পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বর পিতার প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সহবর্তী হোক। আজ আমরা প্রভুর বাক্যের চারপাশে সমবেত হয়েছি আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিনকে স্মরণ করতে এবং তাঁর অসীম করুণায় সান্ত্বনা খুঁজতে।
প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো। খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করো। প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো।
একটি চাবির কথা কল্পনা করুন …
একটি ছোট ধাতব বস্তু, যা আপনার হাতের তালুতে অনায়াসে মিশে যায়। অথচ এই ছোট বস্তুটির ক্ষমতা কত অসীম! এটি একটি ভারী দরজা খুলে দিতে পারে, যা আগে অভেদ্য মনে হতো। এটি একটি গোপন সিন্দুক উন্মুক্ত করতে পারে, যেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে অমূল্য সম্পদ। একটি চাবি মানেই হলো প্রবেশাধিকার। একটি চাবি মানেই হলো সম্ভাবনা।
আজকের পবিত্র শাস্ত্রপাঠে আমরা দুবার এই চাবির কথা শুনতে পাই। প্রথম পাঠে ভাববাদী যিশাইয় বলছেন এলিয়াকীমের কথা, যার কাঁধে দায়ূদ রাজবংশের চাবিকাঠি রাখা হয়েছে। আর সুসমাচারে আমরা দেখি প্রভু যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং শিমোন পিতরকে বলছেন, “আমি তোমাকে স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি দেব।”
চাবি হলো সেই মাধ্যম যা আমাদের অজানাকে জানতে সাহায্য করে, যা আমাদের বন্ধ দুয়ার খুলে আলোর পথে নিয়ে যায়।
আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো, আমাদের বেন—তার জীবনের দিকে তাকালে আমি ঠিক এই চাবির চিত্রটিই দেখতে পাই। বেনের ছিল এক অসাধারণ কৌতূহলী মন। সে ছিল এমন এক কিশোর, যার কাছে জ্ঞান বা প্রযুক্তি কোনো কঠিন দেওয়াল ছিল না, বরং ছিল এক একটি দরজা যা সে তার মেধা দিয়ে খুলে ফেলত।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সে AI, DevOps এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করত। যে বয়সে অন্য কিশোরেরা কেবল গেম খেলে সময় কাটায়, বেন তখন সেই গেমের পেছনের কোডিং বা যুক্তিগুলো বোঝার চেষ্টা করত। তার বাবার মাস্টার করা AWS এনভায়রনমেন্টগুলো সে অনায়াসে আয়ত্ত করে ফেলেছিল। তার কাছে লজিক বা গণিত ছিল সেই চাবি, যা দিয়ে সে ভবিষ্যতের এক বিশাল জগতের দরজা খোলার স্বপ্ন দেখত।
কিন্তু চাবি কেবল লোহার বা প্রযুক্তির হয় না। সবচেয়ে শক্তিশালী চাবিটি থাকে আমাদের হৃদয়ে।
আজকের সুসমাচারে যীশু যখন পিতরকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কী বলো, আমি কে?”, পিতর উত্তর দিলেন, “আপনিই সেই খ্রীষ্ট, জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।” এই স্বীকারোক্তিটিই ছিল সেই ‘মাস্টার কি’ বা প্রধান চাবি, যা দিয়ে মণ্ডলীর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পিতর কেবল যীশুকে চিনতে পেরেছিলেন তা নয়, তিনি যীশুর হৃদয়ের চাবিটি খুঁজে পেয়েছিলেন।
বেনের জীবনেও এমন একটি চাবি ছিল—তার কোমল হৃদয়। সে হয়তো প্রযুক্তির জটিল ধাঁধা সমাধান করতে পারত, কিন্তু তার আসল পরিচয় ছিল তার সরলতায়। আমি যখন তার সেই ‘con chim airlines’ বা ‘পাখি এয়ারলাইন্স’ কোম্পানি খোলার স্বপ্নের কথা শুনি, তখন আমার মনে হয়, এটি ছিল তার সেই শিশুসুলভ আনন্দের চাবি। সে যখন এই এয়ারলাইন্স নিয়ে কথা বলত, তার মুখে যে হাসি আর উজ্জ্বলতা ফুটে উঠত, তা ছিল তার পরিবারের জন্য এক পরম আনন্দের দুয়ার।
কিন্তু আজ এই বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের সত্যের মুখোমুখি হতে হবে।
