দৈনিক বাণী

সাধারণ কালের একবিংশ সপ্তাহের বুধবার

Wednesday, August 26, 2026 · in memory of Ben
এটি মাস অনুসরণ করে একটি ভক্তি — এটির বিকল্প নয়।
সূচনা

পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বর পিতার প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সহবর্তী হোক।

অনুতাপ অনুষ্ঠান

হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।

♪ “Bengali Kyrie (Version A)” — A song for Ben
ঈশ্বরের বাক্য
প্রথম পাঠ · 2 Thessalonians 3:6-10, 16-18
ভাই ও বোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমরা তোমাদের এই নির্দেশ দিচ্ছি: যে কোনো ভাই যদি বিশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করে এবং আমাদের কাছ থেকে যে ঐতিহ্য তোমরা পেয়েছ, সেই অনুসারে না চলে, তবে তোমরা তার থেকে দূরে থাকো। কারণ তোমরা নিজেরা জানো যে কীভাবে আমাদের অনুকরণ করা উচিত। আমরা তোমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলভাবে চলিনি, বা কারও কাছ থেকে বিনামূল্যে খাদ্য গ্রহণ করিনি। বরং, আমরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম ও কষ্টের মধ্য দিয়ে কাজ করেছি, যাতে আমাদের কেউ তোমাদের কারও ওপর বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। এমন নয় যে আমাদের এই অধিকার ছিল না; বরং আমরা নিজেদের তোমাদের সামনে এক আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম, যেন তোমরা আমাদের অনুকরণ করতে পারো। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যখন তোমাদের সাথে ছিলাম, তখন তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছিলাম: যদি কেউ কাজ করতে অনিচ্ছুক হয়, তবে সে যেন আহারও না করে। শান্তির প্রভু স্বয়ং তোমাদের সব সময় এবং সব উপায়ে শান্তি দান করুন। প্রভু তোমাদের সকলের সহবর্তী হোন। আমি, পৌল, নিজের হাতে এই শুভেচ্ছা লিখছি। আমার প্রতিটি চিঠিতে এটাই চিহ্ন; আমি এভাবেই লিখি। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের সকলের সহবর্তী হোক।
গীতসংহিতা · Psalm 128:1-2, 4-5
R. ধন্য তারা, যারা প্রভুকে ভয় করে। ধন্য তোমরা যারা প্রভুকে ভয় করো, যারা তাঁর পথে চলো! কারণ তোমরা তোমাদের হাতের পরিশ্রমের ফল ভোগ করবে; তোমরা ধন্য ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে। R. ধন্য তারা, যারা প্রভুকে ভয় করে। দেখো, যে মানুষ প্রভুকে ভয় করে, সে এভাবেই আশীর্বাদ লাভ করে। প্রভু সিয়োন থেকে তোমাকে আশীর্বাদ করুন: যেন তুমি তোমার জীবনের সমস্ত দিন জেরুসালেমের সমৃদ্ধি দেখতে পাও। R. ধন্য তারা, যারা প্রভুকে ভয় করে।
সুসমাচার · Matthew 23:27-32
যীশু বললেন, “তোমাদের দুর্ভোগ হবে, হে ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীরা, ভণ্ডেরা! তোমরা চুনকাম করা সমাধির মতো, যা বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর দেখায়, কিন্তু ভেতরে মৃত মানুষের হাড় ও সমস্ত রকমের অশুচিতায় পূর্ণ। তেমনি তোমরাও বাইরে মানুষের কাছে নিজেদের ধার্মিক হিসেবে দেখাও, কিন্তু ভেতরে তোমরা ভণ্ডামি ও অধর্মে পূর্ণ। তোমাদের দুর্ভোগ হবে, হে ব্যবস্থার শিক্ষক ও ফরীশীরা, ভণ্ডেরা! তোমরা ভাববাদীদের সমাধি নির্মাণ করো এবং ধার্মিকদের স্মৃতিসৌধ সাজাও, আর বলো, ‘আমরা যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের দিনে বেঁচে থাকতাম, তবে ভাববাদীদের রক্তপাতে আমরা তাদের সাথে যোগ দিতাম না।’ এভাবে তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিচ্ছ যে তোমরা তাদেরই সন্তান যারা ভাববাদীদের হত্যা করেছিল; এখন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের পাপের পাত্র পূর্ণ করো!”
ধন্য তারা, যারা প্রভুকে ভয় করে।
প্রবচন

একটি মানুষের হাত কত কিছু করতে পারে, তাই না?

