পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও ঈশ্বরের ভালোবাসা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো-এর স্মরণে সমবেত হয়েছি, আমার মনে পড়ছে সেই ছবিটির কথা—যেখানে বেন আর তার ছোট ভাই রায়ান একটি বিশাল ডাইনোসরের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মুখে মাস্ক, মাথায় ক্যাপ, আর দুজনেই হাত দিয়ে বিজয়ের চিহ্ন বা 'পিস সাইন' দেখাচ্ছে। দশ বছর বয়সী বেনের সেই হাসি, সেই নিষ্পাপ আনন্দ—আজ যখন আমরা তার অনুপস্থিতির তিন মাস পার করছি, তখন সেই ছবিটা আমাদের কেবল একটা স্মৃতির অ্যালবাম নয়, বরং এক গভীর সত্যের আয়না হয়ে ধরা দেয়। সেই ছবিতে বেন কেবল দাঁড়িয়ে ছিল না, সে যেন জীবনের সেই অদম্য কৌতূহল নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ছিল।
আজকের প্রথম পাঠে সিরকের গ্রন্থকার আমাদের বলছেন, “ক্রোধ ও রাগ ঘৃণ্য জিনিস, কিন্তু পাপী সেগুলোকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।” আমরা যখন শোকের সাগরে ভাসি, তখন আমাদের হৃদয়ে অনেক সময় এক ধরণের রূঢ়তা বা প্রশ্ন দানা বাঁধে। কেন এমন হলো? কেন এই অকাল বিদায়? এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা এক ধরণের ক্রোধ বা তিক্ততায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু সিরক আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন, “তোমার প্রতিবেশীর অন্যায়ের কথা ভুলে যাও; তারপর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তোমার নিজের পাপ ক্ষমা করা হবে।” এটি কেবল একটি উপদেশ নয়, এটি হলো এক গভীর মুক্তি। ক্ষমা করা মানে এই নয় যে আমরা শোক ভুলে গেছি; ক্ষমা করা মানে হলো, আমরা সেই পাথরটি নামিয়ে ফেলছি যা আমাদের ঈশ্বর থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।
আপনারা যারা আজ বেনের জন্য কাঁদছেন—অ্যালান, থাও, রায়ান—আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের কাছে কত দীর্ঘ। বেনের সেই উজ্জ্বল উপস্থিতি, তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, তার বাবার সাথে রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার সেই অভ্যেস—এগুলো এখন কেবল স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি। আপনারা কি কখনো ভাবেন, কেন এই পরীক্ষা? কেন ঈশ্বর আমাদের এত প্রিয়জনকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নিলেন? অনেক সময় আমরা নিজেদেরই দোষারোপ করতে শুরু করি। ‘আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম?’ এই প্রশ্নগুলো এক বিশাল বোঝার মতো আপনাদের বুকের ওপর চেপে বসে।
আজকের সুসমাচারে যীশু সেই পাথরটি আপনাদের বুক থেকে সরিয়ে নিতে চান। যীশু যখন সেই অকৃতজ্ঞ ভৃত্যের কথা বললেন, যিনি তার বিশাল ঋণ ক্ষমা পাওয়ার পরেও তার সহকর্মীকে ক্ষমা করতে পারলেন না, তখন তিনি আমাদের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করালেন। ঈশ্বর আমাদের সেই বিশাল ঋণ—আমাদের সমস্ত দুর্বলতা, আমাদের সমস্ত ত্রুটি—ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের সেই দয়া দিয়ে জড়িয়ে রেখেছেন, যা আকাশের উচ্চতার চেয়েও বেশি। প্রিয় বাবা-মা, আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা কোনো খুঁতযুক্ত ভালোবাসা ছিল না। আপনারা তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। বেনের সেই অসুখ, তার এই চলে যাওয়া—এগুলো কোনো পাপের ফল নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনারা বরং এক অসীম ধৈর্যের সাথে সেই কঠিন পথটি পাড়ি দিয়েছেন, যা কোনো মানুষ একা করতে পারে না। আজ যীশুর সেই করুণাময় দৃষ্টিতে নিজেদের দেখুন। তিনি আপনাদের দোষী করছেন না, তিনি আপনাদের জড়িয়ে ধরে আছেন। সেই অপরাধবোধের পাথরটি আজ বেনের স্মৃতির সামনে সমর্পণ করুন।
বেন ছিল এক অসাধারণ ছেলে। তার সেই মেধাবী মন, তার সেই কোডিং-এর জগত, আর বিশেষ করে তার সেই উদার হৃদয়ের কথা ভাবুন। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল—সে তো আসলে নিজের পুরো পৃথিবীটাকেই বিলিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল তার ভালোবাসার অকৃত্রিমতাটুকু তুলে ধরেছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। আজ যখন আমরা বেনের নামে সেই ‘ভালোবাসার কূপ’ খনন করেছি, তখন সেই জল কেবল তৃষ্ণার্তদের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে না, তা বেনের সেই ছোট হৃদয়ের ভালোবাসাকে আজও জীবিত রেখেছে। তার সেই ভালোবাসা আজ সিয়া মাউ-এর মানুষের জীবনে এক নতুন আশার ধারা হয়ে বইছে।
সাধু পৌল আজকের দ্বিতীয় পাঠে আমাদের বলছেন, “আমরা যদি বাঁচি, প্রভুর জন্যই বাঁচি, আর যদি মরি, প্রভুর জন্যই মরি; সুতরাং আমরা বাঁচি বা মরি, আমরা প্রভুরই।” বেন আজ প্রভুরই। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে এখন সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, “বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।”
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। বেনের সেই হাসিটি আজ আপনাদের হৃদয়ে অনুভব করুন। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখবেন, বেনের ভালোবাসা কখনো শেষ হয়নি; তা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন। তিনি আপনাদের ওপর তাঁর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করুন এবং আপনাদের শান্তি দান করুন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।