পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। প্রভূর শান্তি ও তাঁর অসীম করুণা আপনাদের সবার সাথে থাকুক।
প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
সকালের আলো যখন ঘরের কাঁচের জানালার ওপর পড়ে, তখন একটি ছোট জিনিস খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একটি টেবিলের কোণে পড়ে থাকা জ্যামিতির স্কেল, আর তার পাশে গোছানো কিছু বিমানের ছবি। এগুলো এমন কোনো মহা মূল্যবান জিনিস নয়, কিন্তু যারা সেখানে ছিল, তারা জানে এগুলো কিসের চিহ্ন। এগুলো ছিল বেনের সেই দুনিয়া, যেখানে সে তার কৌতূহলী মন দিয়ে বিমান আর মহাকাশের নকশা আঁকত। এই ছোট সাধারণ জিনিসগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষ চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া রেখাগুলো কতখানি জীবন্ত হয়ে থাকে। আজ, বেনের প্রস্থানের এই তিন মাস পার করার মুহূর্তে, যখন আমরা স্তব্ধ হয়ে বছি, তখন আমাদের চারপাশের এই ক্ষুদ্র জিনিসগুলোই যেন কথা বলতে শুরু করে।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল অত্যন্ত জোরালোভাবে এক প্রশ্ন তুলেছেন—যদি মৃতদের পুনরুত্থান না হয়, তবে খ্রীষ্টও উত্থাপিত হননি। আর খ্রীষ্ট যদি উত্থাপিত না হয়ে থাকেন, তবে আমাদের বিশ্বাস অর্থহীন, আমাদের এই সমবেত হওয়াও ফাঁকা। পৌল এখানে কোনো তাত্ত্বিক বিতর্ক করছেন না; তিনি সরাসরি আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাচ্ছেন। মৃত্যু কি সবকিছুর শেষ? যদি তা-ই হয়, তবে মানুষের সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত কান্নার জল আর সমস্ত স্মৃতি কেবল বাতাসের সাথে মিলিয়ে যাওয়া ধোঁয়া। কিন্তু ঠিক এই অন্ধকারের মাঝেই পৌল বজ্রের মতো সত্য উচ্চারণ করেছেন—"কিন্তু এখন খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত হয়েছেন, যারা ঘুমিয়ে পড়েছেন তাদের প্রথম ফলস্বরূপ।"
আমরা যখন বেনের কথা ভাবি, তখন এই ঘুমিয়ে পড়ার কথাটি আমাদের বুকের ভেতর এক গভীর কম্পন তোলে। বেঞ্জামিন ভো—আমাদের সেই ১৪-১৫ বছরের ছেলেটি, যার চোখের সেই দীপ্তি আর মেধার কথা আজও আমাদের মনে তাজা—সে তো কেবল বিমান spotting বা কোডিং-এর জগত নিয়ে মেতে ছিল না। তার মধ্যে এক অদ্ভুত কোমলতা ছিল। সে তার বাবার সাথে বসে গল্প শুনতে ভালোবাসত, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর উপকথা শুনছে। কিন্তু সেই মিষ্টি ছেলেটির জীবন যখন থামল, তখন আমাদের মনে যে প্রশ্নটি এসে ধাক্কা মدهল, তা হলো এই বিশাল ব্যবধান। কেন এমন হলো?
