পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বর পিতার প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সহবর্তী হোক। আজ এই পবিত্র উপাসনায় আপনাদের সবাইকে সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানাই।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি dয়া করো। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
একটি মাটির প্রদীপের কথা ভাবুন। ছোট, সাধারণ একটি মাটির পাত্র। তার ভেতরে রয়েছে সামান্য কিছু তেল আর একটি সুতোর সলতে। যখন সেই সলতেতে আগুন জ্বালানো হয়, তখন তা থেকে একটি সুন্দর, মৃদু আলো চারপাশের অন্ধকারকে তাড়িয়ে দেয়। আমরা যখন সেই প্রদীপের দিকে তাকাই, আমাদের চোখ যায় কার ওপরে? সেই উজ্জ্বল শিখাটির ওপরে, তাই না? আমরা শিখাটির সৌন্দর্য দেখি, তার আলোয় আনন্দ পাই। কিন্তু আমরা খুব কম সময়ই সেই তেলের কথা ভাবি, যা প্রদীপের নিচে, মাটির পাত্রটির গভীরে লুকিয়ে আছে। সেই তেলটি কিন্তু নিজেকে দেখায় না। সে নীরবে, নিঃশব্দে ক্ষয় হতে থাকে যাতে শিখাটি জ্বলতে পারে। তেল ছাড়া শিখাটি কেবল এক মুহূর্তের জন্য জ্বলে উঠেই নিভে যাবে। তেল হলো সেই অদৃশ্য শক্তি, যা আলোটিকে বাঁচিয়ে রাখে।
আজকের সুসমাচারে প্রভু যীশু আমাদের এই তেলের কথাই বলছেন। তিনি আমাদের দশজন কুমারীর গল্প শোনাচ্ছেন, যারা বরের অপেক্ষায় প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। পাঁচজন ছিল মূর্খ আর পাঁচজন ছিল বুদ্ধিমতী। তাদের মধ্যকার মূল পার্থক্যটি কিন্তু প্রদীপের সৌন্দর্যে ছিল না। সবার হাতেই প্রদীপ ছিল, সবাই বরের অপেক্ষায় ছিল, এমনকি বরের আসতে দেরি হওয়ায় তারা সবাই ঘুমিয়েও পড়েছিল। পার্থক্যটি ছিল একটি গোপন জায়গায়—পাত্রের ভেতরের তেলের মধ্যে। বুদ্ধিমতীদের কাছে অতিরিক্ত তেল ছিল, আর মূর্খদের কাছে তা ছিল না।
এই তেল কী? এই তেল হলো আমাদের অন্তরের সেই অদৃশ্য বিশ্বাস, আমাদের নীরব প্রার্থনা, আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালোবাসার কাজ, যা আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে করে থাকি। এটি এমন কিছু নয় যা আমরা শেষ মুহূর্তে কারও কাছ থেকে ধার করতে পারি। এটি এমন কিছু নয় যা হঠাৎ করে বাজার থেকে কিনে আনা যায়। এটি হলো আমাদের জীবনের সেই গভীর আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি, যা আমরা প্রতিদিনের বিশ্বস্ততার মধ্য দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে আমাদের হৃদয়ের পাত্রে জমা করি।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল করিন্থীয়দের লিখছেন: "যারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাছে ক্রুশের বার্তাটি মূর্খতা, কিন্তু আমাদের কাছে যারা পরিত্রাণ পাচ্ছি, তা ঈশ্বরের শক্তি।" এই জগতের মানুষের কাছে ক্রুশ হলো এক চরম ব্যর্থতা, এক দুর্বলতা, এক মূর্খতা। কিন্তু ঈশ্বরের প্রজ্ঞায়, সেই ক্রুশই হলো আমাদের পরিত্রাণের পথ। এই জগতের প্রজ্ঞা আর ঈশ্বরের প্রজ্ঞার মধ্যে যে তফাত, তা আজ আমরা সাধু অগাস্টিনের স্মৃতিোৎসবে বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
