আমাদের পিতা ঈশ্বর এবং প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ ও শান্তি আপনাদের সহবর্তী হোক। আসুন, আমরা ক্রুশ চিহ্নের মধ্য দিয়ে আমাদের আজকের এই প্রার্থনা শুরু করি: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন, কারণ আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আপনার করুণা আমাদের দেখান, এবং আমাদের পরিত্রাণ দান করুন। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, আমাদের পাপ ক্ষমা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
একটি অন্ধকার, সংকীর্ণ কারাগারের কক্ষের কথা কল্পনা করুন …
সেখানে কোনো আলো নেই, কোনো কোলাহল নেই। কেবল পাথুরে দেওয়ালের গা বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ার মৃদু শব্দ আর এক গভীর, ভারী নীরবতা। সেই অন্ধকারের মাঝে বসে আছেন একজন মানুষ—সাধু যোহন বাপ্তাইজক। তাঁর শরীর হয়তো শিকলে বাঁধা, কিন্তু তাঁর আত্মা ছিল সম্পূর্ণ মুক্ত। সেই অন্ধকার ঘরের একটি ছোট্ট ঘুলঘুলি দিয়ে যদি আকাশের দিকে তাকানো যেত, তবে কী দেখা যেত? হয়তো দেখা যেত এক বিশাল, নীল আকাশ। আর সেই আকাশে ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে একটি স্বাধীন পাখি। সেই পাখিটিকে কোনো শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না, কোনো কারাগারের প্রাচীর তাকে বন্দি করতে পারে না। সে আকাশের বুকে নিজের ইচ্ছেমতো উড়ে বেড়ায়, যেন সে এক অনন্ত স্বাধীনতার গান গাইছে।
আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা সাধু যোহন বাপ্তাইজকের প্রাণদানের স্মৃতি পালন করছি, তখন আমাদের সামনে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ভেসে ওঠে। একদিকে হেরোদের বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ, যেখানে আলো, গান, নাচ আর মদের ফোয়ারা বইছে। সেখানে ক্ষমতার দম্ভ আছে, কিন্তু সেই প্রাসাদের ভেতরের মানুষগুলো আসলে নিজেদের অহংকার, ভয় আর লোকলজ্জার শিকলে বন্দি। আর অন্যদিকে, সেই অন্ধকার কারাগার, যেখানে যোহন বাপ্তাইজক নিঃশব্দে বসে আছেন, যিনি বাহ্যিকভাবে বন্দি হলেও অন্তরে ঈশ্বরের পরম শান্তিতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
এই যে আকাশের উড্ডয়ন, এই যে মুক্ত ডানার স্বাধীনতা—এটিই আজ আমাদের ধ্যানমগ্ন করে।
আজ ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ সাল। গত ১৩ই জুন আমাদের আদরের বেঞ্জামিন ভো, আমাদের সবার প্রিয় বেন, আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আজ প্রায় আড়াই মাস হতে চলল।
আমি জানি, এই আড়াই মাসের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত আপনাদের জন্য কতটা দীর্ঘ ছিল। শোকের প্রথম দিকের সেই তীব্র অনুভূতি, মানুষের সান্ত্বনার ভিড় এখন হয়তো অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। আর এখন নেমে এসেছে সেই আসল নিস্তব্ধতা। সেই নিস্তব্ধতা, যা বেনের শূন্য ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। সেই নিস্তব্ধতা, যা বেনের পড়ার টেবিল, তার কিবোর্ড, আর তার সেই প্রিয় জিনিসগুলোর ওপর ধুলোর মতো জমে থাকে।