অনেক সময় আপনারা যারা অ্যালান আর থাও, বাবা-মা হিসেবে এই শূন্যতার মুখোমুখি হন, আপনারা হয়তো গভীর রাতে নিজেদের প্রশ্ন করেন—‘আমরা কি কোথাও কোনো ত্রুটি রেখেছিলাম? আমরা কি আরও কিছু করতে পারতাম?’ এই যে আত্ম-দহন, এই যে নিজেদের দোষী ভাবার এক নীরব যন্ত্রণা, এটি আপনাদের বুক জুড়ে পাথর হয়ে বসে থাকে। কিন্তু আজকের এই বেদনার মুহূর্তে একটু থামুন। যীশু সুসমাচারে যেভাবে হেঁটে বেড়িয়েছেন—গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, মদলীন মরিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ নারীদের নিয়ে—তিনি কি কখনো কাউকে দোষারোপ করেছেন? অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো ভুলের ফল নয়। এটি কোনো মানুষের তৈরি করা হিসাবের বাইরে, এমন এক বাস্তব যা আমাদের হাতের বাইরে। আপনাদের বুকের সেই পাথর আজ নামিয়ে রাখুন। আপনারা বেনকে কোনো কম ভালোবাসা দেননি; আপনারা তাকে তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আশ্রয় দিয়েছেন। সেই ভালোবাসার মধ্যে কোনো খাদ ছিল না।
এবার একটু সুসমাচারের দিকে তাকান। সেখানে আমরা দেখছি যীশুর সাথে চলা সেই সাধারণ মানুষগুলোকে—মরিয়া মদলীন, যোহন্না, সুসন্না এবং আরও অনেকে। তারা নিজেদের সম্পদ দিয়ে যীশু ও তাঁর শিষ্যদের সেবা করেছিলেন। তারা কেউ কোনো বড় বড় উপাধির পেছনে ছোটেননি; তারা কেবল নীরবে পাশে থেকেছেন। বেনও ঠিক তেমনই ছিল। তার মধ্যে এক অদ্ভুত নির্ভার ঔদার্য ছিল। একবার ভাবুন তো সেই দিনটির কথা, যখন সে তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার কথা শুনে নিজের সমস্ত জমানো অর্থ—তার পুরো পিগি ব্যাংকটি—তুলে দিতে চেয়েছিল। সে তা ভেঙে ফেলেনি, সে কোনো বড়াই করে ঢাকঢোল পিটায়নি; সে কেবল সরল মনে বলেছিল সে তার সবটুকু দিতে চায়। ঠিক যেমন একটি পাখি আকাশে ওড়ার সময় তার ডানার নিচে বাতাসকে ভয় পায় না, তেমনি বেন তার ছোট হৃদয়ের সমস্ত সরলতা দিয়ে ভালোবাসতে জানত। সে তার নিজের গড়া সেই কাল্পনিক ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা ভেবে মাঝেমই মুচকি হাসত। সেই হাসিটি ছিল এমন এক পবিত্র আনন্দ, যা কোনো রোগ বা কোনো মৃত্যু কেড়ে নিতে পারে না।
আজ বেন আমাদের মাঝে নেই শারীরিক রূপে, কিন্তু সে আছে সেই স্বর্গের ভোজসভায়। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো দেখছে এই পৃথিবী কেমন চলছে। সে তার ভাই রায়ানের সাথে শেয়ার করা সেই রোলার কোস্টার রাইডের আনন্দ বা ব্যাকইয়ার্ডের স্মৃতিগুলো নিয়ে আজও আমাদের দেখছে। রায়ান, তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন—যে বলত ‘চেষ্টা করাই আসল কথা’—তা তোমার মধ্যেও বেঁচে আছে। তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো।
আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, যারা নিজেরাও কোনো না কোনো ভার বহন করছেন—আজ এই শব্দগুলোকে ধরে রাখুন। বেন আজ আর ব্যথায় নেই। সে ভালো আছে। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন।
আজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় বড় কোনো কাজ করার দরকার নেই। শুধু বেনের মতো কারো প্রতি একটি ছোট, নিঃশব্দ দয়া দেখাবেন—কাউকে একটু সাহায্য করবেন, কারো চোখের জল মুছিয়ে দেবেন। বেন চলে গেছে ঠিকই, কিন্তু সে যে ভালোবাসা রেখে গেছে, তা প্রতিদিন একটু একটু করে জল সেচে তোলা সেই কও মালের ঝরনার মতো বয়ে চলেছে। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং শান্তিতে রাখুন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।