আজ ১৩ই আগস্ট ২০২৬। বেনের চলে যাওয়ার ঠিক দুই মাস পূর্ণ হলো। গত ১৩ই জুন যখন সেই বিচ্ছেদের মুহূর্তটি এল, তখন মনে হয়েছিল যেন আমাদের জীবনের সমস্ত আনন্দের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। শোকের এক বিশাল কালো তালা যেন আমাদের হৃদয়ে ঝুলে আছে।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আমি জানি, এই দুই মাসে এমন অনেক রাত গেছে যখন আপনারা সেই শূন্য ঘরে বেনের চেনা গন্ধ খুঁজেছেন। হয়তো আপনারা ভেবেছেন, “কেন এমন হলো? আমরা কি কোনো ভুল করেছি? কেন আমাদের এই সুন্দর সাজানো বাগানটি এমনভাবে তছনছ হয়ে গেল?”
আজকের দ্বিতীয় পাঠে সাধু পৌল যেন আমাদের এই অব্যক্ত যন্ত্রণার উত্তর দিচ্ছেন: “আহা, ঈশ্বরের ঐশ্বর্য, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান কতই না গভীর! তাঁর বিচারসমূহ কতই না অগম্য এবং তাঁর পথসমূহ কতই না রহস্যময়!”
মাঝে মাঝে ঈশ্বর এমন কিছু দরজা বন্ধ করে দেন যা আমরা খুলতে চাই, আর এমন কিছু পথ খুলে দেন যা আমরা বুঝতে পারি না। কিন্তু মনে রাখবেন, ঈশ্বর কোনো নিষ্ঠুর বিচারক নন। যীশু যখন পিতরকে চাবি দিয়েছিলেন, তিনি তাকে কর্তৃত্ব নয়, বরং সেবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ঈশ্বর যখন কোনো জীবনকে অকালে নিজের কাছে ডেকে নেন, তখন তিনি সেই আত্মার জন্য স্বর্গের সেই পরম আনন্দের দুয়ার খুলে দেন যা আমরা এখান থেকে দেখতে পাই না।
এখানে আমি একটি খুব বিশেষ স্মৃতির কথা বলতে চাই। বেনের সেই পিগি ব্যাংকের কথা।
বেন যখন শুনল তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ, স্ট্রোক হয়েছে—সেই ১৫ বছরের কিশোরটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই তার বাবা-মাকে বলেছিল যে সে তার জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দিতে চায়। সে তার পিগি ব্যাংকটি ভেঙে ফেলেনি, সে টাকাগুলো হাতে তুলে দেয়নি কারণ তার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল আসল চাবি।
সেই মুহূর্তে বেন প্রমাণ করেছিল যে তার কাছে জাগতিক সম্পদ বড় নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসাই হলো শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সে তার হৃদয়ের চাবি দিয়ে দয়া আর সহমর্মিতার এক বিশাল জগৎ খুলে দিয়েছিল। একটি কিশোরের এই নিঃস্বার্থ ইচ্ছা ঈশ্বরের কাছে কত বড় উপহার, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
আজকের সুসমাচারে যীশু বলছেন, “পৃথিবীতে তুমি যা মুক্ত করবে, স্বর্গেও তা মুক্ত করা হবে।” বেনের সেই ভালোবাসার ইচ্ছা পৃথিবীতেই তাকে স্বর্গের নাগরিক করে তুলেছিল।
অ্যালান, আপনার সেই স্বপ্নের কথা আমার মনে পড়ছে। আপনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বেন সুস্থ, সবল, সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছে। সে আপনার সাথে আইসক্রিম কেনার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে এবং সে নিজেই দাম মেটাচ্ছে।
এই স্বপ্নটি কি কেবল একটি কল্পনা? না। এটি হলো সেই চাবি যা দিয়ে ঈশ্বর আপনাদের দেখাতে চেয়েছেন যে বেন এখন কোথায় আছে। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে। সেখানে সে আর অসুস্থ নয়, তার কোনো কষ্ট নেই। সে এখন সেই মুক্ত আকাশে উড়ছে যা সে সবসময় ভালোবাসত। সে এখন সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে সেই স্বর্গীয় নেটওয়ার্কে যুক্ত আছে, যেখানে কেবল ভালোবাসা আর শান্তি প্রবাহিত হয়।
মাঝে মাঝে শোকের মুহূর্তে আমাদের মনে অপরাধবোধ দানা বাঁধে। আমরা ভাবি, “আমি কি আরও ভালো বাবা হতে পারতাম? আমি কি আরও ভালো মা হতে পারতাম?”