সাধু অগাস্টিন ছিলেন এই জগতের প্রজ্ঞায় অত্যন্ত ধনী। তিনি ছিলেন একজন মহান বাগ্মী, একজন দার্শনিক, যিনি সত্যের সন্ধানে সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন মানুষের বুদ্ধি আর দর্শন দিয়েই তিনি জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। কিন্তু তাঁর মন শান্ত ছিল না। তিনি তাঁর বিখ্যাত স্বীকারোক্তিতে লিখেছেন: "হে ঈশ্বর, তুমি আমাদের তোমার নিজের জন্যই সৃষ্টি করেছ, আর আমাদের হৃদয় ততদিন শান্ত হবে না, যতদিন না তা তোমার মধ্যে বিশ্রাম পায়।" অগাস্টিন শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিলেন যে, মানুষের সমস্ত জ্ঞান আর প্রজ্ঞা ঈশ্বরের ভালোবাসার তেলের কাছে কিছুই নয়। তাঁর মা, সাধু মোনিকার অশ্রুসজল প্রার্থনা এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাঁর হৃদয়ের পাত্রটিকে বিশ্বাসের তেলে পূর্ণ করে দিয়েছিল।
আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা সাধু অগাস্টিনের এই সুন্দর রূপান্তরের কথা স্মরণ করছি, তখন আমাদের হৃদয় এক গভীর নীরবতায় ছেয়ে যায়।
আজ আগস্টের শেষভাগ, ২০২৬ সাল। গত ১৩ই জুন আমাদের আদরের বেঞ্জামিন ভো, আমাদের সবার প্রিয় বেন, আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আজ প্রায় আড়াই মাস হতে চলল।
আমি জানি, এই আড়াই মাসের প্রতিটি দিন আপনাদের জন্য কতটা দীর্ঘ ছিল। শোকের প্রথম দিকের সেই কোলাহল, মানুষের সান্ত্বনার ভিড় এখন হয়তো অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। আর এখন নেমে এসেছে সেই আসল নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতা, যা বেনের শূন্য ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। সেই নিস্তব্ধতা, যা বেনের পড়ার টেবিল, তার কিবোর্ড, আর তার সেই প্রিয় জিনিসগুলোর ওপর ধুলোর মতো জমে থাকে।
সত্যিটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই। এই সময়ে এসে সান্ত্বনা দেওয়া খুব কঠিন। কারণ, ফাঁকা চেয়ারটি এখনও ওভাবেই পড়ে আছে। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও — আপনাদের বুক চিরে যে কান্না আসে, তা কোনো সাধারণ কথায় মুছে ফেলা যায় না। আপনাদের মনে হতে পারে, এই আড়াই মাস ধরে আপনারা এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর রাতের প্রহরার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে মধ্যরাতের অন্ধকার যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। আজকের সুসমাচারের সেই কুমারীদের মতো, বরের আসতে দেরি হওয়ায় আপনাদের হৃদয়ও হয়তো ক্লান্তিতে, যন্ত্রণায় ভেঙে পড়তে চাইছে।
