পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও ঈশ্বরের প্রেম আপনাদের সকলের অন্তরে বিরাজ করুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করুন। আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আপনার করুণা আমাদের দেখান এবং আমাদের পরিত্রাণ করুন।
আমরা যখন কোনো পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে দাঁড়াই, তখন সেই বিশাল ধাতব পাখিগুলোর গর্জন আর তাদের আকাশে ডানা মেলার দৃশ্য আমাদের মনে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগায়। বেন যখন তার বাবার সাথে বিমানবন্দরের সেই সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকত, তখন সে কেবল একটি যন্ত্রের উড্ডয়ন দেখত না; সে দেখত অসীম আকাশ জয়ের সম্ভাবনা। সেই ছোট ছেলেটির চোখে তখন যে বিস্ময় ছিল, তা ছিল এক পবিত্র কৌতূহল। সে তার নিজের এক কাল্পনিক জগত তৈরি করেছিল—‘কন চিম এয়ারলাইন্স’। সেই নামটির মধ্যে কেবল একটি বাচ্চার কল্পনা ছিল না, ছিল এক অদম্য প্রাণশক্তি, যা তাকে জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছিল। আজ, যখন আমরা তার অনুপস্থিতির দুই মাস পার করছি, সেই রানওয়ের দৃশ্যটি আমাদের জীবনের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
সাধু পৌল আজকের প্রথম পাঠে আমাদের একটি দৌড়বিদের কথা বলছেন। তিনি বলছেন, “দৌড়বিদেরা সবাই দৌড়ায়, কিন্তু পুরস্কার পায় একজনই। তোমরা এমনভাবে দৌড়াও যেন তোমরা পুরস্কার জিততে পারো।” বেন তার ছোট জীবনে ঠিক এভাবেই দৌড়েছিল। সে কোনো অলস দর্শক ছিল না। সে ছিল একজন অ্যাথলেট, যে তার প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি কোডিং-এর লাইনে, প্রতিটি গণিতের সমস্যায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল। সে যখন বাস্কেটবল ট্রায়ালের জন্য ঘাম ঝরাচ্ছিল, তখন সে কেবল খেলার জন্য খেলছিল না; সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তুলছিল। পৌল আমাদের সতর্ক করছেন, “আমি আমার শরীরকে শাসন করি ও বশীভূত করি।” বেন তার শরীরকে শাসন করেনি, সে তার শরীরকে ভালোবেসেছিল, তার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সে হাসিমুখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল। সে জানত যে, এই পৃথিবীর দৌড় হয়তো শেষ হবে, কিন্তু যে পুরস্কারের জন্য সে দৌড়াচ্ছে, তা অবিনশ্বর।
কিন্তু প্রিয়জন, আমরা কি আজ সেই দৌড় থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? অ্যালান, থাও, আমি জানি আপনাদের হৃদয়ের সেই গহ্বরটি কতটা গভীর। সেই সকালের নীরবতা যখন বেনের হাসির শব্দে আর মুখরিত হয় না, তখন মনে হয় দৌড়টি বুঝি এখানেই থমকে গেল। আপনারা কি কখনো ভাবেন, কেন এই দৌড়? কেন আমাদের এত দ্রুত আপনজনকে হারাতে হয়? অনেক সময় শোকের ভারে আমরা আমাদের চোখের সামনের ‘কাঠের কড়িকাঠ’ দেখতে পাই না। যীশু আজকের সুসমাচারে আমাদের বলছেন, “অন্ধ কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারে?” আমরা যখন শোকের অন্ধকারে পথ খুঁজি, তখন আমরা নিজেদেরই দোষারোপ করতে শুরু করি। ‘আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ ‘আমরা কি বেনকে বাঁচাতে আরও কিছু করতে পারতাম?’ এই প্রশ্নগুলো এক বিশাল কড়িকাঠের মতো আমাদের চোখের সামনে ঝুলে থাকে, যা আমাদের ঈশ্বরের শান্তি দেখতে বাধা দেয়।
আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। এই পৃথিবীতে কিছু শোক এমনভাবে আসে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা সারা বিশ্বজুড়ে তার সাথে ঘুরেছে, যা তাকে লর্ডস এবং ভ্যাটিকানের পবিত্রতা দেখিয়েছে। সেই ভালোবাসা কোনোদিন ব্যর্থ হয়নি। আপনারা নিজেদের দোষারোপ করা বন্ধ করুন। যীশু যেমন সেই অন্ধ মানুষটিকে সুস্থ করেছিলেন, তেমনি আজ তিনি আপনাদের চোখের সেই অপরাধবোধের কড়িকাঠটি সরিয়ে নিতে চান। তিনি চান আপনারা যেন স্পষ্ট দেখতে পান—বেন ভালো আছে। সে ঈশ্বরের পরম শান্তিতে আছে।
বেনের জীবনের একটি ছোট মুহূর্তের কথা ভাবুন। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল তার হৃদয়ের উদারতাটুকু তুলে ধরেছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে তার নিজের সম্পদ দিয়ে নয়, তার প্রেমের অকৃত্রিমতা দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। আজ যখন আমরা বেনের নামে সেই ‘ভালোবাসার কূপ’ খনন করেছি, তখন সেই জল কেবল তৃষ্ণার্তদের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে না, তা বেনের সেই ছোট হৃদয়ের ভালোবাসাকে আজও জীবিত রেখেছে।
রায়য়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। সে আজ স্বর্গের সেই রানওয়ে থেকে তোমাদের জন্য আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে। সে হয়তো এখন ঈশ্বরের সাথে সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কোনো এক নতুন গন্তব্যের পরিকল্পনা করছে, যেখানে কোনো কষ্ট নেই, কোনো কান্না নেই।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।