সত্যিটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই। এই সময়ে এসে সান্ত্বনা দেওয়া খুব কঠিন। কারণ, ফাঁকা চেয়ারটি এখনও ওভাবেই পড়ে আছে। প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও — আপনাদের বুক চিরে যে কান্না আসে, তা কোনো সাধারণ কথায় মুছে ফেলা যায় না। আপনাদের মনে হতে পারে, এই আড়াই মাস ধরে আপনারা এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর রাতের প্রহরার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে মধ্যরাতের অন্ধকার যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না।
কিন্তু ঠিক এই অন্ধকারের মাঝেই আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল করিন্থীয়দের যা লিখছেন, তা আমাদের হৃদয়ে এক নতুন আলোর সঞ্চার করে। তিনি বলছেন: "ঈশ্বর জগতের যা দুর্বল, তা-ই মনোনীত করেছেন, যেন বলবানদের লজ্জিত করেন; এবং ঈশ্বর জগতের যা হীন ও হেয়, যা কিছুই নয়, তা-ই মনোনীত করেছেন, যেন যা কিছু আছে, তা লোপ করেন; যেন ঈশ্বরের সম্মুখে কোনো মানুষ শ্লাঘা না করে।"
জগৎ যাকে দুর্বল বলে, ঈশ্বর তাকেই তাঁর মহিমার জন্য বেছে নেন। মানুষের চোখে যা পরাজয়, ঈশ্বরের চোখে তা এক মহান বিজয়। সাধু যোহন বাপ্তাইজকের জীবনও মানুষের চোখে এক চরম ট্র্যাজেডি বা ব্যর্থতা বলে মনে হতে পারে। একজন মহান ভাববাদী, যিনি যীশুর পথ প্রস্তুত করেছিলেন, তাঁকে কি না এক নর্তকীর খেয়ালের বশে, এক মাতাল রাজার আদেশে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হলো? তাঁর মাথাটি একটি থালায় করে নিয়ে যাওয়া হলো এক প্রতিহিংসাপরায়ণ নারীর কাছে। মানুষের বুদ্ধিতে এটি এক চরম অন্যায়, এক অর্থহীন সমাপ্তি।
কিন্তু ঈশ্বরের প্রজ্ঞায়, যোহনের সেই কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়নি। হেরোদের সেই প্রাসাদ আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে, হেরোদিয়ার নাম আজ কেবল এক কলঙ্কিত ইতিহাস, কিন্তু যোহন বাপ্তাইজকের সত্যের সেই কণ্ঠস্বর আজ দুই হাজার বছর পরেও বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তিনি আজ স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয় ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর উড্ডয়ন ছিল ঈশ্বরের দিকে, যা কোনো পার্থিব তরবারি কেটে ফেলতে পারেনি।
আসুন, আজ আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিনের জীবনের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও মধুর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে জাগিয়ে তুলি। বেন ছিল এক অসাধারণ মেধার অধিকারী কিশোর, যার বুদ্ধি ও প্রতিভা সবাইকে চমকে দিত। কিন্তু তার সেই তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণধর্মী মনের গভীরে ছিল এক নিষ্পাপ, সরল এবং আনন্দময় শিশুমন।
বেনের একটি স্বপ্ন ছিল, যা সে প্রায়ই তার মা-বাবার সাথে শেয়ার করত। সে আকাশে উড়তে ভালোবাসত, বিমানের প্রতি তার ছিল এক গভীর অনুরাগ। সে বোয়িং ৭৩৭ বিমানের খুঁটিনাটি সমস্ত কিছু জানত। আর সে স্বপ্ন দেখত, সে বড় হয়ে একটি বিমান সংস্থা বা এয়ারলাইন্স তৈরি করবে। আর সেই এয়ারলাইন্সের নাম সে কী রেখেছিল, জানেন? সে তার নাম দিয়েছিল 'কন চিম এয়ারলাইন্স' (Con Chim Airlines)—ভিয়েতনামী ভাষায় যার অর্থ 'পাখি এয়ারলাইন্স'।
