আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বর পিতার প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সহবর্তী হোক। আজ আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো-এর স্বর্গারোহণের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার এই সময়ে প্রভুর চরণে আমাদের হৃদয় উৎসর্গ করতে সমবেত হয়েছি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো, কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আমাদের তোমার করুণা প্রদর্শন করো, এবং আমাদের পরিত্রাণ দান করো।
একটি প্রাচীন উপাসনালয়ের শান্ত পরিবেশের কথা কল্পনা করুন …
সেখানে বাতাসের মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। আলো-ছায়ার খেলায় ধূলিকণাগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একজন তরুণ শিক্ষক। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি চামড়ার স্ক্রোল বা লিপিপত্র। তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে, ধীরস্থিরভাবে সেই স্ক্রোলটি আনরোল বা উন্মোচন করছেন। স্ক্রোলের প্রতিটি ভাঁজ খোলার সাথে সাথে একটি প্রাচীন সুবাস ঘরটিতে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখছেন হিব্রু হরফগুলো। তারপর তিনি পড়লেন। পড়ার পর, তিনি যা করলেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: তিনি স্ক্রোলটি আবার গুটিয়ে নিলেন।
এই স্ক্রোলটি গুটিয়ে নেওয়ার একটি মৃদু শব্দ আছে। এটি একটি সমাপ্তির শব্দ, একটি অধ্যায় বন্ধ হওয়ার শব্দ। কিন্তু যীশু যখন সেই স্ক্রোলটি গুটিয়ে পরিচারকের হাতে দিলেন, তখন উপাসনালয়ের সবার চোখ তাঁর ওপর নিবদ্ধ ছিল। তারা সবাই স্তব্ধ হয়ে অপেক্ষা করছিল। যীশু তখন বললেন, “আজ আপনাদের শোনার মধ্য দিয়েই এই শাস্ত্রবাণী পূর্ণ হলো।”
আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা আমাদের আদরের বেজ্জামান ভো—আমাদের প্রিয় বেন—এর চলে যাওয়ার দুই মাস পূর্ণ করছি, তখন এই স্ক্রোল বা লিপিপত্রের চিত্রটি আমাদের হৃদয়ের গভীরে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমাদের মনে হয়, বেনের জীবনের স্ক্রোলটি কত দ্রুত উন্মোচিত হয়েছিল, এবং কত তাড়াতাড়ি, মাত্র পনেরো বছর বয়সে, তা আবার গুটিয়ে নেওয়া হলো। আমরা যারা তাকে ভালোবাসতাম, আমরা যারা তার পাশে ছিলাম, আমাদের মনে হয় সেই স্ক্রোলের আরও অনেক অধ্যায় পড়া বাকি ছিল। তার প্রজ্ঞা, তার স্বপ্ন, তার সেই মিষ্টি হাসি—সবকিছু যেন এক ঝড়ের বেগে আমাদের চোখের সামনে থেকে গুটিয়ে নেওয়া হলো।
চলুন, আজ আমরা কোনো কৃত্রিম সান্ত্বনার আশ্রয় না নিয়ে সত্যিটার মুখোমুখি দাঁড়াই। আজ দুই মাস পূর্ণ হলো। গত ১৩ই জুন যখন বেন আমাদের ছেড়ে চলে গেল, সেই প্রথম দিনগুলোর তীব্র হাহাকার আর মানুষের ভিড় এখন হয়তো কিছুটা শান্ত হয়েছে। কিন্তু এখন নেমে এসেছে সেই আসল, ভারী নীরবতা। এই নীরবতা বড় কঠিন। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আপনাদের ঘরের সেই ফাঁকা চেয়ারটি এখনও ওভাবেই পড়ে আছে। বেনের ঘরের পড়ার টেবিল, তার কিবোর্ড, তার সেই প্রিয় কোডিংয়ের খাতাগুলো আজ নিঃশব্দে পড়ে আছে। প্রতিদিন সকালে যখন আপনারা ঘুম থেকে ওঠেন এবং অনুভব করেন যে বেনের সেই চেনা কণ্ঠস্বর আর শোনা যাবে না, তখন বুকটা চিরে কান্না আসে। এই দুই মাস কেটে গেলেও সেই শূন্যতা একটুও কমেনি, বরং তা আরও গভীর হয়েছে।