পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আমরা যখন আজকের সুসমাচারের সেই শক্তিশালী চিত্রটি দেখি—যেখানে যীশু বলছেন, ‘যখন কোনো শক্তিশালী মানুষ পুরোপুরি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজের প্রাসাদ পাহারা দেয়, তখন তার সম্পদ নিরাপদ থাকে’—তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি অদম্য মনের প্রতিচ্ছবি। বেন, আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো, সে ছিল ঠিক সেই শক্তিশালী মনের অধিকারী। তার সেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, তার সেই কোডিং-এর জগত, আর তার প্রিয় বিমানগুলোর প্রতি সেই গভীর ভালোবাসা—এসবই ছিল যেন তার নিজের এক ছোট জগত, যা সে খুব যত্নের সাথে সাজিয়ে রেখেছিল।
কিন্তু যীশু আজ আমাদের বলছেন, ‘তার চেয়েও শক্তিশালী কেউ যখন আক্রমণ করে তাকে পরাস্ত করে, তখন সে তার সমস্ত অস্ত্র কেড়ে নেয়।’ এই ‘শক্তিশালী কেউ’ অন্য কেউ নয়, তিনি খোদ ঈশ্বর। আমাদের জীবনের সব পরিকল্পনা, আমাদের সব স্বপ্ন, আমাদের সব সাজানো ঘর—সবই আসলে ঈশ্বরের হাতের মুঠোয়। বেন যখন তার বাবার সাথে বসে সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলত, বা যখন সে তার ছোট ভাই রায়ানকে নিয়ে কোনো নতুন গেম কোড করত, তখন সে কি জানত যে তার এই ক্ষুদ্র জগতটি আসলে ঈশ্বরের অনন্ত রাজ্যেরই একটি অংশ? সে জানত না, কিন্তু তার সেই হাসি, তার সেই গিগলগুলো—সেগুলো ছিল স্বর্গেরই প্রতিধ্বনি।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে, প্রতিটি দিন আপনাদের কাছে কতটা দীর্ঘ মনে হয়। সেই শূন্য চেয়ার, বেনের সেই প্রিয় জায়গাটি, তার কম্পিউটারের সেই অন্ধকার স্ক্রিন—এগুলো কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগায় না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমাদের এই ব্যথা কি আপনার চোখে পড়ে না? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
প্রথম পাঠে সাধু পল আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘খ্রীষ্ট আমাদের আইনের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছেন।’ বেনের জীবন কি ছিল না বিশ্বাসের এক জীবন্ত উদাহরণ? এই ছোট মানুষটি, যে তার ১৫ বছরের জীবনে আমাদের শিখিয়ে গেল কীভাবে অন্যের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতে হয়—মনে পড়ে সেই পিগি ব্যাংকের কথা? সে তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। বেন যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, বা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কোডিং করত, তখন কি সে জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন? সে জানত না, কিন্তু ঈশ্বর জানতেন।
আজকের সুসমাচারে যীশু যখন অশুচি আত্মার কথা বলছেন, তখন তিনি আমাদের হৃদয়ের শূন্যতার দিকে ইঙ্গিত করছেন। যখন আমরা শোকের সাগরে ভাসি, তখন আমাদের হৃদয় অনেক সময় সেই ‘ঝাড়ু দেওয়া ও পরিপাটি করা’ ঘরের মতো মনে হয়, যেখানে কেবল একাকীত্ব বাস করতে চায়। কিন্তু যীশু বলছেন, তিনি আমাদের সাথে আছেন। তিনি সেই শক্তিশালী রক্ষক, যিনি আমাদের এই শূন্যতাকে নিজের উপস্থিতিতে পূর্ণ করেন। বেনের সেই হাসি, তার সেই স্বপ্নগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, সকল অশুভ থেকে রক্ষা করুন এবং অনন্ত জীবনে নিয়ে চলুন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।