পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, পরমপিতার ভালোবাসা এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আপনি আমাদের ওপর নির্মল জল ছেটিয়ে আমাদের ধৌত করতে চান; আমাদের দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আপনি আমাদের পাথুরে হৃদয় দূর করে এক নতুন হৃদয় দান করেন; আমাদের দয়া করুন। হে প্রভু, আপনি আপনার স্বর্গের রাজকীয় বিবাহভোজে আমাদের সকলকে আহ্বান জানান; আমাদের দয়া করুন।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
একটি দৃশ্য কল্পনা করুন …
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে শুকিয়ে যাওয়া কোনো ধূসর প্রান্তর। ধুলোবালি জমে কঠিন হয়ে যাওয়া মাটি, ফাটল ধরা শুষ্ক প্রান্তর। তারপর হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে এল। ঝরে পড়ল একঝাঁক নির্মল, শীতল বৃষ্টির ধারা … সেই ঠাণ্ডা জলের স্পর্শে শুকনো ধুলো ধুয়ে গেল। মাটির কঠিন ভাব দূর হয়ে এক মিষ্টি সুবাস বাতাসে ভেসে উঠল। প্রান্তরটি যেন নতুন জীবন ফিরে পেল।
আজকের পবিত্র শাস্ত্রপাঠ আমাদের ঠিক এই নির্মল জলের স্পর্শ এবং এক নতুন হৃদয়ের কথা বলে।
ভাববাদী যিহিষ্কেলের মাধ্যমে ঈশ্বর আজ আমাদের পরম এক প্রতিজ্ঞা শোনাচ্ছেন: “আমি তোমাদের ওপর নির্মল জল ছেটাব … আমি তোমাদের শরীর থেকে পাথুরে হৃদয় তুলে নেব এবং একটি নরম, জীবন্ত হৃদয় তোমাদের দান করব।”
ঈশ্বর কেবল আমাদের উপরিভাগ ধুয়ে পরিষ্কার করতে চান না। তিনি চান আমাদের ভেতরের শক্ত, কঠিন হয়ে যাওয়া মনটাকে বদলে দিতে। তিনি চান আমাদের ভেতরের অনুভূতিহীন পাথুরে ভাব সরিয়ে এমন এক হৃদয় দিতে, যা ভালোবাসতে পারে, যা অন্যের বেদনায় সাড়া দিতে পারে, যা ঈশ্বরের প্রেমে স্পন্দিত হয়।
আজকের গীতসংহিতাতেও গীতরচক সেই একই আকুতি জানিয়েছেন: “হে ঈশ্বর, আমার অন্তরে এক নির্মল হৃদয় সৃষ্টি করো …”
আর মঙ্গল সমাচারে আমরা শুনি স্বর্গের এক পরম আনন্দের রাজকীয় বিবাহভোজের কথা। রাজা এক বিরাট ভোজের আয়োজন করেছেন। তিনি রাজপথের মোড় থেকে, অলিগলি থেকে সবাইকে ডেকে আনছেন … কোনো যোগ্যতার বিচারে নয়, কেবল তাঁর অসীম ভালোবাসায় সবাইকে সেই আনন্দের টেবিলে বসার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
আজ এই পবিত্র বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে, এই দুটি সত্য যখন আমাদের হৃদয়ে প্রতিধ্বনি তোলে, তখন আমাদের মন চলে যায় আমাদের প্রিয় একটি মুখের কাছে … আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন, আমাদের বেন।
আজ নয়টি সপ্তাহ পূর্ণ হলো … নয়টি দীর্ঘ সপ্তাহ, গত ১৩ই জুন ২০২৬ থেকে, যখন থেকে আমাদের প্রিয় বেন এই পার্থিব ধরাতল ছেড়ে পরমপিতার চিরন্তন আবাসে পাড়ি দিয়েছে।
নয়টি সপ্তাহ একটি খুব ছোট সময় মনে হতে পারে পঞ্জিকার পাতায়। কিন্তু যারা কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসে, তাদের জন্য নয়টি সপ্তাহের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত, প্রতিটি নীরব মুহূর্ত কত ভারী হতে পারে, তা কেবল সেই হৃদয়ই জানে।
ঘরের সেই চেনা কোণটি যেখানে বেন বসত … তার বইপত্র, তার প্রিয় জিনিসপত্র, টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ছোট ছোট চিহ্নগুলো … সব আছে। কিন্তু সেই চেনা ডাকটি আর নেই। সেদিনের সেই মিষ্টি হাসিটি আর চোখের সামনে দেখা যায় না।
আমি জানি, যখন কোনো পরিবারে এমন এক গভীর শূন্যতা নেমে আসে, তখন অন্তরে কত শত প্রশ্ন জমে ওঠে। শোকের প্রথম ঝড় যখন কিছুটা থিতিয়ে আসে, তখন এক গভীর ও নীরব যন্ত্রণা বুক চেপে ধরে।
মাঝে মাঝে বাবা-মায়ের মনে অলক্ষ্যে এক কঠিন প্রশ্ন এসে আঘাত করে: “আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? আমি কি কোনো কিছু বুঝতে ভুল করেছিলাম? কেন এমন হলো?”