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল করিন্থীয়দের যা লিখছেন, তা আমাদের এই দুর্বলতা ও কান্নার সাথে হুবহু মিলে যায়। পৌল বলছেন, “আমি আপনাদের কাছে এসেছিলাম দুর্বলতা, ভয় এবং অত্যন্ত কাঁপুনির মধ্য দিয়ে।” সাধু পৌল কোনো মহান বক্তা হিসেবে বা মানুষের চতুর প্রজ্ঞা নিয়ে যাননি। তিনি গিয়েছিলেন ক্রুশবিদ্ধ খ্রীষ্টের সেই আপাত দুর্বলতাকে সম্বল করে। আজ এই বেদনার বেদীতে দাঁড়িয়ে আমাদেরও কোনো চতুর শব্দ নেই, কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই যা আপনাদের এই বুকফাটা কষ্টকে এক মুহূর্তে দূর করে দিতে পারে। মানুষের সমস্ত প্রজ্ঞা এখানে এসে থমকে দাঁড়ায়। আমরাও আজ এখানে দাঁড়িয়েছি দুর্বলতা, ভয় আর অত্যন্ত কাঁপুনির মধ্য দিয়ে।
কিন্তু ঠিক এই দুর্বলতার মাঝেই ঈশ্বরের শক্তি কাজ করে। যীশু যখন নাসরতের উপাসনালয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁর নিজের শহরের মানুষ তাঁকে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা বলেছিল, “এ কি যোষেফের পুত্র নয়?” তারা যীশুর ঐশ্বরিক পরিচয় দেখতে পায়নি, কারণ তারা মানুষের চতুর প্রজ্ঞা দিয়ে তাঁকে বিচার করছিল। তারা চেয়েছিল যীশু যেন তাদের চোখের সামনে কোনো অলৌকিক জাদু দেখান। কিন্তু যীশু তাদের মনে করিয়ে দিলেন যে, ঈশ্বরের কাজ মানুষের হিসাবের বাইরে ঘটে। এলিয় বা ইলীশায়ের সময়ে অনেকেই ছিল, কিন্তু ঈশ্বর তাঁর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এক বিদেশী বিধবা এবং এক বিদেশী কুষ্ঠরোগীর জীবনে। মানুষের প্রজ্ঞা যাকে ব্যর্থতা বলে, ঈশ্বরের প্রজ্ঞা সেখানে তাঁর মহিমা প্রকাশ করে।
আসুন, আজ আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিনের জীবনের একটি সুন্দর চিত্রের দিকে তাকাই। আমার চোখের সামনে বেনের একটি চেনা ছবি ভেসে উঠছে। একটি উজ্জ্বল গ্রীষ্মের বিকেল। পার্কের একটি সরু পিচঢালা পথ। নয় বছরের একটি ছেলে, মাথায় তার কালো রঙের বেল (Bell) হেলমেট পরা। মুখে তার এক অদ্ভুত নিবিড় মনোযোগ আর মিষ্টি হাসি। সে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তার হোভারবোর্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আর একই সাথে দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রেখেছে একটি স্কুটারের হ্যান্ডেলবার। সে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সে পড়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে না। তার সেই ছোট দুটি পায়ে সে এক অদ্ভুত স্থৈর্য আর সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এই ছবিটিই ছিল বেনের জীবনের এক নিখুঁত প্রতীক। সে ছিল ভারসাম্য এবং দৃঢ়তার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। তার ছিল এক প্রখর, তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণধর্মী মন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সে AI, DevOps, আর AWS ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো জটিল প্রযুক্তি নিয়ে তার বাবার সাথে সমানে আলোচনা করত। সে তার নিজের গিটহাব (GitHub) রিপোজিটরিতে গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন কোড করত। কিন্তু এই অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি তার অন্য হাতটি ধরে রেখেছিল এক গভীর সরলতা, নম্রতা এবং কোমল হৃদয়ের হ্যান্ডেলবার। সে তার মেধা নিয়ে কখনো অহংকার করেনি। সে ছিল অত্যন্ত বিনয়ী, তার পিতা-মাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সে তার অসাধারণ মেধার ভারসাম্য বজায় রেখেছিল তার অন্তরের সেই নিষ্পাপ ভালোবাসা দিয়ে।