যখনই বেন এই 'কন চিম এয়ারলাইন্স' নিয়ে কথা বলত, তার চোখ দুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠত। সে খিলখিল করে হেসে উঠত, তার মুখে এক অপূর্ব মিষ্টি হাসি ফুটে উঠত। সে তার বাবাকে বলত কীভাবে তার বিমানগুলো আকাশের বুক চিরে উড়ে যাবে, কীভাবে তারা এক শহর থেকে অন্য শহরে ডানা মেলবে।
একবার ভাবুন তো! পনেরো বছরের একটি ছেলে, যে প্রযুক্তির জটিল কোডিং বোঝে, যে AWS ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে তার বাবার সাথে সমানে আলোচনা করতে পারে, সে যখন তার স্বপ্নের এয়ারলাইন্সের নাম দেয় 'পাখি এয়ারলাইন্স', তখন তার অন্তরের সেই সরলতা আমাদের কতটা স্পর্শ করে! সে আসলে তার হৃদয়ে এক মুক্ত পাখির মতোই বাঁচতে চেয়েছিল। সে এমন এক উড্ডয়নের স্বপ্ন দেখত, যেখানে কোনো সীমানা নেই, কোনো বাধা নেই।
আজ আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন—আমাদের বেন—তার সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর ডানায় ভর করে আমাদের এই পার্থিব জগতের সমস্ত সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে অনেক উঁচুতে উড়ে গেছে। সে আজ স্বর্গের সেই নীল আকাশে, ঈশ্বরের পরম সান্নিধ্যে ডানা মেলে দিয়েছে। এই পৃথিবীর কোনো অসুস্থতা, কোনো শারীরিক কষ্ট আজ আর তাকে বেঁধে রাখতে পারছে না। সে আজ মুক্ত, সম্পূর্ণ মুক্ত।
আজকের এই বিশেষ দিনে, যখন আমরা সাধু যোহন বাপ্তাইজকের প্রাণদানের কথা স্মরণ করছি, তখন ভিয়েতনামের সিয়া মাউ (Cà Mau) অঞ্চলের সেই সুন্দর উপহারটির কথা আমাদের মনে পড়ে। বেনের নামে উৎসর্গীকৃত সেই 'ভালোবাসার কূপ'—যার নাম রাখা হয়েছে 'জিয়েং জিওয়ান বাওতিক্সিতা' (Giếng Gioan Baotixita—সাধু যোহন বাপ্তাইজকের কূপ)—সেটি আজ তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য জীবনদায়ী জল বয়ে নিয়ে আসছে।
কী অপূর্ব এই সংযোগ! সাধু যোহন বাপ্তাইজক, যিনি জর্ডন নদীতে মানুষকে বাপ্তিস্মের জল দিয়ে নতুন জীবনের পথ দেখিয়েছিলেন, আজ তাঁরই নামে উৎসর্গীকৃত কূপ থেকে বেনের ভালোবাসার জল প্রবাহিত হচ্ছে। জল যেমন জীবন দেয়, তেমনি বেনের এই স্মৃতি আজ বহু মানুষের জীবনে আশা ও বেঁচে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। বেনের জীবন হয়তো এই পৃথিবীতে মাত্র পনেরো বছরের ছিল, কিন্তু তার সেই ভালোবাসার কূপ আজ প্রমাণ করছে যে, তার জীবনটি কোনো অসমাপ্ত গল্প নয়। তার ভালোবাসার ধারা আজও প্রবাহিত হচ্ছে, তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।
মাঝে মাঝে এই ধরনের গভীর শোকের রাতে, পিতা-মাতার মনে এক অদ্ভুত এবং ভারী পাথর চেপে বসে। মনের অলক্ষে এক নীরব অপরাধবোধ আমাদের গ্রাস করতে চায়। আমরা ভাবতে শুরু করি, "আমি কি আরও একটু ভালো করতে পারতাম? আমি কি কোনো লক্ষণ মিস করেছি? কেন আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না? আমি কি কোথাও ভুল করেছিলাম?"