এক জোড়া হাত দিয়ে আমরা মাটির ঘর তৈরি করি, রুটি সেঁকি, প্রিয়জনের অশ্রু মুছে দিই, আবার এই হাত দিয়েই আমরা চিঠি লিখি। আজকের প্রথম পাঠে আমরা সাধু পৌলের হাতের এক অদ্ভুত স্পর্শ পাই। তিনি চিঠির শেষে বলছেন, “আমি, পৌল, নিজের হাতে এই শুভেচ্ছা লিখছি। আমার প্রতিটি চিঠিতে এটাই চিহ্ন; আমি এভাবেই লিখি।”

কল্পনা করুন সেই দৃশ্যটি। সাধু পৌল হয়তো কোনো অন্ধকার ঘরে বসে আছেন। তাঁর হাত দুটি মসৃণ নয়। তিনি তাঁবু তৈরির কাজ করতেন। তাঁর হাত ছিল খসখসে, পরিশ্রমে শক্ত হয়ে যাওয়া হাত। সেই পরিশ্রমি হাত দিয়ে তিনি যখন পার্চমেন্টের ওপর কলম চালাচ্ছেন, তখন প্রতিটি অক্ষরে তাঁর হৃদয়ের স্পন্দন অনুভূত হচ্ছে। তিনি কেবল মুখে বড় বড় কথা বলেননি; তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন যাতে কারও ওপর বোঝা না হন। তাঁর হাতের কাজ ছিল তাঁর বিশ্বাসের জীবন্ত প্রমাণ।

আজকের গীতসংহিতায় আমরা শুনি: “তোমরা তোমাদের হাতের পরিশ্রমের ফল ভোগ করবে; তোমরা ধন্য ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।” হাতের পরিশ্রমের ফল—এটি কত সুন্দর একটি ধারণা! ঈশ্বর আমাদের হাত দিয়েছেন কিছু সৃষ্টি করার জন্য, কিছু গড়ে তোলার জন্য।

কিন্তু এর বিপরীতে, আজকের সুসমাচারে প্রভু যীশু ফরীশীদের হাতের কাজের এক ভিন্ন রূপ আমাদের দেখান। ফরীশীরাও হাত ব্যবহার করত। কিন্তু তারা কী তৈরি করত? যীশু বলছেন, “তোমরা ভাববাদীদের সমাধি নির্মাণ করো এবং ধার্মিকদের স্মৃতিসৌধ সাজাও।”

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন। ফরীশীরা যা তৈরি করছে, তা হলো ‘সমাধি’—মৃত মানুষের ঘর। তারা বাইরে থেকে সেগুলোকে চুনকাম করে সুন্দর করে তুলছে, পাথর খোদাই করে সাজিয়ে তুলছে। কিন্তু সেই সুন্দর পাথরের নিচে কী আছে? কেবলই মৃত্যু, কেবলই শূন্যতা ও ক্ষয়। তাদের হাতের কাজ কোনো জীবন সৃষ্টি করে না, তা কেবল অতীতকে সাজিয়ে রাখতে চায় যাতে নিজেদের বর্তমানের ভণ্ডামি ঢেকে রাখা যায়। তারা এমন এক বাহ্যিক ধার্মিকতার প্রদর্শন করছে যার ভেতরে কোনো জীবন্ত হৃদয় নেই।

আজকের এই দুটি বিপরীত চিত্র—একদিকে সাধু পৌলের পরিশ্রমি হাত যা জীবন্ত বিশ্বাস ও সেবায় নিয়োজিত, এবং অন্যদিকে ফরীশীদের হাত যা কেবল মৃতদের সমাধি সাজিয়ে বাহ্যিক প্রশংসা পেতে চায়—আমাদের জীবনের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

আমরা আমাদের হাত দিয়ে কী নির্মাণ করছি?

