দৈনিক বাণী

সাধারণ সময়ের দ্বাবিংশ সপ্তাহের মঙ্গলবার

Tuesday, September 1, 2026 · in memory of Ben
এটি মাস অনুসরণ করে একটি ভক্তি — এটির বিকল্প নয়।
প্রারম্ভিক বন্দনা

আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বর পিতার প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সহবর্তী হোক। আসুন, আমরা পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে আমাদের এই প্রার্থনা শুরু করি। আমেন।

অনুতাপের অনুষ্ঠান

হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো, কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করো, কারণ তুমি আমাদের পরিত্রাণ দিতে এসেছ। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করো এবং তোমার শান্তিতে আমাদের হৃদয় পূর্ণ করো।

♪ “Bengali Kyrie (Version A)” — A song for Ben
ঈশ্বরের বাক্য
প্রথম পাঠ · 1 Corinthians 2:10b-16
ভাই ও বোনেরা: আত্মা সমস্ত কিছু অনুসন্ধান করেন, ঈশ্বরের গভীরতম বিষয়ও। মনুষ্যদের মধ্যে কে মানুষের বিষয় জানে, কেবল মানুষের অন্তরে যে আত্মা আছে সে ছাড়া? তেমনি ঈশ্বরের বিষয়ও ঈশ্বরের আত্মা ছাড়া আর কেউ জানে না। আমরা জগতের আত্মা পাইনি, কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে যে আত্মা এসেছেন তাঁকে পেয়েছি, যেন ঈশ্বর আমাদের যা কিছু বিনামূল্যে দান করেছেন তা বুঝতে পারি। আর আমরা মানুষের প্রজ্ঞার শেখানো কথায় এসবের বিষয়ে কথা বলি না, কিন্তু আত্মার শেখানো কথায় বলি, আত্মিক বিষয় আত্মিক ভাষায় প্রকাশ করি। কিন্তু প্রাকৃতিক মানুষ ঈশ্বরের আত্মার বিষয় গ্রহণ করে না, কারণ তার কাছে তা মূর্খতা, এবং সে তা বুঝতে পারে না, কারণ তা আত্মিকভাবে বিচার করা হয়। কিন্তু যে আত্মিক, সে সমস্ত বিষয়ের বিচার করতে পারে, কিন্তু নিজে কারও দ্বারা বিচারের অধীন নয়। কারণ “প্রভুর মন কে জেনেছে, যে তাঁকে পরামর্শ দেবে?” কিন্তু আমাদের খ্রীষ্টের মন আছে।
গীতসংহিতা · Psalm 145:8-9, 10-11, 12-13ab, 13cd-14
R. (১৭) প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ। প্রভু দয়ালু ও করুণাময়, ক্রোধে ধীর এবং মহাদয়াশীল। প্রভু সকলের মঙ্গলকারী, এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রতি তাঁর করুণা আছে। R. প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ। হে প্রভু, তোমার সমস্ত সৃষ্টি তোমার ধন্যবাদ করুক, এবং তোমার বিশ্বস্ত ভক্তরা তোমাকে ধন্য বলুক। তারা তোমার রাজ্যের গৌরবের কথা বলুক এবং তোমার শক্তির বিষয়ে আলোচনা করুক। R. প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ। তারা মানুষের কাছে তোমার শক্তির কথা এবং তোমার রাজ্যের মহিমান্বিত গৌরবের কথা জানাক। তোমার রাজ্য চিরস্থায়ী রাজ্য, এবং তোমার কর্তৃত্ব সমস্ত পুরুষানুক্রমে স্থায়ী। R. প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ। প্রভু তাঁর সমস্ত বাক্যে বিশ্বস্ত এবং তাঁর সমস্ত কাজে পবিত্র। প্রভু পতনশীল সকলকে ধরে রাখেন এবং নত সকলকে খাড়া করেন। R. প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ।
সুসমাচার · Luke 4:31-37
যীশু গালীলের কফরনাহূম নগরে নেমে গেলেন। তিনি বিশ্রামবারে তাদের শিক্ষা দিতেন, এবং তারা তাঁর শিক্ষায় বিস্মিত হয়েছিল কারণ তাঁর বাক্যে অধিকার ছিল। উপাসনালয়ে একজন অপবিত্র আত্মাবিষ্ট লোক ছিল, সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠল, “হে নাজারেতের যীশু, আমাদের সাথে আপনার কী কাজ? আপনি কি আমাদের ধ্বংস করতে এসেছেন? আমি জানি আপনি কে—ঈশ্বরের সেই পবিত্র জন!” যীশু তাকে ধমক দিয়ে বললেন, “শান্ত হও! ওর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো!” তখন সেই অপবিত্র আত্মা লোকটিকে সবার সামনে ফেলে দিয়ে তার কোনো ক্ষতি না করে তার মধ্য থেকে বের হয়ে গেল। তারা সবাই বিস্মিত হলো এবং একে অপরকে বলতে লাগল, “এ কেমন বাক্য? কারণ তিনি অধিকার ও শক্তির সাথে অপবিত্র আত্মাদের আদেশ দেন, আর তারা বের হয়ে যায়।” এবং চারপাশের সমস্ত অঞ্চলে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ল।
প্রভু তাঁর সমস্ত পথে ন্যায়পরায়ণ এবং তাঁর সমস্ত কাজে পবিত্র।
ধর্মোপদেশ

