পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সবার সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে, যখন চার্চ স্বর্গদূতদের কথা স্মরণ করে, আমাদের মন এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরে ওঠে। আমরা আজ সেই অদেখা জগতের কথা ভাবছি, যেখানে ঈশ্বরের দূতরা অবিরাম তাঁর সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু এই স্বর্গীয় চিন্তার মাঝে, আমাদের চোখ বারবার ফিরে আসছে আমাদের প্রিয় বেনের দিকে। বেন, যে এখন সেই স্বর্গীয় সভারই এক অংশ, যেখানে কোনো সীমানা নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
আজকের প্রথম পাঠে আমরা জবের সেই বিখ্যাত দৃশ্যটি দেখছি। ঈশ্বর ঝড়ের মধ্য থেকে জবের সাথে কথা বলছেন। জব, যিনি তার জীবনের সব হারিয়ে এক চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি ঈশ্বরকে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তাকে কোনো তাত্ত্বিক উত্তর দেননি। ঈশ্বর তাকে বলেছিলেন, 'তুমি কি সকালের প্রভাতকে আদেশ দিয়েছ? তুমি কি সমুদ্রের গভীরতা দেখেছ?' ঈশ্বর জবকে তার সৃষ্টির অসীমতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। জব যখন সেই অসীম মহিমার সামনে দাঁড়ালেন, তখন তার সমস্ত অভিযোগ ধুলোয় মিশে গেল। তিনি কেবল বললেন, 'আমি অতি তুচ্ছ, আমি কী উত্তর দেব? আমি আমার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখলাম।'
আমাদের জীবনের অনেক সময় এমন হয়। আমরা যখন আমাদের প্রিয়জনকে হারাই, যখন আমরা সেই শূন্য চেয়ারের দিকে তাকাই, তখন আমাদের মনেও জবের মতো প্রশ্ন জাগে। 'কেন?' এই প্রশ্নটিই কি আমাদের হৃদয়ের সবচেয়ে বড় পাথর নয়? অ্যালান এবং থাও, আপনারা যারা বেনের সেই হাসিমুখ, তার সেই উজ্জ্বল কৌতূহল, তার সেই কম্পিউটারের কোডিং-এর জগতের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে আছেন, আমি জানি এই প্রশ্নটি আপনাদের কতবার বিদ্ধ করেছে। জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে, প্রতিটি সকাল আপনাদের কাছে এক দীর্ঘ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝরাতে যখন ঘরটা বেনের উপস্থিতিতে পূর্ণ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কেবল এক নিঃসঙ্গ নীরবতা থাকে, তখন কি মনে হয় না যে ঈশ্বর অনেক দূরে?
কিন্তু দেখুন, আজকের সুসমাচারে যীশু কী বলছেন। তিনি একটি শিশুকে মাঝখানে দাঁড় করালেন। তিনি বললেন, 'তোমরা যদি শিশুদের মতো না হও, তবে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।' বেন ছিল ঠিক সেই শিশুর মতো। তার সেই সরলতা, তার সেই অকৃত্রিম ভালোবাসা—সেটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। মনে পড়ে, বেনের সেই ছোট পিগি ব্যাংকের কথা? সে যখন তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন সে কোনো বড়াই করেনি। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, 'আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।' সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। বেন যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, বা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কাজ করত, তখন কি সে জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন?
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন।
বেন এখন সেই 'Banquet of Heaven'-এ আছে। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তার সেই স্বপ্নের নতুন কোনো রুট নিয়ে কথা বলছে। আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন, বেনের সেই গিগল বা মৃদু হাসি, যখন সে তার সেই কাল্পনিক 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর কথা ভাবছে? তার সেই কৌতূহল কি থেমে গেছে? না। ঈশ্বর সেগুলোকে আরও প্রশস্ত করেছেন। বেন এখন এমন এক আকাশে ডানা মেলেছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই, কোনো ব্যথা নেই। সে এখন সেই স্বর্গীয় দূতদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, যাদের কথা আজকের দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয়। সে এখন আপনাদের অভিভাবক স্বর্গদূত হয়ে আপনাদের আগলে রাখছে।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
বেনের জীবন ছিল সেই সুসমাচারের মতো—অকপট এবং উদার। সে যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই সে তার হাসি, তার কৌতূহল এবং তার দয়া দিয়ে একটি ঘর তৈরি করেছে। সে এখন সেই চিরস্থায়ী ঘরে, যেখানে যীশু নিজে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত মন্দ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।