যীশু যখন জন্মঅন্ধ মানুষটিকে দেখেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “কারো পাপের জন্য এমন হয়নি।” অ্যালান ও থাও, আপনাদের আমি বলতে চাই—বেনের এই চলে যাওয়া কোনো অবহেলার ফল নয়, কোনো ভুলের শাস্তি নয়। আপনারা তাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, যে দশটি শহরে ঘুরে তাকে পৃথিবী দেখিয়েছেন, তার শখের ‘এয়ারপোর্ট স্পটিং’-এ তাকে সঙ্গ দিয়েছেন—সেগুলোই ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়। আপনারা কোনো চাবি হারাতে দেননি; বরং আপনারা তার জন্য চিরস্থায়ী সুখের দুয়ার খুলে দিয়েছেন।
রায়ান, আমার ছোট ভাই, তুমি তোমার দাদাকে খুব মিস করো, আমি জানি। কিন্তু মনে রেখো, তোমার দাদা তোমাকে এক বিশেষ চাবি দিয়ে গেছে—তার সেই “চেষ্টা করাই সব” (trying is all that matters) মন্ত্রটি। যখনই তোমার মন খারাপ হবে, যখনই জীবনকে কঠিন মনে হবে, তুমি বেনের সেই লড়াকু মানসিকতার চাবিটি ব্যবহার করো। সে তোমার সাথেই আছে, তোমার প্রতিটি খেলায়, তোমার প্রতিটি সাফল্যে সে স্বর্গের গ্যালারি থেকে হাততালি দিচ্ছে।
আজ যারা দূর থেকে এই প্রার্থনায় যোগ দিয়েছেন, যারা হয়তো নিজেরাও কোনো না কোনো শোকের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন—আপনাদের সবার উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই: খ্রীষ্টই হলেন আমাদের শেষ চাবি। তিনি মৃত্যু দিয়ে জীবনের দুয়ার খুলেছেন।
আসুন, আমরা আজ বেনের সেই মিষ্টি হাসিকে আমাদের পাথেয় করি। ভিয়েতনামের সেই ‘Well of Love’ বা ভালোবাসার কূপটি যেমন তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জলের দুয়ার খুলে দিচ্ছে, আমরাও যেন বেনের স্মৃতিতে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি।
আজ যখন আপনারা এই গির্জা থেকে বা এই প্রার্থনা থেকে বিদায় নেবেন, একটি ছোট বিষয় মনে রাখবেন: কারো জন্য একটি বন্ধ দরজা খুলে দিন। সেটা হতে পারে একটি ক্ষমা, একটি ছোট সাহায্য, বা কেবল একটি মিষ্টি হাসি। বেনের মতো করে পৃথিবীকে ভালোবাসুন।
প্রভু আপনাদের হৃদয়ের সমস্ত তালা খুলে দিন এবং তাঁর স্বর্গীয় শান্তিতে আপনাদের পূর্ণ করুন। আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো আজ স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয় বিশ্রাম করুক, যেখানে কোনো বিচ্ছেদ নেই, কেবল অনন্ত মিলন।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমাদের প্রিয় বেন প্রভুর শান্তিতে চিরকাল বিশ্রাম লাভ করুক। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।