আমরা কি আমাদের জীবনে এমন কিছু গড়ে তুলছি যা জীবন্ত, যা ভালোবাসায় পূর্ণ? নাকি আমরা কেবল বাইরের খোলসটা সুন্দর রাখছি, আর ভেতরে এক গভীর শূন্যতা বয়ে বেড়াচ্ছি?

আজ এই সত্যটি আমাদের হৃদয়ে আরও বেশি ভারী হয়ে বাজে, কারণ আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি এক গভীর শূন্যতা বুকে নিয়ে।

আজ ২৬শে আগস্ট, ২০২৬। গত ১৩ই জুন আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো, আমাদের আদরের বেন আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আজ প্রায় আড়াই মাস হতে চলল।

আমি জানি, এই আড়াই মাসের সময়টা কত দীর্ঘ এবং একই সাথে কত দ্রুত কেটে গেছে। প্রথম দিকের সেই তীব্র ধাক্কা, মানুষের আনাগোনা, সান্ত্বনার বাণী—সেগুলো হয়তো কিছুটা থিতিয়ে এসেছে। আর এখন নেমে এসেছে এক গভীর, নিস্তব্ধ একাকীত্ব।

সত্যিটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই। শোকের এই পর্যায়ে এসে সান্ত্বনা দেওয়া খুব কঠিন। কারণ, ফাঁকা চেয়ারটি এখনও ওভাবেই পড়ে আছে। বেনের ঘরের সেই কম্পিউটার ডেস্কটি, যেখানে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত, তা আজ নিস্তব্ধ। যে হাতগুলো একসময় কিবোর্ডের ওপর ঝড় তুলত, যে হাতগুলো বাবাকে জড়িয়ে ধরত, সেই হাতগুলো আজ আমাদের চোখের আড়ালে।

প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আপনাদের বুক চিরে যে কান্না আসে, তা আমি জানি। কোনো চুনকাম করা সমাধি বা বাহ্যিক সান্ত্বনার প্রলেপ আপনাদের এই ক্ষতকে ঢাকতে পারবে না। আপনাদের মনে হতে পারে, “আমরা এত পরিশ্রম করলাম, এত প্রার্থনা করলাম, তবে কেন আমাদের এই হাতের পরিশ্রমের ফল এমন হলো? কেন আমাদের প্রিয় সন্তানকে এত অল্প বয়সে চলে যেতে হলো?”

এই প্রশ্নটি যখন মনের ভেতর হাতুড়ির মতো আঘাত করে, তখন চারপাশ অন্ধকার দেখায়।

কিন্তু ঠিক এই অন্ধকারের মাঝেই আজকের প্রথম পাঠের সেই শেষ অংশটি আমাদের কানে ফিসফিস করে বলে: “শান্তির প্রভু স্বয়ং তোমাদের সব সময় এবং সব উপায়ে শান্তি দান করুন।”

সব সময় এবং সব উপায়ে…

এর অর্থ কী? এর অর্থ হলো, যখন আপনারা হাসছেন তখনও তিনি শান্তি দিতে পারেন, আবার যখন আপনারা নিভৃতে চোখের জল ফেলছেন, যখন আপনাদের বুকটা ব্যথায় ফেটে যাচ্ছে, তখনও সেই কান্নার মধ্য দিয়েই তিনি আপনাদের শান্তি দিতে পারেন। এই শান্তি কোনো জাদুকরী উপায়ে দুঃখ দূর করে দেওয়া নয়; এটি হলো ঈশ্বরের সেই নীরব উপস্থিতি যা আমাদের ভাঙা হৃদয়ের টুকরোগুলোকে আলতো করে ধরে রাখে।

আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন—আমাদের বেন—তার জীবনটি কিন্তু কোনো চুনকাম করা সমাধি ছিল না। সে বাইরের দেখানোর জন্য বাঁচেনি। তার ১৫ বছরের জীবন ছিল এক জীবন্ত হাতের কাজের মতো, যা সে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সাথে গড়ে তুলেছিল।

