পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের ওপর করুণা করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের ওপর করুণা করুন। হে প্রভু, আমাদের ওপর করুণা করুন।
আমরা যখন কোনো এক ভোরবেলা রান্নাঘরের টেবিলে বসি, তখন কাচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো যাক। রান্নাঘরের টেবিলে রাখা স্টিলের পাত্রে সেদ্ধ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা খাবার আর চারপাশের সেই পরিচিত ছোটখাটো ব্যস্ততা—এর মাঝেই জীবন তার অতি সাধারণ রূপ নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। বেন এবং তার ছোট ভাই রায়ান একবার এভাবেই রান্নাঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সামুদ্রিক খাবার তৈরির সেই গ্রীষ্মের দিনে সাহায্য করছিল। হাতে লাল চিমটে ধরে তাজা চিংড়ি তুলে ধরা সেই এগারো বছর বয়সি বেনি, কিংবা বড় একটা পাত্রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার সেই খিলখিল হাসি—এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন আসলে কোনো বিশাল তত্ত্ব নয়, জীবন হলো এই সাধারণ মুহূর্তগুলোর নিখাদ সমাহার। আজকের প্রথম পাঠে সাধু পল এফিষীয়দের কাছে যখন বিনতি জানান, তখন তিনি আমাদের ঠিক এই কথাটিই মনে করিয়ে দেন। পল বলছেন, 'আমি অনুরোধ করছি, যে আহ্বান আপনারা পেয়েছেন তার যোগ্য জীবনযাপন করুন; সমস্ত বিনম্রতা, মৃদুভাব ও ধৈর্য নিয়ে, ভালোবাসার সাথে একে অপরকে সহ্য করুন।' এই আহ্বান কোনো দূরের কোনো আকাশের ডাক নয়। এটি সেই ডাক, যা রান্নাঘরের উষ্ণতায়, ভাইয়ে ভাইয়ে হাসিমুখে কাটানো সেই ছোট বেলাটায় এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরার সাধারণ অভ্যাসে প্রতিধ্বনিত হয়। কিন্তু আমরা কি সত্যিই এই বর্তমান সময়টাকে পড়তে পারি?
আজকের সুসমাচারে যীশু ভিড়ের উদ্দেশ্যে এক অদ্ভুত কথা বলছেন। তিনি বলছেন, 'যখন তোমরা পশ্চিমে মেঘ উঠতে দেখছ, তোমরা অমনি বলছ—বৃষ্টি নামছে, আর সত্যিই তাই হয়। আর যখন দক্ষিণ দিক থেকে বাতাস বইছে, তোমরা বলছ—গরম পড়বে, আর তাই ঘটে।' যীশু বলছেন, তোমরা মাটির আর আকাশের রূপ বুঝতে পারো, পৃথিবীর এই বাহ্যিক লক্ষণগুলো পড়তে পারো—তবে কেন তোমরা এই বর্তমান সময়টাকে বুঝতে পারো না? কেন তোমরা নিজেদের বিচারে বোঝো না কোনটা সঠিক? এই প্রশ্নটি আমাদের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করে। আমরা হয়তো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখতে জানি, আমরা জানি কখন কোন কোড লিখতে হবে, কোন সার্ভার ডাউন হতে পারে বা কোন বিমানটি কোন রানওয়ে থেকে উড়বে। কিন্তু জীবনের এই হঠাৎ ঝড়ের পূর্বাভাস যখন আসে, তখন কি আমরা তা বুঝতে পারি? অ্যালান এবং থাও, আমি জানি চার মাস পেরিয়ে গেছে সেই জুনের তেরো তারিখের পর থেকে। আপনারা যখন ঘরের সেই চেনা কোণে তাকান, বেনের সেই জুতো জোড়া দরজার পাশে আগের মতোই পড়ে থাকতে দেখেন, কিংবা বেনের সেই গিটহব রিপোজিটরির কোডগুলো স্ক্রোল করেন যেখানে সে তার নিজের হাতে কোড করা গেমসগুলো রেখে গেছে—তখন কি মনে হয় না যে, এই বর্তমান সময়টাকে কোনোভাবেই মেলাতে পারছেন না? আপনারা হয়তো মাঝরাতে একা জেগে ভাবেন, 'কেন এমন হলো?' নিজের অজান্তেই মনে