সমুদ্রের উপরিভাগের দিকে তাকালে আমরা কেবল ঢেউয়ের গর্জন দেখতে পাই …

সেখানে বাতাসের তীব্রতা আছে, ফেনার আছড়ে পড়া আছে, আর আছে এক অশান্ত অস্থিরতা। কিন্তু আমরা যদি সেই উপরিভাগের অশান্ত জলরাশি ভেদ করে আরও গভীরে, অনেক গভীরে নেমে যাই, তবে সেখানে কী দেখতে পাব? সেখানে রয়েছে এক আদিম, নিবিড় এবং অলঙ্ঘনীয় নীরবতা। সমুদ্রের সেই অতল গভীরতায় কোনো ঝড় পৌঁছাতে পারে can না। সেখানে কোনো বাতাসের গর্জন নেই, কোনো ঢেউয়ের উত্তাল নাচ নেই। সেখানে কেবল রয়েছে এক শান্ত, স্থির এবং গম্ভীর উপস্থিতি। বাহ্যিক জগতের সমস্ত কোলাহল সেই গভীরতার কাছে এসে স্তব্ধ হয়ে যায়।

আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল করিন্থীয়দের কাছে লেখা তাঁর প্রথম পত্রে আমাদের এই গভীরতার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, “আত্মা সমস্ত কিছু অনুসন্ধান করেন, ঈশ্বরের গভীরতম বিষয়ও।” ঈশ্বরের এই গভীরতা (the depths of God) কোনো মানুষের চতুর প্রজ্ঞা বা জাগতিক বুদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মানুষের ভাষা যেখানে শেষ হয়ে যায়, মানুষের যুক্তি যেখানে ক্লান্ত হয়ে থমকে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই ঈশ্বরের সেই অতল গভীরতার শুরু।

আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা আমাদের অত্যন্ত আদরের বেঞ্জামিন ভো—আমাদের সবার প্রিয় বেন—এর চলে যাওয়ার প্রায় দুই মাস পূর্ণ করছি, তখন এই ‘গভীরতা’ শব্দটি আমাদের হৃদয়ের অবর্ণনীয় শূন্যতাকে স্পর্শ করে। গত ১৩ই জুন যখন বেন আমাদের ছেড়ে চলে গেল, তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত আপনাদের জন্য এক একটি ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়েছে। শোকের প্রথম দিনগুলোর সেই তীব্র ঝড় হয়তো কিছুটা শান্ত হয়েছে, কিন্তু এখন নেমে এসেছে সেই গভীর, ভারী নীরবতা। এই নীরবতা বড় কঠিন, বড় নিস্তব্ধ।

