পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
প্রভু, আপনি নম্র ও ভগ্নহৃদয়দের সান্ত্বনা দিতে এসেছেন: প্রভু, দয়া করুন। খ্রীষ্ট, আপনি আমাদের সকল ভার লাঘব করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন: খ্রীষ্ট, দয়া করুন। প্রভু, আপনি স্বর্গে আমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করে রেখেছেন: প্রভু, দয়া করুন।
একটি দৃশ্য কল্পনা করুন …
প্রভাতের প্রথম আলো যখন পূর্বদিকের ফটক ভেদ করে মন্দিরের পাথুরে চত্বরে এসে পড়ে। বাতাস শান্ত, কিন্তু দূর থেকে ভেসে আসছে এক গম্ভীর সুর—যেন অগণিত নদীর জলধারা একসঙ্গে গর্জন করে বয়ে চলেছে। ভাববাদী যিহিষ্কেল দাঁড়িয়ে আছেন সেই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। হঠাৎ এক স্বর্গীয় আলো চারপাশকে আলোকিত করে তুলল। প্রভুর মহিমা ফিরে আসছে তাঁর নিজ গৃহে। আর সেই আলোর মহিমায় ভাববাদী উপুড় হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
তখন মন্দির থেকে এক শান্ত, পরম আশ্বাসের বাণী ধ্বনিত হলো: “হে মনুষ্যপুত্র, এই স্থানটিই হবে আমার সিংহাসন … এখানেই আমি আমার পদতল স্থাপন করব; এখানেই আমি চিরকাল বাস করব।”
একটি সিংহাসন … ঈশ্বরের পদচিহ্ন আঁকা একটি পবিত্র স্থান।
আজকের দিনে পবিত্র মণ্ডলী ধন্য কুমারী মারীয়ার স্বর্গরাণী-পদ মহোৎসব পালন করছে। কিন্তু এই সিংহাসন কেমন? তিনি কোন রাজকীয় ঐশ্বর্যে রাণী হলেন?
আজকের সুসমাচারে যীশু সেই পার্থিব সিংহাসন ও অহংকারের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। তিনি ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষকদের দেখিয়ে বললেন, তারা মোশির আসনে বসতে ভালোবাসে। তারা ভোজসভায় শ্রেষ্ঠ আসন খোঁজে, হাটে-বাজারে সম্মান খোঁজে, নিজেদের পোশাকের ঝালর দীর্ঘ করে যেন সবাই তাদের ক্ষমতা দেখে। তারা মানুষের কাঁধে ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়, অথচ নিজেরা আঙুল দিয়েও তা স্পর্শ করতে চায় না।
কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্য এমন নয়।
যীশু এক অদ্ভুত বিপরীত সত্যের আলো জ্বালিয়ে দিলেন: “তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে মহান, সে যেন তোমাদের সেবক হয়। যে কেউ নিজেকে উচ্চ করে, তাকে নত করা হবে; কিন্তু যে কেউ নিজেকে নত করে, তাকে উচ্চ করা হবে।”
মা মারীয়া কখনো মোশির আসন বা কোনো পার্থিব সিংহাসন দাবি করেননি। তিনি রাজপ্রাসাদের সুবর্ণ মুকুট পরেননি। তিনি ছিলেন নাসারতের এক সাধারণ বালিকা, যিনি নিভৃতে নতজানু হয়ে বলেছিলেন: “দেখুন, আমি প্রভুর দাসী।” তিনি সারা জীবন নিঃশব্দে সেবা করে গেছেন—যীশুকে কোলে নিয়েছেন, মিশরে পালিয়ে গেছেন, কানার বিবাহভোজে সেবকদের পথ দেখিয়েছেন, এবং অবশেষে ক্রুশের নিচে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলেছেন।
আর এই চরম নম্রতা, এই ভালোবাসার নিঃস্বার্থ সেবাই তাঁকে স্বর্গের রাণী করে তুলেছে। ঈশ্বর তাঁর পদতল স্থাপন করেছেন এক বিনম্র হৃদয়ের ওপর।
আজকের এই পবিত্র সত্যের আলো যখন আমাদের অন্তরে এসে পৌঁছায়, তখন আমাদের দৃষ্টি চলে যায় এক চিরচেনা মিষ্টি মুখের দিকে … আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন, আমাদের বেন।
আজ প্রায় দুই মাস … সেই ১৩ই জুন ২০২৬ থেকে নয়টি সপ্তাহ পেরিয়ে দশম সপ্তাহে পা দিল সময়।
যাঁরা কাউকে সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এই দুই মাসের প্রতিটি সকাল কত নিস্তব্ধ হতে পারে, তা শুধু তাঁরাই জানেন। ঘরের ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে টেবিলের কোণ, দরজার পাশে রাখা জুতো, দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো যেন এক নীরব ভাষায় কথা বলে। শূন্য আসনটি প্রতিদিন নিঃশব্দে এক গভীর স্মৃতির ঢেউ তোলে।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও, এবং ছোট ভাই রায়ান—আমি জানি, শোক যখন দীর্ঘায়িত হয়, তখন হৃদয় এক ভারী বোঝার নিচে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই শূন্যতা বুঝি কোনোদিন পূর্ণ হবে না।
কিন্তু আজকের সুসমাচারে যীশুর সেই কথাটি শুনুন: “তোমাদের মধ্যে যে মহান, সে যেন সেবক হয়।”
