পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা প্রভুর চরণে সমবেত হয়েছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি অতি সাধারণ কিন্তু গভীর অর্থবহ দৃশ্য। এটি কোনো বিশাল কোনো ঘটনার ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট এক সময়ের ছবি—বেন এবং তার ভাই রায়ান, দুজনে মিলে বিমানবন্দরের কাঁচের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে নীল আকাশে মেঘের আনাগোনা, আর তারা দুজন মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখছে বিশাল সব বিমানের ওঠানামা। বেনের সেই চোখে ছিল এক অসীম কৌতূহল, যেন সে আকাশের প্রতিটি কোণকে নিজের হৃদয়ে বন্দি করতে চাইছে। সেই মুহূর্তটি ছিল শান্ত, স্থির এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। আজ, যখন আমরা বেনের প্রস্থানের তিন মাস পার করছি, সেই বিমানের অপেক্ষা আর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছেলেটির ছবি যেন আমাদের আজকের পাঠের সাথে এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন তৈরি করে।
আজকের সুসমাচারে আমরা এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখি। যীশু এক ফরীশীর বাড়িতে নিমন্ত্রিত। সেখানে এক নারী, যার জীবনের ইতিহাস হয়তো সমাজের চোখে খুব একটা সম্মানজনক ছিল না, সে যীশুর পায়ের কাছে এসে অশ্রু বিসর্জন করছে। সে তার চুল দিয়ে যীশুর পা মুছছে এবং সুগন্ধি তৈল দিয়ে তা অভিষিক্ত করছে। ফরীশী শিমোন মনে মনে ভাবছে, ‘এই লোক যদি নবী হতো, তবে সে জানত এই নারী কেমন।’ কিন্তু যীশু তার হৃদয়ের কুটিলতা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি শিমোনকে একটি গল্পের মাধ্যমে বোঝালেন—যাকে বেশি ক্ষমা করা হয়েছে, সে-ই বেশি ভালোবাসে।
এখানেই কি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি লুকিয়ে নেই? আমরা প্রায়ই ভাবি, ভালোবাসা মানে কোনো অর্জনের পুরস্কার। কিন্তু যীশু বলছেন, ভালোবাসা হলো ক্ষমার প্রতিদান। সেই নারী, যার অনেক পাপ ছিল, সে যীশুর অসীম করুণার স্পর্শ পেয়েছিল। সে যীশুর পায়ের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিল কারণ সে অনুভব করেছিল—সেখানে তার কোনো বিচার নেই, আছে শুধু গ্রহণ করার এক বিশাল হৃদয়।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও, আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের জন্য কেমন। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের হৃদয়কে প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—‘না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।’ বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
বেন ছিল এক অসাধারণ বালক। তার সেই মেধাবী মন, তার সেই কোডিং-এর জগত, আর বিশেষ করে তার সেই উদার হৃদয়ের কথা ভাবুন। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল—সে তো আসলে নিজের পুরো পৃথিবীটাকেই বিলিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল তার ভালোবাসার অকৃত্রিমতাটুকু তুলে ধরেছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সেই ছোট ছেলেটি, যে তার পিগি ব্যাংক দিয়ে তার প্রিয়জনকে বাঁচাতে চেয়েছিল, সে আজ ঈশ্বরের সেই অসীম ভাণ্ডারে আছে, যেখানে আর কোনো অভাব নেই।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল বলছেন, ‘খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মারা গেলেন, কবরস্থ হলেন এবং শাস্ত্র অনুসারে তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হলেন।’ এটিই আমাদের খ্রীষ্টান বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। আমরা কেবল একজন মৃত মানুষের কথা বলছি না, আমরা এমন এক জীবিত প্রভুর কথা বলছি, যিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন। বেন আজ সেই জীবিত প্রভুর সান্নিধ্যে আছে। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, ‘বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।’
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখবেন, বেনের ভালোবাসা কখনো শেষ হয়নি; তা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের হৃদয়ে তাঁর শান্তি বজায় রাখুন। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।