চলুন, আজ আমরা কোনো কৃত্রিম সান্ত্বনার আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে না রেখে, এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াই। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আপনাদের ঘরের সেই ফাঁকা চেয়ারটি আজ এক নীরব হাহাকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেনের সেই প্রিয় কিবোর্ড, তার কোডিংয়ের খাতাগুলো, তার পড়ার টেবিল আজ নিঃশব্দ। প্রতিদিন সকালে যখন আপনারা ঘুম থেকে ওঠেন এবং অনুভব করেন যে বেনের সেই মিষ্টি হাসিমাখা মুখটি আর দেখা যাবে না, তখন বুকের ভেতরটা চিরে কান্না আসে। এই দুই মাস কেটে গেলেও সেই শূন্যতা একটুও কমেনি, বরং তা আরও গভীর হয়েছে। মানুষের সমস্ত যুক্তি আর সান্ত্বনার বাণী এখানে এসে স্তব্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু ঠিক এই গভীর যন্ত্রণার মাঝেই আজকের প্রথম পাঠ আমাদের এক পরম সত্যের সন্ধান দেয়। সাধু পৌল বলছেন, “মানুষের অন্তরে যে আত্মা আছে, সে ছাড়া মানুষের বিষয় আর কে জানে? তেমনি ঈশ্বরের বিষয়ও ঈশ্বরের আত্মা ছাড়া আর কেউ জানে না।” আমাদের এই শোকের গভীরতা, আমাদের এই কান্নার ভাষা কেবল ঈশ্বরের আত্মাই বোঝেন। যখন আমাদের মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হয় না, যখন আমরা কেবল নীরব অশ্রুপাত করি, তখন ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা আমাদের সেই অব্যক্ত বেদনাকে ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে নিয়ে যান।

আজকের সুসমাচারে আমরা প্রভু যীশুর এক অদ্ভুত অধিকারের (Authority) পরিচয় পাই। তিনি যখন গালীলের কফরনাহূম নগরে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন লোকেরা তাঁর শিক্ষায় বিস্মিত হয়েছিল, কারণ তাঁর বাক্যে ছিল এক স্বর্গীয় অধিকার। সেখানে উপাসনালয়ে একজন অপবিত্র আত্মাবিষ্ট লোক ছিল, যে জোরে চিৎকার করে উঠল: “নাজারেতের যীশু, আমাদের সাথে আপনার কী কাজ? আপনি কি আমাদের ধ্বংস করতে এসেছেন?”

যীশু তাকে ধমক দিয়ে বললেন, “শান্ত হও! ওর মধ্য থেকে বের হয়ে এসো!”

একটু লক্ষ্য করুন … যীশু কিন্তু কোনো হৈচৈ করেননি। তিনি কোনো দীর্ঘ যুক্তি প্রদর্শন করেননি। তিনি কেবল একটি শান্ত অথচ অধিকারপূর্ণ বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। আর সেই অপবিত্র আত্মা লোকটিকে সবার সামনে ফেলে দিয়ে, তার কোনো ক্ষতি না করে (without doing him any harm) তার মধ্য থেকে বের হয়ে গেল।

এই সুসমাচার আমাদের কী শেখায়? এটি আমাদের দেখায় যে, যীশুর বাক্যের এমন এক ক্ষমতা আছে যা সমস্ত বিশৃঙ্খলা, সমস্ত ভয় এবং সমস্ত অন্ধকারকে শান্ত করতে পারে। আমাদের জীবন যখন দুঃখের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়, যখন মৃত্যুর অন্ধকার আমাদের গ্রাস করতে চায়, তখন যীশুর সেই একই অধিকারপূর্ণ কণ্ঠস্বর আমাদের হৃদয়ের গভীরে প্রতিধ্বনিত হয়: “শান্ত হও!”

আসুন, আজ আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিনের জীবনের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর স্মৃতির দিকে তাকাই। বেন ছিল এক অসাধারণ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন কিশোর। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সে AI, DevOps, আর AWS ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো জটিল প্রযুক্তি নিয়ে তার বাবার সাথে আলোচনা করত। সে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়তেই ৮ম শ্রেণীর গণিত সমাধান করত। কিন্তু তার এই প্রখর মেধার চেয়েও যা আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়, তা হলো তার অন্তরের সেই কোমলতা ও গভীর সহানুভূতি।