বেন ছিল প্রখর মেধার অধিকারী। সে কেবল স্বপ্ন দেখত না, সে কাজ করত। তার একটি নিজস্ব GitHub রিপোজিটরি ছিল, যেখানে সে নিজে কোডিং করে বিভিন্ন গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করত। সে তার বাবার মতোই AWS এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো জটিল প্রযুক্তিগুলো আয়ত্ত করেছিল। তার সেই ছোট্ট হাতগুলো কিবোর্ডের ওপর যা তৈরি করত, তা ছিল তার সৃজনশীলতার জীবন্ত ফসল। সে ছিল একজন সত্যিকারের নির্মাতা।

কিন্তু তার এই মেধার চেয়েও সুন্দর ছিল তার হৃদয়ের সরলতা। সে বিশ্বাস করত, “চেষ্টা করাই আসল কথা” (trying is all that matters)। সে তার কাজে কোনো ফাঁকি রাখত না। সে যা-ই করত, মন থেকে করত।

আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি। বেন এবং তার ছোট ভাই রায়ান একসাথে শুয়ে আছে। তারা একটি সবুজ পাতা আঁকা আরামদায়ক কম্বলের নিচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। রায়ান শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে, তার ছোট হাতটি কম্বলের কোণটি ধরে আছে, আর বেন তার ঠিক পাশেই পরম শান্তিতে শুয়ে আছে।

এই ছবিটি কী প্রকাশ করে?

এটি প্রকাশ করে এক পরম শান্তি এবং ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন। সারাদিনের খেলাধুলা, পড়াশোনা আর পরিশ্রমের পর দুটি ভাই যখন ওই সবুজ কম্বলের নিচে আশ্রয় নেয়, তখন সেখানে কোনো ভণ্ডামি থাকে না, কোনো বাহ্যিকতার প্রয়োজন হয় না। সেখানে কেবল থাকে এক বিশুদ্ধ, নিঃশব্দ ভালোবাসা।

আজ আমাদের প্রিয় বেন সেই পার্থিব পরিশ্রমের পর স্বর্গের এক পরম শান্তিতে বিশ্রাম নিচ্ছে। সে আজ স্বর্গের সেই চিরন্তন কম্বলের নিচে, প্রভু যীশুর স্নেহময় কোলে সুরক্ষিত। তার হাতের সমস্ত কোডিং, তার সমস্ত চেষ্টা, তার সেই সুন্দর স্বপ্নগুলো আজ ঈশ্বরের কাছে এক অমূল্য উপহার হিসেবে গৃহীত হয়েছে। সে ফরীশীদের মতো কোনো মৃত স্মৃতিস্তম্ভ রেখে যায়নি; সে আমাদের হৃদয়ে রেখে গেছে এক জীবন্ত ভালোবাসার উত্তরাধিকার।

প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আমি জানি আপনাদের হাত দুটি আজ শূন্য অনুভব করছে। যে সন্তানকে আপনারা বুকে ধরে মানুষ করেছেন, তার অনুপস্থিতি প্রতি মুহূর্তে আপনাদের কাঁদায়। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা কোনোদিন হারিয়ে যাবে না। আপনারা তাকে কোনো বাহ্যিক নিয়মের খাঁচায় বন্দি করেননি; আপনারা তাকে ডানা মেলতে শিখিয়েছেন। আপনারা তার সাথে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন, তার শখের বোয়িং ৭৩৭ প্লেন দেখার জন্য এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েছেন। আপনাদের এই মাতাপিতার হাত বেনের জীবনকে এক সুন্দর রূপ দিয়েছে।

মাঝে মাঝে শোকের রাতে এক অদ্ভুত অপরাধবোধ আমাদের গ্রাস করতে চায়। আমরা ভাবতে শুরু করি, “আমি কি আরও একটু ভালো করতে পারতাম? আমি কি কোনো ভুল করেছি?”