বেনের জীবনটি ছিল ঠিক এমনই এক নির্মল, বিনম্র ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
বেন ছিল প্রখর মেধার অধিকারী, অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধির এক কিশোর। কিন্তু তার এই উজ্জ্বল মননের পেছনে কোনো অহংকার ছিল না, কোনো আত্মপ্রচার ছিল না। সে কখনো নিজেকে জাহির করতে চাইত না। ক্রীড়াঙ্গনে, ব্যাডমিন্টন কোর্টে কিংবা বাস্কেটবলের অনুশীলনে সে তার পুরো শক্তি দিয়ে চেষ্টা করত। তার জীবনে একটি সুন্দর মূলমন্ত্র ছিল: “চেষ্টা করাই আসল কথা।”
সে কোনো পদক বা প্রশংসার জন্য খেলত না; সে খেলত নিখাদ আনন্দে এবং কঠোর পরিশ্রমে। যখন সে ব্যাডমিন্টন দলে সুযোগ পেল, তখন তার সেই আনন্দ ছিল বাঁধভাঙা—কিন্তু তা কোনো অহংকারের জয়োচ্ছ্বাস ছিল না, তা ছিল তার পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এক নির্মল, শিশুসুলভ আনন্দ।
বেনের অন্তরে ছিল সেই সেবকের হৃদয়। ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে পরিবারের সাথে তাঁবু টানানোর সময় সে যেভাবে হাসিমুখে সাহায্য করতে এগিয়ে আসত, মুখে সেই মিষ্টি চেনা হাসি আর গলায় বাঁধা রুমাল—তার প্রতিটি আচরণে প্রকাশ পেত এক অনাবিল আন্তরিকতা। সে অন্যের ভার লাঘব করতে জানত।
যিহিষ্কেল যেমন পূর্বদিকের ফটক দিয়ে ঈশ্বরের মহিমা প্রবেশ করতে দেখেছিলেন, তেমনি বেনের এই ছোট্ট পনেরো বছরের জীবনে ঈশ্বরের মহিমা প্রবেশ করেছিল তার সরলতা ও নম্রতার মধ্য দিয়ে।
আজকের দিনে যখন আমরা মা মারীয়াকে স্বর্গের রাণী হিসেবে স্মরণ করি, তখন মনে পড়ে—স্বর্গ কোনো অহংকারীদের স্থান নয়। স্বর্গ হলো সেই বিনম্র সেবকদের চিরন্তন গৃহ, যারা পৃথিবীতে নিখাদ ভালোবাসা দিয়ে গেছে।
মা মারীয়া ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে যে মাতৃহৃদয়ের বেদনা অনুভব করেছিলেন, তিনি আজ অ্যালান ও থাও-এর এই মাতাপিতার অন্তরের ব্যথা সবচেয়ে গভীরভাবে বোঝেন। মা মারীয়া বেনকে তাঁর মাতৃত্বের স্নেহে গ্রহণ করেছেন। আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন আজ স্বর্গের সেই পবিত্র প্রাঙ্গণে, মা মারীয়ার স্নেহময় আঁচলের ছায়ায় এবং প্রভু যীশুর উজ্জ্বল সান্নিধ্যে চির শান্তিতে বিশ্রাম নিচ্ছে।
রায়ান, আমার স্নেহের ভাই, তুমি জানো তোমার দাদা কতটা ভালোবাসত তোমাকে। তার সেই চেষ্টা করার মনোভাব, তার সেই অকপট হাসি—সেগুলো হারিয়ে যায়নি। সে স্বর্গের এক সুরক্ষিত দুর্গ থেকে তোমাকে দেখছে। সে চায় তুমি প্রতিদিন হাসিমুখে স্কুলে যাও, মন দিয়ে খেলো, এবং বাবা-মায়ের পাশে এক অবিচল শক্তির মতো দাঁড়াও। তার ভালোবাসা তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে নিঃশব্দে কাজ করছে।
আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা একাকীত্ব বা অসুস্থতার ভারী ক্রুশ নিয়ে আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে যে ছোট্ট শিশুরা যন্ত্রণার সাথে লড়াই করছে এবং যে পিতা-মাতারা ক্লান্ত চোখে অশ্রু মুছছেন—আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের ভুলে যাননি। যীশু কোনো দূরবর্তী বিচারক নন; তিনি সেই মেষপালক যিনি আমাদের সকল দুঃখের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন।
আসুন, আজকের এই পবিত্র উৎসব থেকে আমরা একটি ছোট সত্য আমাদের অন্তরে ধারণ করি।
আমরা যেন পার্থিব সম্মান বা উঁচু আসনের পেছনে না ছুটি। বরং আজ আমরা যেন ঘরে বা বাইরে কোনো একজনের জন্য একটি ছোট, নিঃস্বার্থ সেবার কাজ করি—কোনো প্রশংসা ছাড়া, কোনো লোকদেখানো প্রচার ছাড়া, কেবল বিশুদ্ধ ভালোবাসায়।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি আপনাদের গৃহকে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া, স্বর্গরাণী, আপনাদের অশ্রু মুছে তাঁর স্নেহময় কোলে আশ্রয় দিন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো প্রভুর অনন্ত মহিমার আলোয় চিরকাল আনন্দে বেঁচে থাকুক।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর—পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা—আপনাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন এবং তাঁর অনন্ত শান্তিতে নিরাপদে রাখুন। খ্রীষ্টের প্রেমে শান্তিতে জীবনযাপন করুন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।