পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমিন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, তুমিই আমাদের শান্তি, আমাদের প্রতি দয়া করো। হে খ্রীষ্ট, তুমিই আমাদের পরিত্রাতা, আমাদের প্রতি দয়া করো। হে প্রভু, তুমিই আমাদের আশা, আমাদের প্রতি দয়া করো।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা ধন্য কুমারী মারীয়ার জন্মোৎসব পালন করছি, তখন আমার চোখের সামনে একটি ছবি ভেসে উঠছে। এটি কোনো বিশাল কোনো উৎসবের ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট শৈশবের একটি মুহূর্ত। বেন তার প্রিয় খেলনা বিমানের দিকে তাকিয়ে আছে, তার চোখে সেই অদ্ভুত কৌতূহল—ঠিক যেন সে কোনো এক অজানা গন্তব্যের মানচিত্র খুঁজে পাচ্ছে। সেই শান্ত দৃষ্টি, সেই স্থিরতা, আর তার সেই মৃদু হাসি—যা আজও আপনাদের হৃদয়ের কোণে লেগে আছে। আপনারা যারা আজ এখানে সমবেত হয়েছেন, আপনারা জানেন যে শোকের এই পথটি কতটা বন্ধুর। কিন্তু মারীয়ার জন্মের এই দিনে, ঈশ্বর আমাদের একটি নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
মিখা নবীর সেই কথাগুলো মনে করুন: “তুমি বেথলেহেম-এফ্রাতা... তোমার মধ্য থেকেই আমার জন্য একজন বেরিয়ে আসবেন, যিনি ইস্রায়েলের শাসক হবেন।” বেথলেহেম ছিল ছোট, ক্ষুদ্র, কিন্তু ঈশ্বর সেখান থেকেই তাঁর পরিত্রাণের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন। অনেক সময় আমরা মনে করি, আমাদের জীবন বা আমাদের শোক—এই ক্ষুদ্রতা—কি কোনো অর্থ বহন করে? কেন বেনকে এত তাড়াতাড়ি যেতে হলো? কেন এই ছোট জীবনটি এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল? কিন্তু দেখুন, ঈশ্বরের পরিকল্পনা আমাদের হিসাবের চেয়ে অনেক বড়। মারীয়ার জন্ম যেমন এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল, তেমনি বেনের জীবনও আপনাদের পরিবারে এক পবিত্র আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল।
আমি জানি অ্যালান এবং থাও, আপনারা এই দুই মাস ধরে কতটা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নীরব ঘর—এগুলো আপনাদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। আপনারা কি মাঝে মাঝে ভাবেন, কেন এই পরীক্ষা? কেন এই দুঃখ? মানুষ যখন শোকের ভারে নুয়ে পড়ে, তখন সে অনেক সময় নিজেকেই দোষারোপ করতে চায়। “আমরা কি আরও কিছু করতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?” কিন্তু আজ যীশু আপনাদের সেই অপরাধবোধের পাথরটি নামিয়ে রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। যীশু যখন সেই অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, অসুস্থতা বা মৃত্যু কোনো পাপের ফল নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, তিনি কখনো আপনাদের ভালোবাসাকে অভিযুক্ত করেন না। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা সারা বিশ্বজুড়ে তার সাথে ঘুরেছে, তার ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে ডানা দিয়েছে।
বেনের জীবনের কথা ভাবুন। সে ছিল এক উজ্জ্বল মেধা, এক শান্ত হৃদয়। সে যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তখন সে আসলে সেই প্রেমেরই এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে তার সঞ্চয় নিয়ে কোনো বড়াই করেনি। সে কেবল তার বাবা-মাকে বলেছিল সে সাহায্য করতে চায়। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতার পরিচয়। সে কোনো হিসাব করেনি, সে কেবল ভালোবাসতে চেয়েছিল। সেই উদারতা ছিল এক নতুন খামির, যা তার জীবনকে পবিত্র করেছিল। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, তার সেই গিগার, তার সেই হাসি—এগুলো কি হারিয়ে গেছে? না, এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত।
আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি বংশতালিকার সেই দীর্ঘ তালিকা। সেখানে রাজা আছে, পাপী আছে, সাধারণ মানুষ আছে। যীশু সেই মানব ইতিহাসের অংশ হয়ে এসেছেন। মারীয়া সেই ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেনের জীবনও সেই ইতিহাসের অংশ। সে এখন স্বর্গের সেই ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো অশ্রু নেই, কোনো রোগ নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, “বাবা, মা, আমি ভালো আছি।” তার সেই হাসিটি আজ আপনাদের হৃদয়ে অনুভব করুন। রায়য়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় আপনারা একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে ভিয়েতনামের সিয়া মাউ অঞ্চলে যে ‘ভালোবাসার কূপ’ খনন করা হয়েছে, সেখান থেকে যেমন তৃষ্ণার্ত মানুষ জল পাচ্ছে, তেমনি আপনাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল অশুভ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমিন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।