পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও প্রেম আপনাদের সকলের অন্তরে বিরাজ করুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের গসপেলের শুরুতেই আমরা দেখি যীশু এক ফরীশীর বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়েছেন। তিনি খেতে বসলেন, কিন্তু হাত ধোয়ার সেই প্রচলিত নিয়মটি পালন করলেন না। আর তাতেই সেই ফরীশী অবাক হয়ে গেলেন। বাইরে থেকে সব কিছু খুব পরিপাটি, খুব নিয়মমাফিক—কিন্তু যীশু সরাসরি তাদের অন্তরের দিকে তাকালেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা বাইরের দিকটা পরিষ্কার করো, কিন্তু ভেতরটা তো লুটতরাজ আর মন্দের দ্বারা পূর্ণ।’ আজকের এই পাঠ আমাদের জীবনের সেই গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যেতে চাই।
আমরা যখন আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের জীবনের দিকে তাকাই, তখন আমরা দেখি এক ভিন্ন চিত্র। বেন এমন এক বালক ছিল যার ভেতরটা ছিল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ। তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই কোডিং-এর জগত, কিংবা তার প্রিয় বিমানগুলোর প্রতি ভালোবাসা—এগুলো কোনো বাইরের সাজসজ্জা ছিল না। এগুলো ছিল তার হৃদয়ের সহজাত প্রকাশ। মনে পড়ে সেই স্মৃতিটার কথা? বেন তখন কিশোর। সে তার ছোট্ট জমানো সঞ্চয় বা পিগি ব্যাংকের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল তার কাকা উইলিয়ামের কথা, যিনি তখন অসুস্থ। সে তার মা-বাবাকে বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। এটিই ছিল বেনের আসল পরিচয়—এমন এক হৃদয়, যা বাইরের কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সরাসরি ভালোবাসার পথে হাঁটত।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন কত কঠিন। সেই শূন্য চেয়ার, বেনের সেই প্রিয় জায়গাটি, তার কম্পিউটারের সেই অন্ধকার স্ক্রিন—এগুলো কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগায় না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমার কি কোথাও কোনো ভুল হয়ে গেল? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম?’ আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
সাধু পল গালাতীয়দের চিঠিতে বলছেন, ‘খ্রীষ্ট আমাদের স্বাধীনতার জন্য মুক্ত করেছেন।’ এই স্বাধীনতা মানে নিয়ম পালনের দাসত্ব থেকে মুক্তি, আর বিশ্বাসের মাধ্যমে ভালোবাসার পথে চলা। বেন এই স্বাধীনতা জানত। সে জানত কীভাবে তার বাবার সাথে বসে সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন নিয়ে হাসাহাসি করতে হয়। সে জানত কীভাবে একটি নতুন গেম কোড করার সময় গিগল করতে হয়। তার জীবন ছিল এক মুক্ত জীবনের উদাহরণ, যেখানে ভালোবাসা ছিল সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, কিংবা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কোডিং করত, তখন সে কি জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন? সে জানত না, কিন্তু ঈশ্বর জানতেন।
আজকের গসপেলের সেই ‘কাপ আর থালা’র রূপকটি আমাদের খুব সাবধানে বুঝতে হবে। আমরা অনেক সময় শোকের সময় নিজেকে দোষী ভাবি, যেন আমাদের কোনো ত্রুটির কারণেই এই শোক এসেছে। কিন্তু যীশু আজ আমাদের বলছেন, ‘ভেতরের দিকে তাকাও।’ আপনার ভেতরের সেই ভালোবাসা, যা দিয়ে আপনি বেনকে বড় করেছেন, সেই ভালোবাসাটিই পবিত্র। বেন আজ সেই স্বর্গের ভোজে আছে, যেখানে কোনো অসুস্থতা নেই, কোনো দুঃখ নেই। তার সেই হাসি, তার সেই স্বপ্নগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানের স্বপ্নময় লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।