কিন্তু ঠিক এই অন্ধকারের মাঝেই আজকের সুসমাচার আমাদের এক পরম আশ্বাসের বাণী শোনায়। মধ্যরাতে যখন চিৎকার শোনা গেল, "ঐ দেখো, বর আসছে!" তখন কিন্তু সমস্ত কুমারী জেগে উঠেছিল। আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন—আমাদের বেন—তার প্রদীপটি কিন্তু নিভে যায়নি। সে তার জীবনের পাত্রে বিশ্বাসের তেল নিয়ে প্রস্তুত ছিল।
আসুন, আজ আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিনের জীবনের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে জাগিয়ে তুলি। বেনের বাবা অ্যালান, গত ২৩শে জুলাই, ২০২৬ তারিখে একটি অপূর্ব স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নে তিনি এবং বেন একসাথে একটি আইসক্রিমের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা আইসক্রিম কিনতে যাচ্ছিলেন। আর সেই লাইনে দাঁড়িয়ে, আমাদের ছোট্ট বেন নিজে আইসক্রিমের দাম পরিশোধ করেছিল।
এই স্বপ্নটি কি কেবলই একটি সাধারণ স্বপ্ন? না। এটি একটি স্বর্গীয় ইশারা। এই স্বপ্নে আমরা দেখতে পাই বেনের সেই প্রস্তুতি, তার সেই স্বাধীনতা এবং তার অন্তরের গভীর ভালোবাসা। সে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পকেট থেকে দাম মিটিয়ে দিচ্ছে—এর অর্থ হলো, সে প্রস্তুত ছিল। সে তার নিজের প্রদীপের তেল নিজেই জোগাড় করে রেখেছিল। সে তার ১৫ বছরের ছোট জীবনে ঈশ্বরের দেওয়া প্রতিটি মুহূর্তকে ভালোবাসায় পূর্ণ করে তুলেছিল। সে কোনো অভাব নিয়ে, কোনো শূন্যতা নিয়ে চলে যায়নি; সে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে, নিজের প্রদীপটি জ্বালিয়ে প্রবেশ করেছে।
বেন ছিল প্রখর মেধার অধিকারী, এক অসাধারণ কিশোর। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সে AI, DevOps, আর ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো জটিল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। সে তার বাবার মতোই অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিল। কিন্তু তার এই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার চেয়েও যা আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো তার অন্তরের গভীর সরলতা এবং দয়া।
তার সেই ১৫ বছরের জীবনে সে যা কিছু করেছে, তা ছিল তার হৃদয়ের পাত্রে তেলের মতো জমা হওয়া এক একটি ভালোবাসার ফোঁটা। সে যখন তার বাবার সাথে বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে বোয়িং ৭৩৭ বিমানের উড্ডয়ন দেখত, যখন সে তার ছোট ভাই রায়ানের সাথে হাসাহাসি করত, যখন সে তার পরিবারের সাথে বিশ্বভ্রমণে বের হতো—সে প্রতিটি মুহূর্তে তার ভালোবাসার প্রদীপটিকে প্রস্তুত রাখছিল। সে তার প্রজ্ঞা দিয়ে নয়, বরং তার সরল বিশ্বাস দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবেসেছিল।
মাঝে মাঝে এই ধরনের গভীর শোকের রাতে, পিতা-মাতার মনে এক অদ্ভুত এবং ভারী পাথর চেপে বসে। মনের অলক্ষে এক নীরব অপরাধবোধ আমাদের গ্রাস করতে চায়। আমরা ভাবতে শুরু করি, "আমি কি আরও একটু ভালো করতে পারতাম? আমি কি কোনো লক্ষণ মিস করেছি? কেন আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না?"