আজ যীশুর সেই পরম সত্যটি আপনাদের হৃদয়ে গ্রহণ করুন। যীশু যখন সেই জন্মঅন্ধ লোকটিকে দেখেছিলেন, শিষ্যরা জিজ্ঞেস করেছিল, "কার পাপের জন্য এমন হলো? এই লোকের না তার পিতা-মাতার?" যীশু স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "কারো পাপের জন্য নয়, বরং ওর জীবনে ঈশ্বরের কাজ যেন প্রকাশিত হয়, এই জন্যই এমন হয়েছে।"
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও — বেনের এই চলে যাওয়া কোনো অবহেলা বা ভুলের শাস্তি নয়। ঈশ্বর কখনো রোগ বা মৃত্যু পাঠান না। এই পৃথিবীতে কিছু দুঃখ সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আসে। আপনারা বেনকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ছিল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। আপনারা তার সাথে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন, তার শখের বোয়িং ৭৩৭ প্লেন দেখার জন্য এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েছেন, তার স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলতে সাহায্য করেছেন। আপনারা কোনো ভুল করেননি। আপনাদের ভালোবাসা ছিল নিখুঁত। আজ সেই অপরাধবোধের পাথর হৃদয় থেকে ফেলে দিন। ঈশ্বর আপনাদের অন্তরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখেছেন। আপনারা বেনের জীবনের আকাশে যে ডানা দিয়েছিলেন, তা ছিল আপনাদের মাতাপিতার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি, যোহনের মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যেরা এসে তাঁর দেহটি নিয়ে গেলেন এবং একটি কবরে রাখলেন। তারা শোক করেছিলেন, কিন্তু তারা সেখানেই থেমে যাননি। তারা যীশুর কাছে গিয়ে সব কথা জানিয়েছিলেন।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও — আজ আপনাদেরও সেই যীশুর কাছে আসতে হবে। আপনাদের এই ভাঙা হৃদয়, আপনাদের এই অন্তহীন অশ্রু—সবকিছু যীশুর চরণে সঁপে দিন। তিনি আপনাদের এই ক্ষতকে নিরাময় করতে চান। বেনের সেই মিষ্টি হাসি, তার সেই খিলখিল করে ওঠা হাসি আজ স্বর্গের দেবদূতদের মাঝে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সে আজ স্বর্গের সেই পরম শান্তিতে, সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে প্রভুর সান্নিধ্যে আনন্দ করছে। সে আজ আর কোনো কষ্টের মধ্যে নেই।
রায়য়ান, আমার স্নেহের ছোট ভাই — তোমার বড় ভাই বেন তোমাকে কতটা ভালোবাসত, তা তুমি জানো। তোমরা একসাথে কত খেলেছ, কত সুন্দর সময় কাটিয়েছ। আজ তোমার দাদা শারীরিকভাবে তোমার পাশে নেই, কিন্তু তার সেই লড়াকু মনোভাব — "চেষ্টা করাই আসল কথা" — তা সে তোমার হৃদয়ে রেখে গেছে। তুমি তোমার বাবা-মায়ের পাশে এক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াও। তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো, খেলাধুলা করো। তোমার প্রতিটি হাসিতে, তোমার প্রতিটি সাফল্যে বেনের প্রদীপের আলো জীবন্ত থাকবে। তোমার বাবা-মায়ের এখন তোমাকে খুব প্রয়োজন। তুমি তাদের হাত শক্ত করে ধরো।
আজ দূর-দূরান্ত থেকে যারা আমাদের এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন — বিশেষ করে যে পরিবারগুলো কোনো অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন, যারা কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে গভীর শোকের ক্রুশ বহন করছেন — আপনারা জেনে রাখুন, ঈশ্বর আপনাদের দেখছেন। তিনি আপনাদের রাতের সেই নীরব অশ্রু চেনেন। তিনি আপনাদের হৃদয়ের পাত্রটিকে তাঁর অনুগ্রহের শান্তিতে পূর্ণ করতে চান।
আসুন, আজকের এই পবিত্র লিটার্জি থেকে আমরা একটি ছোট কিন্তু গভীর সত্য আমাদের সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরি।
যখনই আমরা আকাশের দিকে তাকাব, যখনই আমরা কোনো পাখিকে মুক্ত ডানা মেলে উড়ে যেতে দেখব, আমরা যেন বেনের সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর কথা স্মরণ করি। আমরা যেন মনে রাখি যে, আমাদের প্রিয়জনেরা ঈশ্বরের সেই অন্তহীন আকাশে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বেঁচে আছে। মৃত্যু আমাদের ভালোবাসাকে কেড়ে নিতে পারে না। বেনের সেই ভালোবাসার কূপের মতো, আমাদের জীবন থেকেও যেন প্রতিদিন ছোট ছোট দয়া ও ভালোবাসার জল প্রবাহিত হয়।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরম শান্তি আপনাদের গৃহ ও হৃদয়কে পূর্ণ করুক। ধন্য কুমারী মারীয়া তাঁর মাতৃত্বের আঁচল দিয়ে আপনাদের সমস্ত ক্ষত ঢেকে রাখুন। এবং আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো স্বর্গের সেই চিরন্তন আলোয়, সাধু যোহন বাপ্তাইজক ও সাধু কার্লোর সাথে প্রভুর সান্নিধ্যে শান্তিতে বিশ্রাম করুক।
আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং সমস্ত মন্দ থেকে রক্ষা করুন, আর আপনাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আশীর্বাদ আপনাদের ওপর বর্ষিত হোক: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।