এক ভারী অপরাধবোধ এসে ধাক্কা দেয়—'আমি কি কোথাও কোনো ভুল করলাম? আমি কি আরও একটু বেশি দেখতে পেতাম?' আজ আমি আপনাদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে, যীশুর নামে এই কথাটি বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কোনো বাবা-মায়ের পক্ষে এতটুকু আটকানোর সাধ্য ছিল না। সেই ভারী পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন আজ স্বর্গের ওপার থেকে বেন আপনাদের আগলে রেখেছে।
আসুন, বেনের সেই ছোট্ট মনটির কথা একটু ভাবি। বেন ছিল এমন এক কিশোর, যার মেধা ছিল বিশাল। সে তার বাবার সাথে বসে বিশাল সব জেটের রুট নিয়ে কথা বলত, তার কল্পনার 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর কথা বলে হাসত। কিন্তু তার মেধার চেয়েও বড় ছিল তার সেই কোমল হৃদয়। মনে পড়ে সেই ঘটনাটি? যখন পনেরো বছর বয়সে সে তার কাকা উইলিয়ামের মারাত্মক স্ট্রোকের খবর শুনেছিল? সে তখন তার মা-বাবাকে বলেছিল যে সে তার জমানো সমস্ত পিগি ব্যাংকের টাকাটা কাকার চিকিৎসার জন্য দিয়ে দিতে চায়। সে সেটা ভাঙেনি, কোনো নাটক করেনি, কারো কাছে ঢাকঢোল পেটায়নি—কারণ টাকাটা লাগেনি, কাকার ইনস্যুরেন্স ছিল। কিন্তু তার সেই অফারটি ছিল নিখাদ। পনেরো বছর বয়সের একটি ছেলে, যে unprompted ভাবে নিজের সর্বস্ব তুলে দিতে চেয়েছিল—এটাই ছিল বেনের আসল রূপ। সে জানত না কার কত বড় ইনস্যুরেন্স আছে, সে শুধু জানত তার কাছের মানুষটি কষ্টে আছে আর তাকে সাহায্য করতে হবে। ঠিক যেমন আজকের সুসমাচারের শেষ অংশে যীশু বলছেন, 'যদি তুমি তোমার বিরোধীর সাথে বিচারকের কাছে যাও, তবে পথেই তার সাথে মিটমাট করে নেওয়ার চেষ্টা করো... আমি তোমাকে বলছি, শেষ পাই পয়সাটি শোধ না করা পর্যন্ত তুমি সেখান থেকে বের হতে পারবে না।' এই কথাটি কোনো ভয়ের কথা নয়; এটি আমাদের শেখায় যে জীবনের হিসেবগুলো ভালোবাসার মধ্য দিয়ে মেটাতে হয়, রাগ বা দূরত্ব রেখে নয়। বেন তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভালোবাসার সেই হিসেবই চুকিয়ে গেছে। সে কাউকে কোনো ঋণ রাখেনি, কেবল নিজের অফুরন্ত হাসি আর দয়া ছড়িয়ে দিয়ে গেছে।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় হিমশিম খাও, তখন ভেবো না যে তুমি একা। তোমার ভাই বেন, যে সবসময় হাসিমুখে তোমার পাশে থাকত, সে আজ ঈশ্বরের আলোয় থেকে তোমাকে দেখছে। সে চায় তুমি যেন তোমার মা-বাবার একটা বড় সান্ত্বনা হয়ে বেঁচে থাকো। তোমার বাবা-মায়ের সেই শূন্য কোলটি তোমরা দুজনে মিলে, তোমাদের ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে রেখো। রায়ান, তুমি তোমার দাদার সেই গল্পগুলোর কথা মনে রেখো, যেগুলো শুনতে বেন ভালোবাসত। বেন তো কেবল তোমাদের ছেড়ে যায়নি, সে তো স্বর্গের সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর পাইলট হয়ে আজ ওপর থেকে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে পাহারা দিচ্ছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন, শুনুন: আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং রক্ষা করুন। তাঁর মুখ আপনাদের প্রতি দীপ্ত করুন এবং আপনাদের শান্তিদাতা হোন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।