পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন, কারণ আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আমাদের আপনার করুণা দেখান। আপনার পরিত্রাণ আমাদের দান করুন।
চলুন আমরা প্রথমে এমন একটি দৃশ্য কল্পনা করি যা খুব পরিচিত, প্রতিদিনের একটি সাধারণ ছবি। ধরুন, রাতের বেলা রান্নাঘরের টেবিলে একটি মানচিত্র ছড়িয়ে আছে, আর ছোট একটি ছেলে তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দেখাচ্ছে। সে কেবল মানচিত্রের দেশগুলো দেখছে না; তার কৌতূহলী মন ভাবছে, ওই দূরের আকাশটা কেমন, সেখানকার মেঘগুলো কি আমাদের এখানকার মতোই ওড়ে? সে তার সেই প্রিয় বিমানের মডেলগুলো নিয়ে কথা বলছে, তার ছোট্ট গলায় সেই পরিচিত মৃদু হাসি, আর তার মনটা আনন্দে ভরপুর। ওই যে কৌতূহল, আকাশে ডানা মেলার সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষা—সেটিই ছিল আমাদের বেনের জীবন। পনেরো বছরের সেই উজ্জ্বল ছেলেটি, যার মাথা ভরা ছিল কোডিং-এর জটিল সূত্রে আর মন ভরা ছিল অসীম ভালোবাসায়। বেনকে যখন আমরা মনে করি, আমরা আসলে একটি জীবন্ত কৌতূহলকে মনে করি, এমন একটি বালককে মনে করি যে বিশ্বাস করত জীবন মানে কেবল মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা নয়, বরং বিশ্বাসের ডানা মেলে আকাশে ভেসে থাকা।
আজকের বাক্যের দিকে তাকান। প্রথম পাঠে ইজেকিএল নবীর মাধ্যমে প্রভু আমাদের এক কঠিন কিন্তু অত্যন্ত স্বচ্ছ আয়নার সামনে দাঁড় করান। ‘তোমরা বল প্রভুর পথ সঠিক নয়!’ কিন্তু প্রভু পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমার পথ কি অসঠিক, নাকি তোমাদের পথই বাঁকা?’ আমরা যখন জীবনের হিসাব মেলাতে বসি, তখন এই প্রশ্নটি আমাদের বুক চিরে বেরিয়ে আসে। কেন এমন হয়? কেন জীবনের রানওয়েতে এত সুন্দর করে দৌড় শুরু করা একটি বিমান মাঝপথে থেমে যায়? কেন আমাদের জীবনে এত বড় শূন্যতা নেমে আসে? আমরা অনেক সময় প্রভূর পথকে ভুল বলতে চাই, কারণ আমাদের বেদনা এত বেশি যে আমরা সোজা হয়ে তাকাতেও পারি না।
এখানেই আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গভীর সত্যটির মুখোমুখি হই। অ্যালান আর থাও, আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের জন্য কেমন কেটেছে। সেই জুনের তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি সকাল আপনাদের কাছে এক দীর্ঘ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। থাও, আপনি হয়তো রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ বেনের সেই জুতো জোড়ার দিকে তাকান, বা অ্যালান, আপনি কম্পিউটারের সামনে বসলে মনে করেন এই তো একটু আগে বেন আপনার কাঁধে হাত রেখে কোডিং নিয়ে কথা বলছিল। সেই শূন্য চেয়ার, সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন, আর মাঝরাতে যখন ঘরটা বেনের উপস্থিতিতে পূর্ণ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কেবল এক নিঃসঙ্গ নীরবতা থাকে—সেগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা প্রতিদিন আপনাদের হৃদয়কে বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা রাতের অন্ধকারে নিজেদের অজান্তেই হয়তো প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’ এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই ভারী পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
চলুন, আজকের সুসমাচারের সেই ছোট গল্পটির কাছে ফিরে যাই। যীশু আমাদের এক পিতার কথা বলছেন যার দুই পুত্র ছিল। একজন প্রথমে বলল, ‘আমি যাবো না,’ কিন্তু পরে সে মন পরিবর্তন করে কাজে গেল। অন্যজন বলল, ‘হ্যাঁ বাবা, যাচ্ছি,’ কিন্তু সে গেল না। এই গল্পে কার মন আসল জায়গায় পৌঁছাল? যে মানুষটি নিজের অহংকার ভেঙে, নিজের ভুল বা দ্বিধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত পিতার ইচ্ছে পূর্ণ করতে এগিয়ে গেল।
বেনের জীবন ছিল ঠিক ওই প্রথম পুত্রটির মতো এক সরল ও সুন্দর রূপান্তর। মনে আছে সেই দিনটার কথা? যখন পনেরো বছরের বেন জানতে পারল যে তার কাকা উইলিয়াম দুটো বড় স্ট্রোকের মুখোমুখি হয়েছেন, তখন সে তার মায়ের কাছে গিয়ে কী বলেছিল? সে তার ছোটবেলার সমস্ত সঞ্চয়—তার সেই পুরো পিগি ব্যাংকটি—উৎসর্গ করতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কাউকেও দেখায়নি; সে কেবল সোজাসাপ্টা তার বাবা-মাকে বলেছিল যে সে তার কাকার জন্য তার সবকিছু দিতে প্রস্তুত। তার কাছে টাকা বা সম্পদ কী, সে জানত না; সে কেবল জানত যে ভালোবাসার কাছে নিজের সবকিছু উজাড় করে দেওয়াটাই হলো মানুষের আসল কাজ। সেই অফারটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় মাস্টারপিস। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে কীভাবে হিসাব না করে ভালো বাসতে হয়।
কিন্তু বেন আজ কোথায়? সে আজ সেই ‘Banquet of Heaven’-এ আছে। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তার সেই স্বপ্নের ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর নতুন কোনো রুট নিয়ে কথা বলছে। তার সেই কৌতূহল, তার সেই মিষ্টি হাসি, তার সেই বিমান দেখার শখ—সেগুলো কি হারিয়ে গেছে? না। ঈশ্বর সেগুলোকে আরও প্রশস্ত করেছেন। বেন এখন এমন এক আকাশে ডানা মেলেছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই, কোনো ব্যথা নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে।
আর আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন—বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন, এবং যে শিশুরা বিছানায় শুয়ে ব্যথায় ছটফট করছে—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের শান্তনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন; প্রভু তাঁর মুখ আপনাদের উপর দীপ্ত করুন এবং আপনাদের প্রতি সদয় হোন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।