বেনের একটি সুন্দর জীবনদর্শন ছিল যা সে তার প্রতিটি কাজে প্রমাণ করে গেছে: “চেষ্টা করাই আসল কথা” (Trying is all that matters)। সে কখনো ব্যর্থতাকে ভয় পায়নি। সে ব্যাডমিন্টন কোর্টে বা বাস্কেটবল ট্রাইআউটে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করত। সে তার সোয়েটশার্টটি পরে যখন কোর্টে নামত, তখন তার লক্ষ্য থাকত কেবল নিজের সেরাটা দেওয়া। আজ বেনের এই দর্শন আমাদের সকলের জন্য এক মহান শিক্ষা। জীবন আমাদের কাছে কী দাবি করে? জীবন আমাদের কাছে নিখুঁত সাফল্য দাবি করে না, বরং ভালোবাসার সাথে চেষ্টা করার দাবি রাখে। বেন তার পনেরো বছরের জীবনে সেই চেষ্টাই করে গেছে।
মাঝে মাঝে এই ধরনের গভীর শোকের রাতে, পিতা-মাতার মনে এক অদ্ভুত এবং ভারী পাথর চেপে বসে। মনের অলক্ষে এক নীরব অপরাধবোধ আপনাদের গ্রাস করতে চায়। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আপনারা হয়তো নিঝুম রাতে একা বসে ভাবতে থাকেন, “আমরা কি আরও একটু ভালো করতে পারতাম? আমরা কি কোনো লক্ষণ মিস করেছি? কেন আমরা আমাদের সন্তানকে ধরে রাখতে পারলাম না? আমাদের ভালোবাসায় কি কোনো খামতি ছিল?”
আজ যীশুর সেই পরম সত্যটি আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। যখন শিষ্যরা জন্মঅন্ধ লোকটিকে দেখে যীশুকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কার পাপের জন্য এমন হলো? ওর না ওর পিতা-mাতার?” যীশু খুব স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “কারো পাপের জন্য নয়।”
প্রিয় পিতা-মাতা, বেনের এই চলে যাওয়া কোনো ভুল, কোনো অবহেলা বা কোনো পাপের শাস্তি নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ বা মৃত্যু পাঠান না। এই পৃথিবীতে কিছু দুঃখ সম্পূর্ণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আসে। আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। আপনারা তার সাথে সারা বিশ্ব ঘুরেছেন, তার শখের বোয়িং ৭৩৭ বিমান দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়েছেন, তার স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনাদের ভালোবাসা ছিল নিখুঁত। আজ সেই আত্মগ্লানি ও অপরাধবোধের পাথর হৃদয় থেকে ফেলে দিন। ঈশ্বর আপনাদের অন্তরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখেছেন। আপনারা বেনের জীবনে যে ভালোবাসার জল সিঞ্চন করেছিলেন, তা কোনোদিন ব্যর্থ হয়নি।
আজকের সুসমাচারের শেষের অংশটির দিকে লক্ষ্য করুন। নাসরতের ক্ষুব্ধ জনতা যখন যীশুকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দিতে চেয়েছিল, তখন কী ঘটেছিল? সুসমাচার বলছে: “কিন্তু তিনি তাদের মধ্য দিয়েই চলে গেলেন এবং নিজের পথে যাত্রা করলেন।”
মৃত্যু এবং অসুস্থতা আমাদের প্রিয় বেনকে এই পৃথিবীর পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট বেনের হাত ধরেছিলেন। যীশু তাকে জড়িয়ে ধরে সেই সমস্ত যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, সেই সমস্ত কোলাহলের মধ্য দিয়ে শান্তিতে পার করে নিয়ে গেছেন। সে আজ আর কোনো কষ্টের মধ্যে নেই। সে আজ ঈশ্বরের সেই পরম আলোয়, সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে স্বর্গের চিরন্তন ভোজসভায় (Banquet of Heaven) আনন্দ করছে। তারা দুজনে আজ স্বর্গের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর সমস্ত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে, যাতে লিকোমিয়ার মতো মরণব্যাধির নিরাময় আবিষ্কৃত হয় এবং অন্য কোনো পরিবারকে যেন এই বেদনাময় পথ দিয়ে হাঁটতে না হয়।