আজ ঈশ্বর বাক্যের মধ্য দিয়ে পরম স্নেহে আপনাদের সেই ভার নামিয়ে নিতে বলছেন।
সুসমাচারে যীশু যখন এক জন্মঅন্ধ মানুষকে দেখেছিলেন, তখন শিষ্যরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “প্রভু, কার পাপের কারণে এমন হলো? এই লোকটির নাকি তার বাবা-মায়ের?” যীশু খুব স্পষ্ট ও করুণাময় কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন: “না, এই লোকটিরও নয়, তার বাবা-মায়েরও নয়।”
প্রিয় অ্যালান এবং থাও, শুনুন প্রভুর এই অভয় বাণী। যে অসুস্থতা বা দুঃখ আমাদের মানবজীবনে আসে, তা কোনো শাস্তি নয়, কারো কোনো অবহেলা বা ভুলের ফল নয়। ঈশ্বর কখনো দুঃখ বা রোগ পাঠান না। পৃথিবীতে এমন কিছু বেদনাময় মুহূর্ত আসে যা সম্পূর্ণ মানুষের নিয়ন্ত্রণাতীত, যা কোনো যত্ন বা সতর্কতা দিয়েই আটকানো সম্ভব ছিল না। আপনারা বেনকে ভালোবাসার শেষ সীমা পর্যন্ত আগলে রেখেছেন। আপনারা তাকে যে অপরিসীম স্নেহ ও নিরাপত্তা দিয়েছেন, তা স্বর্গের ফেরেশতারাও দেখেছে। কোনো অপরাধবোধ যেন আপনাদের হৃদয়কে পাথরের মতো ভারী করে না তোলে। আজ ঈশ্বর আপনাদের অন্তর থেকে সেই পাথর সরিয়ে দিতে চান, এবং তাঁর শান্তিময় স্পর্শে পূর্ণ করতে চান।
কারণ বেনের হৃদয়টি কেমন ছিল, আপনারা তা সবচেয়ে ভালো জানেন।
যিহিষ্কেল যে ‘নরম, জীবন্ত হৃদয়ের’ কথা বলেছেন—যে হৃদয় ভালোবাসায় সাড়া দেয়—বেঞ্জামিনের ভেতরে ঈশ্বর ঠিক তেমনই এক অপূর্ব হৃদয় তৈরি করেছিলেন।
বেনের মেধা ছিল অত্যন্ত প্রখর, তার বুদ্ধি ছিল অসাধারণ। কিন্তু তার সমস্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানকেও ছাপিয়ে উঠেছিল তার অন্তরের কোমলতা।
আমার মনে পড়ে, বেনের মাত্র বারো বছর বয়সের সেই অপূর্ব মুহূর্তটির কথা। তার বাবার ৪০তম জন্মদিনে, যখন চারপাশের সবাই হাসিখুশি ও আনন্দে মেতে ছিল, তখন ছোট বেঞ্জামিনের চোখে জল এসে গিয়েছিল। সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল … কোনো নিজের দুঃখের জন্য নয়, বরং বাবাকে হারানোর এক গভীর, আগাম ভয়ে। ১২ বছরের একটি শিশুর হৃদয়ে বাবার প্রতি কতটা অগাধ ভালোবাসা ও অনুভূতি থাকলে এমন অশ্রু ঝরতে পারে!
