবের সাথে মেলে না, তাই না? কিন্তু ঈশ্বরের হিসাব আমাদের হিসাবের মতো নয়। আজকের প্রথম পাঠে যিশাইয় ভাববাদী ঠিক এই কথাটিই বলেছেন: “আমার চিন্তা তোমাদের চিন্তা নয়, আর আমার পথ তোমাদের পথ নয়।”
আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো-এর কথা ভাবুন। পনেরো বছরের সেই উজ্জ্বল জীবন, সেই কোডিং-এর জগত, সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন। বেন ছিল এমন এক বালক, যে তার অসীম কৌতূহল দিয়ে পৃথিবীকে জানত। তার বাবা অ্যালান যখন তার সাথে রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখতেন, তখন সেই বিমানগুলো কেবল যন্ত্র ছিল না, সেগুলো ছিল বেনের হৃদয়ের বিশালতা। বেন যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার কথা শুনে নিজের সমস্ত জমানো অর্থ—তার পিগি ব্যাংকটি—তুলে দিতে চেয়েছিল, তখন সে আসলে কী করছিল? সে কোনো হিসাব করছিল না। সে কেবল তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিতে চেয়েছিল। সে তার পিগি ব্যাংকটি ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। ঠিক যেমন আঙুরক্ষেতের মালিক শেষ মুহূর্তে আসা শ্রমিকদেরও পুরো দিনের মজুরি দিয়েছিলেন, তেমনি বেন তার ছোট জীবনে ভালোবাসার এক বিশাল ভাণ্ডার জমা করেছিল, যা ঈশ্বরের চোখে অসীম।
আমি জানি, অ্যালান এবং থাও, আপনারা আজ এই তিন মাস পার করার মুহূর্তে কতটা ভার অনুভব করছেন। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নীরব ঘর—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের হৃদয়কে প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলোই সেই পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
সাধু পৌল ফিলিপীয়দের লিখছেন: “আমার কাছে জীবন মানেই খ্রীষ্ট।” এটিই ছিল বেনের জীবন। সে কেবল বেঁচে ছিল না, সে তার প্রতিটি কাজে, প্রতিটি হাসিতে, এমনকি তার সেই মিষ্টি গিগল-এ খ্রীষ্টের উপস্থিতিকে বহন করত। তার সেই হাসিটি, যা তার ব্রেসসহ উজ্জ্বল হয়ে উঠত, তা ছিল এক পবিত্র আনন্দ। বেন আজ সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো দেখছে এই পৃথিবী কেমন চলছে। সে তার ভাই রায়ানের সাথে শেয়ার করা সেই রোলার কোস্টার রাইডের আনন্দ বা ব্যাকইয়ার্ডের স্মৃতিগুলো নিয়ে আজও আমাদের দেখছে।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন—যে বলত ‘চেষ্টা করাই আসল কথা’—তা তোমার মধ্যেও বেঁচে আছে। তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। বেনের সেই মৃদু হাসি, তার সেই কৌতূহল, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, যারা নিজেরাও কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন—আজ এই শব্দগুলোকে ধরে রাখুন। বেন আজ আর ব্যথায় নেই। সে ভালো আছে। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন। তিনি তাঁর মুখ আপনাদের ওপর উজ্জ্বল করুন এবং আপনাদের শান্তি দান করুন। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।