রায়য়ান, আমার স্নেহের ছোট ভাই—তোমার বড় ভাই বেন তোমাকে কতটা ভালোবাসত, তা তুমি খুব ভালো করেই জানো। তোমরা একসাথে কত খেলেছ, কত সুন্দর স্মৃতি তৈরি করেছ। আজ তোমার দাদা শারীরিকভাবে তোমার পাশে নেই, কিন্তু তার সেই লড়াকু মনোভাব—“চেষ্টা করাই আসল কথা”—তা সে তোমার হৃদয়ে রেখে গেছে। তুমি তোমার বাবা-মায়ের পাশে এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াও। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো, খেলাধুলা করো। তোমার প্রতিটি হাসিতে, তোমার প্রতিটি সাফল্যে বেনের প্রদীপের আলো জীবন্ত থাকবে।
আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যে পরিবারগুলো কোনো সন্তান বা প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকের ভারী ক্রুশ বহন করছেন, অথবা যারা কোনো কঠিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন—আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের দেখছেন। তিনি আপনাদের রাতের সেই গোপন অশ্রু চেনেন। যখন আপনারা নিজেদের নিঃস্ব এবং ক্লান্ত অনুভব করেন, তখন মনে রাখবেন, প্রভু যীশু তাঁর ক্রুশ বহনের মধ্য দিয়ে আপনাদের সেই কষ্টকে নিজের করে নিয়েছেন।
আসুন, আজকের এই পবিত্র লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট কিন্তু গভীর সত্য আমাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরি।
বেনের জীবনের সেই হোভারবোর্ড এবং স্কুটারের ভারসাম্য বজায় রাখার ছবিটির কথা মনে রাখুন। আমাদের জীবনও এক ধরনের ভারসাম্য। একদিকে আমাদের শোক ও বেদনা, আর অন্যদিকে ঈশ্বরের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও আশা। আজ থেকে আমরা যেন আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে শিখি। আমরা যেন আমাদের কষ্টের মধ্যেও ঈশ্বরের ভালোবাসার হ্যান্ডেলবারটি শক্ত করে ধরে রাখি।
আজ যখন আপনারা বাড়ি ফিরবেন, আপনার পরিবারের কোনো একজন সদস্যের দিকে তাকান—যার সাথে হয়তো আপনার একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছিল—তাকে ভালোবাসার একটি হাত বাড়িয়ে দিন। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, নিঃস্বার্থভাবে কাউকে সাহায্য করুন। বেনের মতো এক মুক্ত ও উদার হৃদয় নিয়ে ঈশ্বর ও মানুষের সেবা করুন। ভিয়েতনামের সিয়া মাউ (Cà Mau) অঞ্চলে বেনের নামে উৎসর্গীকৃত সেই ‘ভালোবাসার কূপ’ (Giếng Gioan Baotixita) থেকে যেভাবে আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জীবনদায়ী জল বয়ে চলেছে—তেমনি আমাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরম শান্তি আপনাদের গৃহ ও হৃদয়কে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া তাঁর মাতৃত্বের আঁচল দিয়ে আপনাদের সমস্ত ক্ষত ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয়, প্রভু যীশু ও সাধু কার্লোর সান্নিধ্যে শান্তিতে বিশ্রাম করুক।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের হৃদয়কে তাঁর স্বর্গীয় শান্তিতে পূর্ণ রাখুন। আমাদের প্রিয় বেন প্রভুর চরণে শান্তিতে বিশ্রাম করুক। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।