আজ যীশুর সেই পরম সত্যটি আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। যীশু যখন অন্ধ লোকটিকে দেখেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “কারও পাপের জন্য এমন হয়নি।” আপনাদের আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই: বেনের এই চলে যাওয়া কোনো ভুল বা অবহেলার শাস্তি নয়। এটি এমন এক দুঃখ যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আপনারা বেনের জন্য যা করেছেন, তা ছিল নিখুঁত। আপনাদের ভালোবাসা ছিল অসীম। নিজেদের ওপর এই অপরাধবোধের পাথর আর বয়ে বেড়াবেন না। ঈশ্বর আপনাদের অন্তরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখেছেন এবং তিনি আপনাদের এই ক্ষতকে নিরাময় করতে চান।

রায়ান, আমার স্নেহের ছোট ভাই—আজ আমি তোমার দিকে তাকিয়ে বলছি। তোমার বড় ভাই বেন তোমাকে কতটা ভালোবাসত, তা তুমি জানো। সেই সবুজ কম্বলের নিচে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, সেই একসাথে হাসাহাসি করা—সেগুলো কোনোদিন মুছে যাবে না। তোমার দাদা আজ স্বর্গের গ্যালারি থেকে তোমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। সে চায় তুমি যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বেনের মতোই চেষ্টা করে যাও। তুমি তোমার বাবা-মায়ের পাশে এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াও। তোমার প্রতিটি হাসিতে, তোমার প্রতিটি সাফল্যে বেনের স্মৃতি জীবন্ত থাকবে।

আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যে পিতা-মাতারা অসুস্থ সন্তানের পাশে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন, যে পরিবারগুলো দুঃখের ভারী ক্রুশ বহন করছেন—আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের দেখছেন। তিনি আপনাদের হাতের প্রতিটি অশ্রুভেজা কাজ চেনেন। তিনি আপনাদের বাহ্যিক শক্তি দেখেন না; তিনি দেখেন আপনাদের অন্তরের গভীর ভালোবাসা।

আসুন, আজকের এই পবিত্র লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট কিন্তু গভীর সত্য আমাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরি।

আজ আমরা যেন ফরীশীদের মতো কেবল বাইরের ‘চুনকাম করা সমাধি’ বা বাহ্যিক ধার্মিকতা নিয়ে ব্যস্ত না থাকি। আসুন, আমরা আমাদের হাত দুটিকে সাধু পৌলের মতো এবং আমাদের প্রিয় বেনের মতো জীবন্ত ভালোবাসার কাজে নিয়োজিত করি।

আজ যখন আপনারা বাড়ি ফিরবেন, আপনাদের হাত দিয়ে একটি ছোট ভালোবাসার কাজ করুন। হতে পারে তা প্রিয়জনকে একটি শক্ত আলিঙ্গন দেওয়া, কাউকে একটি সান্ত্বনার চিঠি লেখা, বা কেবল নীরব প্রার্থনায় কারও হাত ধরে রাখা। আমাদের হাতের কাজ যেন জীবন সৃষ্টি করে, মৃত্যু নয়।

ভিয়েতনামের সিয়া মাউ-তে বেনের নামে উৎসর্গীকৃত সেই ‘ভালোবাসার কূপ’ (Giếng Gioan Baotixita) থেকে যেভাবে আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জীবনদায়ী জল বয়ে চলেছে—তেমনি আমাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়।

প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরম শান্তি আপনাদের গৃহ ও হৃদয়কে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া তাঁর মাতৃত্বের আঁচল দিয়ে আপনাদের সমস্ত ক্ষত ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয়, সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে প্রভুর সান্নিধ্যে শান্তিতে বিশ্রাম করুক।

আমেন।

ধ্যান
♪ “করুণার নদী (Version A: Nhạc Thánh Ca)” — A song for Ben
সার্বজনীন প্রার্থনা

For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:

“দয়া করে William-এর জন্য প্রার্থনা করিস। তাকে এত বেশি মনে করার কষ্ট কাটিয়ে উঠতে দয়া করে তার মাকে সাহায্য করিস।” — Dianna Maria
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“এই যে Ben, Ryan তোকে খুব মিস করছে আর চাইছে তুই ওর সাথে গেম খেলার জন্য এখানে থাকতিস। দয়া করে আত্মিক দিক থেকে ওর খেয়াল রাখিস আর জীবনের পথে ওকে পরিচালিত করিস। ওকে শক্ত থাকতে আর ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করিস। দয়া করে বাড়ি ফিরে একবার হাই বলে যা।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“দয়া করে Debora-র জন্য প্রার্থনা করিস, সে দুই সপ্তাহ আগে তার স্বামী Steve-কে ছেড়ে চলে গেছে। তার স্বামী ভীষণ কষ্টে আছে এবং ঘুমাতে পারছে না।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“Ben, দয়া করে Maria Nguyen Thi Thu Hang-এর জন্য প্রার্থনা করিস—তার আত্মা যেন শান্তিতে থাকে। তার স্বামী, anh Vinh, তাকে ভীষণ মিস করছে এবং স্বপ্নে তাকে দেখতে চায়। দয়া করে তার জন্যও প্রার্থনা করিস যেন সে সামনে এগিয়ে চলার শক্তি পায়, যাতে সে তাদের তিন ছেলের যত্ন নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“এই যে Benjamin, বাবা বলছি। দয়া করে এই শোকের মাঝে আমাদের পরিবারকে সাহায্য করিস। আমাদের রক্ষা করতে সাহায্য করিস। হাসপাতালে এখন যেসব শিশুরা কষ্টে আছে, দয়া করে তাদের সবাইকে সাহায্য করিস। তারা যেন স্বস্তি পায়। বাবা-মাদের যে ভাঙা হৃদয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা জুড়িয়ে দিতে সাহায্য করিস। তোর মা আর আমি এখন যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা একেবারেই বুকভাঙা। আমাদের পরিবারের ওপর নজর রাখিস। তোকে আমাদের হৃদয়ে রেখে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাস।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“Ben, আমাকে হাই স্কুল পার করতে হবে, পুরো সবগুলো বছর, আর Grace-এ litany’s domain-কে হারাতে হবে। lax-এ 777x-এর প্রথম আগমন আর overture-এর প্রথম উড়ান দেখার জন্য তুই হয়তো সশরীরে নেই, কিন্তু তুই আকাশের আরও উঁচুতে উড়ে চলিস।” — Ryan Vo
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“Ben - তোকে খুব মনে পড়ছে। তোর যতবার ইচ্ছে হয় আসিস, দেখা দিস। আমাদের এত কষ্ট ছাড়া বেঁচে থাকার শক্তি দিস, আমার ছেলে। আমাদের জন্য প্রার্থনা করিস।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“হে প্রভু, দয়া করে আমার ছোট ভাইয়ের আত্মাকে আপনার কাছে গ্রহণ করুন। তাকে ক্ষমা করুন এবং স্বর্গরাজ্যে শান্তিতে বিশ্রাম দিন। আমাদের পরিবারকে শান্তি দিন এবং আমাকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন। আমি তাকে আপনার হাতেই সমর্পণ করছি, প্রভু।” — Anh huy
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।

🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →

প্রভুর প্রার্থনা

মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:

স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।

আধ্যাত্মিক পরমপ্রসাদ গ্রহণ
হে আমার যীশু, আমি বিশ্বাস করি যে আপনি পরমপবিত্র সংস্কারে সত্যই উপস্থিত আছেন। আমি আপনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসছি এবং আমার আত্মায় আপনাকে গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষা করছি। যেহেতু আমি এই মুহূর্তে আপনাকে সাক্রামেন্তীয়ভাবে গ্রহণ করতে পারছি না, তাই অন্তত আধ্যাত্মিকভাবে আমার হৃদয়ে আসুন। আপনি ইতিমধ্যেই এসেছেন মনে করে আমি আপনাকে আলিঙ্গন করছি এবং নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আপনার সাথে যুক্ত করছি। আমাকে কখনই আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবেন না। আমেন।
কমিউনিয়ন সঙ্গীত
♪ “অবিচল পথে (Version B)” — A song for Ben
সমাপনী আশীর্বাদ

প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।

✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।

সমাপনী সঙ্গীত
♪ “আশীর্বাদে পথ চলা (Version B)” — A song for Ben
পূর্ববর্তী দিনগুলি
Questions or comments? [email protected]