সেটি কোনো পাথুরে হৃদয় ছিল না। সেটি ছিল ঈশ্বরের দেওয়া এক অমলিন, স্পর্শকাতর, ভালোবাসায় পূর্ণ হৃদয়। যে হৃদয় ভালোবাসতে জানে, যে হৃদয় অন্যকে নিজের অস্তিত্ব দিয়ে অনুভব করতে জানে।
ঈশ্বর বেনের অন্তরে যে নির্মল জল ছেটিয়েছিলেন, তা তার পুরো জীবনকে এক সুন্দর সুবাসে ভরে তুলেছিল। সেই কোমল হৃদয় দিয়েই সে তার পরিবারকে ভালোবেসেছে, তার ছোট ভাই রায়ানকে আগলে রেখেছে, তার বাবা-মায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখিয়েছে।
আর আজ, যীশু আমাদের যে রাজকীয় বিবাহভোজের কথা বলছেন, চিন্তা করে দেখুন …
সেই ভোজসভা কোথায়? সেই ভোজসভা হলো স্বর্গের রাজ্য, যেখানে খ্রীষ্ট স্বয়ং আমাদের পরম মেজবান। সেখানে কোনো রোগ নেই, কোনো যন্ত্রণার কান্না নেই, কোনো বিচ্ছেদের ভয় নেই। সেখানে কেবল আলো, কেবল শান্তি, আর পরম আনন্দ।
আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন—আমাদের বেন—আজ সেই রাজকীয় ভোজসভার টেবিলে বসে আছে। সে কোনো অতিথি হিসেবে পেছনের সারিতে নয়, বরং রাজার পরম প্রিয় সন্তান হিসেবে খ্রীষ্টের একেবারে কাছাকাছি বসে আছে। যে নির্মল পোশাকের কথা সুসমাচারে বলা হয়েছে—সেই বাপ্তিস্মের পবিত্র ও অমলিন পোশাক পরিহিত হয়ে সে এখন স্বর্গের চিরন্তন আলোয় আনন্দ করছে।
সাধু বের্নার্দো, যাঁকে মণ্ডলী আজ বিশেষভাবে স্মরণ করছে, তিনি সর্বদা বলতেন, ঈশ্বরের ভালোবাসা কোনো পরিমাপের ভেতরে আঁটে না। পরমপিতার ভালোবাসা এক অনন্ত মহাসমুদ্রের মতো।
বেনের জীবনেও সেই ভালোবাসার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে যেভাবে প্রীতি ছড়িয়ে গেছে, তা আজও তার স্মৃতির মধ্য দিয়ে বেঁচে আছে। যেমন এক দূরবর্তী গ্রামে নিভৃতে তৈরি হওয়া একটি স্বাদু জলের কূপ আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জীবনে নির্মল জল এনে দিচ্ছে … ঠিক তেমনি বেনের নির্মল হৃদয়ের স্মৃতি আজও এই পৃথিবীতে ভালোবাসার উৎস হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিঃশব্দে, বিনম্রভাবে, ঈশ্বরের দয়ার এক নীরব চিহ্ন হয়ে।
প্রিয় অ্যালান, থাও এবং রায়ান—আমি জানি আপনাদের বুক আজও খালি লাগে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, বেন হারিয়ে যায়নি। সে কেবল অন্য এক ঘরে গেছে—রাজার সেই আলোকিত ভোজসভায়, যেখানে আমরা একদিন সবাই আবার একত্রিত হব।
রায়ান, আমার প্রিয় ছোট ভাই, তোমার দাদা সবসময় স্বর্গের ওপর থেকে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। সে চায় তুমি শক্ত থাকো, তুমি হাসো, তুমি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এগিয়ে যাও। তার সেই কোমল হৃদয়ের ভালোবাসা সর্বদা তোমার চারপাশে এক অদৃশ্য ছায়া হয়ে থাকবে।
আজ যারা দূর-দূরান্ত থেকে অনলাইন মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যে মায়েরা অসুস্থ সন্তানকে কোলে নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, যে পরিবারগুলো দুঃখের কঠিন ক্রুশ বহন করছেন, এবং যে ছোট্ট শিশুরা আজ কষ্টের মুখোমুখি—আপনারা জানবেন, আপনারা একা নন।
ঈশ্বর আপনাদের প্রতিটি চোখের জল চেনেন। তিনি আপনাদের হৃদয়ের পাথর সরিয়ে সেখানে তাঁর পরম করুণার জল ঢেলে দিতে চান।
আসুন, আজকের এই লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট বার্তা আমাদের হৃদয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরি।
আজ থেকে আমরা যেন আমাদের হৃদয়কে আর ক্ষোভ, ভয় বা হতাশার পাথরে পরিণত হতে না দিই। আসুন, আমরা যিহিষ্কেলের সেই প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের জীবনে গ্রহণ করি। আমাদের চারপাশের প্রিয় মানুষদের কাছে একটু বেশি কোমল হই, একটু বেশি ভালোবাসায় হাত বাড়িয়ে দিই। যখনই মন খারাপ হবে, বেনের সেই নির্মল হৃদয়ের কথা এবং তার মিষ্টি হাসির কথা স্মরণ করি।
প্রভু যীশু খ্রীষ্ট তাঁর অসীম শান্তিতে আপনাদের পরিবারকে ভরিয়ে দিন। মা মারীয়া তাঁর সান্ত্বনাময় আঁচল দিয়ে আপনাদের ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের রাজকীয় ভোজসভায় খ্রীষ্টের পরম শান্তিতে চিরকাল বিশ্রাম লাভ করুক।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর—পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা—আপনাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন এবং তাঁর পরম শান্তিতে রক্ষা করুন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।