আপনাদের কি মনে পড়ে বেনের সেই ১২ বছর বয়সের কথা? তার বাবার ৪০তম জন্মদিনে, যখন সবাই আনন্দে মেতে ছিল, তখন এই ছোট ছেলেটি হঠাৎ কেঁদে ফেলেছিল। সে কেন কেঁদেছিল? কারণ তার মনে এক অকাল ভয় জেগেছিল যে সে হয়তো কোনোদিন তার প্রিয় বাবাকে হারিয়ে ফেলবে। একটি ১২ বছরের বালকের হৃদয়ে কতটা গভীর ভালোবাসা থাকলে, তার বাবার প্রতি কতটা গভীর টান থাকলে এমন অশ্রু ঝরতে পারে! বেনের মনটি ছিল এক শান্ত মহাসমুদ্রের মতো—যার উপরিভাগে ছিল তার প্রখর মেধার উজ্জ্বলতা, আর গভীরে ছিল ভালোবাসার অতল স্পর্শকাতরতা। সে তার বাবাকে, তার মাকে, তার ছোট ভাই রায়য়ানকে এক স্বর্গীয় ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছিল।

আজ বেনের সেই অশ্রু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভালোবাসা কখনো সময়ের সীমানায় বাঁধা থাকে না। সে তার পনেরো বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে আমাদের যে ভালোবাসা দিয়ে গেছে, তা শত বছরের জীবনের চেয়েও অনেক বেশি গভীর এবং খাঁটি।

মাঝে মাঝে এই ধরনের গভীর শোকের রাতে, পিতা-মাতার মনে এক অদ্ভুত এবং ভারী পাথর চেপে বসে। মনের অলক্ষে এক নীরব অপরাধবোধ আপনাদের গ্রাস করতে চায়। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও—আপনারা হয়তো নিঝুম রাতে একা বসে ভাবতে থাকেন, “আমরা কি আরও একটু ভালো করতে পারতাম? আমরা কি কোনো লক্ষণ মিস করেছি? কেন আমরা আমাদের সন্তানকে ধরে রাখতে পারলাম না? আমাদের ভালোবাসায় কি কোনো খামতি ছিল?”

আজ যীশুর সেই পরম সত্যটি আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। যখন শিষ্যরা জন্মঅন্ধ লোকটিকে দেখে যীশুকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কার পাপের জন্য এমন হলো? ওর না ওর পিতা-মাতার?” যীশু খুব স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “কারো পাপের জন্য নয়।”

প্রিয় পিতা-mাতা, বেনের এই চলে যাওয়া কোনো ভুল, কোনো অবহেলা বা কোনো পাপের শাস্তি নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ বা মৃত্যু পাঠান না। এই পৃথিবীতে কিছু দুঃখ সম্পূর্ণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আসে। আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। আপনারা তার সাথে সারা বিশ্ব ঘুরেছেন, তার শখের বোয়িং ৭৩৭ বিমান দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়েছেন, তার স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনাদের ভালোবাসা ছিল নিখুঁত। আজ সেই আত্মগ্লানি ও অপরাধবোধের পাথর হৃদয় থেকে ফেলে দিন। ঈশ্বর আপনাদের অন্তরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখেছেন। আপনারা বেনের জীবনে যে ভালোবাসার জল সিঞ্চন করেছিলেন, তা কোনোদিন ব্যর্থ হয়নি।

আজকের সুসমাচারে আমরা দেখেছি, সেই অপবিত্র আত্মা লোকটিকে সবার সামনে ফেলে দিয়ে “তার কোনো ক্ষতি না করে” বের হয়ে গেল। মৃত্যু আমাদের প্রিয় বেনকে শারীরিকভাবে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে সত্য, কিন্তু সে বেনের আত্মার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বেনের সেই নিষ্পাপ আত্মা আজ সম্পূর্ণ নিরাপদ, সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ঈশ্বরের পরম শান্তিতে বিভোর। সে আজ স্বর্গের সেই চিরন্তন ভোজসভায় (Banquet of Heaven) সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে আনন্দ করছে। তারা দুজনে আজ স্বর্গের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর সমস্ত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে, যাতে লিকোমিয়ার মতো মরণব্যাধির নিরাময় আবিষ্কৃত হয় এবং অন্য কোনো পরিবারকে যেন এই বেদনাময় পথ দিয়ে হাঁটতে না হয়।