আজ যীশুর সেই পরম সত্যটি আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। যীশু যখন সেই জন্মঅন্ধ লোকটিকে দেখেছিলেন, শিষ্যরা জিজ্ঞেস করেছিল, "কার পাপের জন্য এমন হলো?" যীশু স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "কারো পাপের জন্য নয়, বরং ওর জীবনে ঈশ্বরের কাজ যেন প্রকাশিত হয়, এই জন্যই এমন হয়েছে।"
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও — বেনের এই চলে যাওয়া কোনো অবহেলা বা ভুলের শাস্তি নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ বা মৃত্যু পাঠান না। এই পৃথিবীতে কিছু দুঃখ সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আসে। আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। আপনারা তার সাথে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন, তার শখের বোয়িং ৭৩৭ প্লেন দেখার জন্য এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েছেন, তার স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনাদের ভালোবাসা ছিল নিখুঁত। আজ সেই অপরাধবোধের পাথর হৃদয় থেকে ফেলে দিন। ঈশ্বর আপনাদের অন্তরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখেছেন। আপনারা বেনের জীবনের প্রদীপে যে তেলের জোগান দিয়েছিলেন, তা ছিল আপনাদের মাতাপিতার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আজকের প্রথম পাঠে আমরা শুনি: "ঈশ্বরের মূর্খতা মানুষের প্রজ্ঞা অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী, এবং ঈশ্বরের দুর্বলতা মানুষের শক্তি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।" মানুষের চোখে বেনের এই ১৫ বছর বয়সে চলে যাওয়াটা হয়তো এক অসমাপ্ত গল্প, এক বড় শূন্যতা। কিন্তু ঈশ্বরের প্রজ্ঞায়, বেনের জীবনটি ছিল সম্পূর্ণ। সে তার প্রদীপটি জ্বালিয়ে বরের সাথে সেই চিরন্তন বিয়ের ভোজসভায় প্রবেশ করেছে। সে আজ স্বর্গের সেই পরম শান্তিতে, সাধু কার্লো আকুত্তিস এবং সাধু অগাস্টিনের সাথে প্রভুর সান্নিধ্যে আনন্দ করছে। সে আজ আর কোনো কষ্টের মধ্যে নেই, কোনো সীমানার মধ্যে আটকে নেই। সে আজ মুক্ত।
রায়য়ান, আমার স্নেহের ছোট ভাই — তোমার দাদা বেন তোমাকে কতটা ভালোবাসত, তা তুমি জানো। তোমরা একসাথে কত খেলেছ, কত সুন্দর সময় কাটিয়েছ। আজ তোমার দাদা শারীরিকভাবে তোমার পাশে নেই, কিন্তু তার সেই লড়াকু মনোভাব — "চেষ্টা করাই আসল কথা" — তা সে তোমার হৃদয়ে রেখে গেছে। তুমি তোমার বাবা-মায়ের পাশে এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াও। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো, খেলাধুলা করো। তোমার প্রতিটি হাসিতে, তোমার প্রতিটি সাফল্যে বেনের প্রদীপের আলো জীবন্ত থাকবে।
আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন — বিশেষ করে যে পরিবারগুলো কোনো অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন, যারা কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে গভীর শোকের ক্রুশ বহন করছেন — আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের দেখছেন। তিনি আপনাদের রাতের সেই নীরব অশ্রু চেনেন। তিনি আপনাদের হৃদয়ের পাত্রটিকে তাঁর অনুগ্রহের তেলে পূর্ণ করতে চান।
আসুন, আজকের এই পবিত্র লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট কিন্তু গভীর সত্য আমাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরি।
আমাদের জীবনের প্রদীপটিকে যেন আমরা সবসময় প্রস্তুত রাখি। প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রার্থনায়, একে অপরকে ক্ষমা করার মধ্য দিয়ে, এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাজের মধ্য দিয়ে আমরা যেন আমাদের হৃদয়ের পাত্রে বিশ্বাসের তেল জমা করি। আজ যখন আপনারা বাড়ি ফিরবেন, আপনাদের পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকান। তাদের ভালোবাসুন, তাদের সময় দিন। বেনের মতো এক কোমল ও সহানুভূতিশীল হৃদয় নিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ান।
ভিয়েতনামের সিয়া মাউ-তে বেনের নামে উৎসর্গীকৃত সেই 'ভালোবাসার কূপ' (Giếng Gioan Baotixita) থেকে যেভাবে আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জীবনদায়ী জল বয়ে চলেছে — তেমনি আমাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরম শান্তি আপনাদের গৃহ ও হৃদয়কে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া তাঁর মাতৃত্বের আঁচল দিয়ে আপনাদের সমস্ত ক্ষত ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয়, সাধু অগাস্টিন ও সাধু কার্লোর সাথে প্রভুর সান্নিধ্যে শান্তিতে বিশ্রাম করুক।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের হৃদয়ে শান্তি দান করুন। আমাদের এই উপাসনা সমাপ্ত হলো, আপনারা প্রভুর শান্তিতে গমন করুন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।