পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও অনুগ্রহ আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো-এর স্মরণে সমবেত হয়েছি, আমার চোখের সামনে একটি স্থিরচিত্র ভেসে উঠছে। এটি কোনো বড় উৎসবের ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট শৈশবের একটি মুহূর্ত। বেন তার পড়ার টেবিলে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে একটি কাঠের নাটক্র্যাকার পুতুল সাজাচ্ছে। তার পরনে একটি আরামদায়ক ধূসর হুডি, আর তার পাশে রাখা লাল রঙের বালতিতে রং-বেরঙের সরঞ্জাম। সে খুব মন দিয়ে পুতুলটির মুখে নীল রঙের সূক্ষ্ম কাজ করছে। সেই মুহূর্তটি ছিল শান্ত, স্থির এবং এক অদ্ভুত নিস্পৃহতায় ভরা। সাত বছর বয়সী বেন যেন তখন তার নিজের ছোট এক জগতে ছিল, যেখানে সৃষ্টির আনন্দই ছিল একমাত্র সত্য। আজ যখন আমরা শোকের এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছি, সেই স্থিরতা আমাদের কাছে এক পরম আকাঙ্ক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধু পৌল আজকের প্রথম পাঠে আমাদের একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় কথা বলছেন: “খ্রীষ্টের রক্ত ও দেহের সহভাগিতা কি আমরা পালন করছি না?” তিনি আমাদের সতর্ক করছেন যেন আমরা কোনো মিথ্যা বা অসার জিনিসের পেছনে না ছুটি। তিনি বলছেন, “তোমরা কি প্রভুর পানপাত্র এবং মন্দশক্তির পানপাত্র একই সাথে পান করতে পারো?” আমাদের জীবন অনেক সময় এই দ্বন্দ্বে ভরা থাকে। আমরা একদিকে ঈশ্বরকে খুঁজি, আবার অন্যদিকে এই পৃথিবীর দুঃখের সাগরে হারিয়ে গিয়ে মনে করি ঈশ্বর আমাদের ভুলে গেছেন। কিন্তু পৌল আমাদের বলছেন, আমরা সবাই এক রুটির অংশীদার। আমরা সবাই সেই এক দেহের অঙ্গ। বেনের জীবন ছিল সেই এক দেহের এক উজ্জ্বল ও পবিত্র অঙ্গ। তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, তার বাবার সাথে রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখার সেই নেশা—এগুলো কি কেবল শখ ছিল? না, এগুলো ছিল তার আত্মার এক ধরণের ডানা মেলবার চেষ্টা। সে যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, সে তখন আসলে সেই প্রেমেরই এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে তার সঞ্চয় নিয়ে কোনো বড়াই করেনি। সে কেবল তার বাবা-মাকে বলেছিল সে সাহায্য করতে চায়। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতার পরিচয়। সে কোনো হিসাব করেনি, সে কেবল ভালোবাসতে চেয়েছিল। সেই উদারতা ছিল এক নতুন খামির, যা তার জীবনকে পবিত্র করেছিল।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও, আমি জানি এই দুই মাস ধরে আপনারা কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কোনো সাধারণ শোক নয়, এগুলো হলো আপনাদের হৃদয়ের এক গভীর ক্ষত। আপনারা কি মাঝে মাঝে ভাবেন, কেন এই পরীক্ষা? কেন বেনকে এত তাড়াতাড়ি যেতে হলো? মানুষ যখন শোকের ভারে নুয়ে পড়ে, তখন সে অনেক সময় নিজেকেই দোষারোপ করতে চায়। আপনারা কি ভাবেন, ‘আমরা কি আরও কিছু করতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। কিন্তু আজ যীশু আপনাদের সেই অপরাধবোধের পাথরটি নামিয়ে রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। আজকের সুসমাচারে যীশু বলছেন, “ভালো গাছ কখনো পচা ফল দেয় না, আবার পচা গাছ কখনো ভালো ফল দেয় না।”
এই কথাগুলো কি কেবল একটি নীতিবাক্য? না, এগুলো হলো খ্রীষ্টের প্রতিশ্রুতি। যীশু যখন সেই অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, অসুস্থতা বা মৃত্যু কোনো পাপের ফল নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, তিনি কখনো আপনাদের ভালোবাসাকে অভিযুক্ত করেন না। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা সারা বিশ্বজুড়ে তার সাথে ঘুরেছে, তার ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে ডানা দিয়েছে। বেনের সেই হাসি, সেই কৌতূহল—এগুলো কি হারিয়ে গেছে? না, এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে এখন স্বর্গের সেই ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো অশ্রু নেই, কোনো রোগ নেই।
বেন আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, “বাবা, মা, আমি ভালো আছি।” তার সেই হাসিটি আজ আপনাদের হৃদয়ে অনুভব করুন। রায়য়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় আপনারা একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে ভিয়েতনামের সিয়া মাউ অঞ্চলে যে ‘ভালোবাসার কূপ’ খনন করা হয়েছে, সেখান থেকে যেমন তৃষ্ণার্ত মানুষ জল পাচ্ছে, তেমনি আপনাদের জীবন থেকেও যেন বেনের স্মরণে ভালোবাসার ধারা প্রবাহিত হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন। তিনি তাঁর মুখ আপনাদের প্রতি উজ্জ্বল করুন এবং আপনাদের শান্তি দান করুন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।