রায়য়ান, আমার স্নেহের ছোট ভাই—তোমার বড় ভাই বেন তোমাকে কতটা ভালোবাসত, তা তুমি খুব ভালো করেই জানো। তোমরা একসাথে কত খেলেছ, কত সুন্দর স্মৃতি তৈরি করেছ। আজ তোমার দাদা শারীরিকভাবে তোমার পাশে নেই, কিন্তু তার সেই লড়াকু মনোভাব—“চেষ্টা করাই আসল কথা”—তা সে তোমার হৃদয়ে রেখে গেছে। তুমি তোমার বাবা-মায়ের পাশে এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াও। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো, খেলাধুলা করো। তোমার প্রতিটি হাসিতে, তোমার প্রতিটি সাফল্যে বেনের প্রদীপের আলো জীবন্ত থাকবে।

আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যে পরিবারগুলো কোনো সন্তান বা প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকের ভারী ক্রুশ বহন করছেন, অথবা যারা কোনো কঠিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন—আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের দেখছেন। তিনি আপনাদের রাতের সেই গোপন অশ্রু চেনেন। যখন আপনারা নিজেদের নিঃস্ব এবং ক্লান্ত অনুভব করেন, তখন মনে রাখবেন, প্রভু যীশু তাঁর ক্রুশ বহনের মধ্য দিয়ে আপনাদের সেই কষ্টকে নিজের করে নিয়েছেন।

আসুন, আজকের এই পবিত্র লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট কিন্তু গভীর সত্য আমাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরি।

বেনের জীবনের সেই গভীর ভালোবাসার কথা মনে রাখুন। আমরা যেন আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কেবল উপরিভাগের কোলাহলে মেতে না থাকি, বরং আমাদের সম্পর্কের গভীরে প্রবেশ করি। আজ থেকে আমরা যেন আমাদের অহংকার, আমাদের রাগ, আর আমাদের আত্মকেন্দ্রিকতাকে একটু একটু করে ত্যাগ করি।

আজ যখন আপনারা বাড়ি ফিরবেন, আপনার পরিবারের কোনো একজন সদস্যের দিকে তাকান—যার সাথে হয়তো আপনার একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছিল—তাকে ভালোবাসার একটি হাত বাড়িয়ে দিন। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, নিঃস্বার্থভাবে কাউকে সাহায্য করুন। বেনের মতো এক মুক্ত ও উদার হৃদয় নিয়ে ঈশ্বর ও মানুষের সেবা করুন।

ভিয়েতনামের সিয়া মাউ (Cà Mau) অঞ্চলে বেনের নামে উৎসর্গীকৃত সেই ‘ভালোবাসার কূপ’ (Giếng Gioan Baotixita) থেকে যেভাবে আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জীবনদায়ী জল বয়ে চলেছে—তেমনি আমাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়। বেনের ভিয়েতনামী নাম ‘দাই জুওং’ (Đại Dương) যার অর্থ মহাসমুদ্র। সেই মহাসমুদ্রের গভীরতা আজ একটি সাধারণ কূপের মিষ্টি জলে রূপান্তরিত হয়ে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। আমাদের জীবনও যেন তেমনি অন্যের জন্য আশার উৎস হয়ে ওঠে।

প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরম শান্তি আপনাদের গৃহ ও হৃদয়কে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া তাঁর মাতৃত্বের আঁচল দিয়ে আপনাদের সমস্ত ক্ষত ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয়, প্রভু যীশু ও সাধু কার্লোর সান্নিধ্যে শান্তিতে বিশ্রাম করুক।

আমেন।

ধ্যান
♪ “করুণার নদী (Version A: Nhạc Thánh Ca)” — A song for Ben
সার্বজনীন প্রার্থনা

For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:

