পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও ঈশ্বরের অসীম ভালোবাসা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা বেনের প্রস্থানের তিন মাসের এই কঠিন পথ অতিক্রম করছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি অতি সাধারণ ছবি। এটি কোনো বড় কোনো অনুষ্ঠানের ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট্ট এক মুহূর্তের ছবি—সে তার ছোট ছোট হাত দিয়ে পরম মমতায় তার খেলনা বিমানগুলোকে সাজাচ্ছে। তার সেই কৌতূহলী চোখ, যা দিয়ে সে আকাশের বিশালতাকে মাপতে চাইত, তা যেন আজও আমাদের এই চারপাশের নীরবতায় কথা বলে যাচ্ছে। বেঞ্জামিন ভো, আমাদের সেই মেধাবী এবং কোমল হৃদয়ের ছেলেটি, যার প্রতিটি হাসি ছিল এক একটি আশার প্রদীপ।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল আমাদের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলছেন, “যা বপন করা হয়, তা যদি না মরে তবে তা প্রাণ পায় না।” তিনি একটি বীজের কথা বলছেন—একটি সাধারণ গমের দানা, যা মাটিতে পড়ে পচে না গেলে তার নতুন জীবন শুরু হয় না। এটি শুনতে খুব কঠিন লাগে, তাই না? বিশেষ করে যখন সেই বীজটি আমাদের ঘরের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও প্রিয় সন্তান হয়। কিন্তু পৌল এখানে আমাদের একটি নতুন দৃষ্টি দিতে চাইছেন। তিনি বলছেন, “যা নশ্বর হিসেবে বপন করা হয়, তা অবিনশ্বর হিসেবে উত্থাপিত হয়।” এই যে নশ্বর শরীর, যা আজ আমাদের চোখের আড়াল হয়েছে, তা কেবল একটি রূপান্তর। এটি শেষ নয়, এটি একটি নতুন মহাজাগতিক যাত্রার শুরু। বেন আজ সেই অবিনশ্বর শরীরে, সেই গৌরবান্বিত অবস্থায় আছে, যা আমাদের এই পার্থিব সীমাবদ্ধতার অনেক ঊর্ধ্বে।
আমি জানি, এই তিন মাস অ্যালান এবং থাওয়ের জন্য কেমন কেটেছে। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের হৃদয়কে প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—‘না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।’ বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
এবার একটু সুসমাচারের দিকে তাকান। যীশু বীজ বপনকারীর উপমা দিচ্ছেন। কিছু বীজ পথের ধারে পড়ে, কিছু পাথুরে জমিতে, কিছু কাঁটাঝোপের মধ্যে, আর কিছু ভালো মাটিতে। আমরা যখন বেনের জীবনের দিকে তাকাই, আমরা দেখি সে ছিল সেই ভালো মাটির মতো—উর্বর, উদার এবং গ্রহণশীল। তার সেই মেধা, তার সেই কোডিং-এর জগত, তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন—এগুলো কি কেবল একটি বাচ্চার কল্পনা ছিল? না, এগুলো ছিল তার আত্মার এক বিশাল আকাশ জয়ের চেষ্টা। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে যে তার নিজের পিগি ব্যাংক দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তা কি মনে আছে? সে ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ এটিই ছিল বেনের আত্মা। সে ছিল এমন এক বালক, যে তার নিজের জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যদের ভালোবাসতে চেয়েছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে তার নিজের সম্পদ দিয়ে নয়, তার প্রেমের অকৃত্রিমতা দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।
বেন আজ আমাদের মাঝে নেই শারীরিক রূপে, কিন্তু সে আছে সেই স্বর্গের ভোজসভায়। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো দেখছে এই পৃথিবী কেমন চলছে। সে তার ভাই রায়ানের সাথে শেয়ার করা সেই রোলার কোস্টার রাইডের আনন্দ বা ব্যাকইয়ার্ডের স্মৃতিগুলো নিয়ে আজও আমাদের দেখছে। রায়ান, তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন—যে বলত ‘চেষ্টা করাই আসল কথা’—তা তোমার মধ্যেও বেঁচে আছে। তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। বেনের সেই মৃদু হাসি, তার সেই কৌতূহল, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে আপনাদের হৃদয়ে আছে, সে আপনাদের আগলে রাখছে।
আজকের এই দিনে, আমি আপনাদের বলতে চাই—শোক করবেন না এমনভাবে যেন সব শেষ হয়ে গেছে। বরং বিশ্বাস রাখুন, যেমন পৌল বলেছেন, “আমরা যেমন পার্থিব মানুষের প্রতিমূর্তি ধারণ করেছি, তেমনি স্বর্গীয় মানুষের প্রতিমূর্তিও ধারণ করব।” বেন আজ সেই স্বর্গীয় প্রতিমূর্তিতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সে আপনাদের বলছে, ‘বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।’ আজকের এই প্রার্থনাটুকু নিয়ে ঘরে ফিরুন—যে জীবন আমরা যীশুর জন্য উৎসর্গ করি, তা কখনো নষ্ট হয় না। তা অনন্তকাল বেঁচে থাকে।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন। তাঁর মুখমণ্ডল আপনাদের ওপর উজ্জ্বল হোক এবং তিনি আপনাদের শান্তি দান করুন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।