পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমিন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে আমরা যখন সাধু তেরেসা অব আভিলা-র কথা স্মরণ করি, তখন আমাদের সামনে ভেসে ওঠে সেই মহিলার চিত্র, যিনি ঈশ্বরের রহস্যের গভীর অতলে ডুব দিতে ভয় পাননি। তিনি বলতেন, ‘ঈশ্বরই যথেষ্ট।’ তাঁর এই সরল অথচ গভীর বিশ্বাস আজকের পাঠের সাথে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। সাধু পল এফিষীয়দের চিঠিতে লিখছেন, ‘তিনি আমাদের ভালোবেসে যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে নিজেকে দত্তক নেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন।’ এই নির্বাচন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ।
এই পরিকল্পনার কথা ভাবতে গিয়েই আমার মনে পড়ছে আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের কথা। বেন ছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো—যার বুদ্ধি, যার কৌতূহল, আর তার সেই অসীম হৃদয়ের গভীরতা আমাদের সবাইকে অবাক করে দিত। মনে আছে, একবার সে তার বাবার সাথে বসে বিমানের রুট নিয়ে কত না আলোচনা করত? তার সেই নিজস্ব এয়ারলাইন্স ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা বলতে গিয়ে তার চোখে যে আনন্দ আর মুখে যে হাসি ফুটে উঠত, তা ছিল যেন ঈশ্বরেরই এক ছোট প্রতিচ্ছবি। বেন কেবল কোডিং বা গণিতের জটিল সমীকরণেই দক্ষ ছিল না, সে ছিল ভালোবাসার এক কারিগর।
আজকের গসপেলের দিকে তাকালে আমরা যীশুকে এক কঠোর সত্যের মুখোমুখি দেখি। তিনি ফরীশীদের সাবধান করছেন, কারণ তারা ধর্মের বাহ্যিক নিয়ম নিয়ে ব্যস্ত ছিল কিন্তু হৃদয়ের সত্যকে হারিয়ে ফেলেছিল। তারা নবীদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ গড়ত, কিন্তু নবীদের যে বার্তা, তা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হতো। যীশু বলছেন, ‘তোমরা জ্ঞানের চাবিকাঠি সরিয়ে ফেলেছ।’ এই ‘জ্ঞানের চাবিকাঠি’ কী? এটি হলো সেই সরল বিশ্বাস, যা দিয়ে ঈশ্বরকে চেনা যায়। বেন এই চাবিকাঠিটি খুব সহজেই পেয়েছিল। সে জটিলতাকে ভালোবাসত, কিন্তু তার হৃদয়ের সরলতা কখনো নষ্ট হয়নি।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন কত দীর্ঘ মনে হয়। যখন আপনারা সেই ঘরটিতে হাঁটেন যেখানে বেনের কম্পিউটারটি এখন নিস্তব্ধ, তখন কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগে না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমার কি কোথাও কোনো ভুল হয়ে গেল? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম?’ আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
বেনের জীবনের কথা ভাবলে আমার মনে পড়ে তার সেই অদম্য কৌতূহলের কথা। সে ছিল এক আধুনিক দিনের অভিযাত্রী। সে যখন তার বাবার সাথে ইউরোপের সেই ভ্রমণে ছিল, কিংবা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কোডিং করত, তখন সে কি জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন? সে জানত না, কিন্তু ঈশ্বর জানতেন। মনে পড়ে সেই পিগি ব্যাংকের কথা? যখন তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ ছিলেন, তখন ১৫ বছরের সেই বালক তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে।
আজকের গসপেলের সেই ‘জ্ঞান’-এর অভাব আমাদের অনেক সময় শোকের সময় নিজেকে দোষী ভাবতে বাধ্য করে। কিন্তু যীশু আজ আমাদের বলছেন, ‘ভেতরের দিকে তাকাও।’ আপনার ভেতরের সেই ভালোবাসা, যা দিয়ে আপনি বেনকে বড় করেছেন, সেই ভালোবাসাটিই পবিত্র। বেন আজ সেই স্বর্গের ভোজে আছে, যেখানে কোনো অসুস্থতা নেই, কোনো দুঃখ নেই। তার সেই হাসি, তার সেই স্বপ্নগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানের স্বপ্নময় লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমিন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।