“Hey Ben, যদি সম্ভব হয় anh Minh-কে স্বপ্নে Ben-এর সাথে দেখা করতে দিও, হোক না তা কেবল একটি সম্ভাষণ বা একটি মিষ্টি হাসি, ঠিক যেমনটা Ben ছবি তোলার জন্য পোজ দিত। Ben-কে অনেক মনে পড়ে আর খুব ভালোবাসি।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“হে বেন - এখানে একটা অলৌকিক কিছু খুব দরকার। তোকে আমাদের খুব মনে পড়ছে আর আমরা তেমন ঘুমাচ্ছি না। Ryan চাইছে তুই যদি এখানে থাকতিস, বিশেষ করে সামনের এই শনিবারে তার সাথে Project Flight-এর নতুন ভার্সনটা খেলার জন্য।” — Dad
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“প্রিয় Ben, আমাদের আঙ্কেল Thanh মারা গেছেন। দয়া করে তাঁর খেয়াল রাখিস এবং প্রার্থনা করিস যেন তাঁর আত্মা শান্তি পায়। তাঁর সাধু নাম Phêrô। প্রভু, আমার জীবনে Chu Thanh-কে পাঠানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। হাই স্কুলে থাকাকালীন তিনি আমাকে অংক পড়ানোর জন্য যে সময় দিয়েছিলেন তার জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।” — Dad
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“তোর কথা ভাবা থামাতে পারছি না Ben... ইচ্ছে করে যদি সময়ে পিছিয়ে যেতে পারতাম আর সবকিছু বদলে দিতে পারতাম... হয়তো তোর সাথে আরও বেশি সময় কাটাতাম আর কাজে কম সময় দিতাম। দয়া করে আমার আর মায়ের জন্য প্রার্থনা করিস।” — Dad
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“তোকে খুব মিস করছি, Ben - আজকাল ভালো করে ঘুমাতে পারছি না। যখনই পারিস, একবার এসে দেখা দিয়ে যাস। তোকে ভালোবাসি।” — Dad
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“দয়া করে William-এর জন্য প্রার্থনা করিস। তাকে এত বেশি মনে করার কষ্ট কাটিয়ে উঠতে দয়া করে তার মাকে সাহায্য করিস।” — Dianna Maria
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“এই যে Ben, Ryan তোকে খুব মিস করছে আর চাইছে তুই ওর সাথে গেম খেলার জন্য এখানে থাকতিস। দয়া করে আত্মিক দিক থেকে ওর খেয়াল রাখিস আর জীবনের পথে ওকে পরিচালিত করিস। ওকে শক্ত থাকতে আর ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করিস। দয়া করে বাড়ি ফিরে একবার হাই বলে যা।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।
“দয়া করে Debora-র জন্য প্রার্থনা করিস, সে দুই সপ্তাহ আগে তার স্বামী Steve-কে ছেড়ে চলে গেছে। তার স্বামী ভীষণ কষ্টে আছে এবং ঘুমাতে পারছে না।”
… আমরা Ben-এর কাছে অর্পণ করি, যিনি এটি প্রভুর কাছে বহন করেন।
℟ Ben, আমাদের জন্য প্রার্থনা করো।

🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →

প্রভুর প্রার্থনা

মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:

স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।

আধ্যাত্মিক সহভাগিতা
আমার পরমপ্রিয় যীশু, আমি বিশ্বাস করি যে তুমি পরম পবিত্র সংস্কারে সত্যই উপস্থিত আছ। আমি সবকিছুর চেয়ে তোমাকে বেশি ভালোবাসছি এবং আমার নিজের অন্তরে তোমাকে গ্রহণ করতে ব্যাকুল ইচ্ছা করছি। যেহেতু এখন আমি তোমাকে সাক্রামেন্তীয়ভাবে গ্রহণ করতে পারছি না, তুমি আধ্যাত্মিকভাবে আমার হৃদয়ে এসো। আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরছি, যেন তুমি ইতিমধ্যেই এসেছ এবং নিজেকে সম্পূর্ণভাবে তোমার সাথে যুক্ত করছি; আমাকে কখনো তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দিও না। আমেন।
কমিউনিয়ন সঙ্গীত
♪ “অবিচল পথে (Version B)” — A song for Ben
বিদায় আশীর্বাদ

প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে চিরস্থায়ী জীবনে নিয়ে যান। আমাদের আদরের বেঞ্জামিন ভো এবং সকল বিশ্বস্ত মৃত বিশ্বাসীদের আত্মা ঈশ্বরের দয়ায় শান্তিতে বিশ্রাম করুক। আমেন।

✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।

সমাপনী সঙ্গীত
♪ “আশীর্বাদে পথ চলা (Version B)” — A song for Ben
পূর্ববর্তী দিনগুলি
Questions or comments? [email protected]