পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা ও শান্তি আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের প্রথম পাঠে প্রজ্ঞাবান লেখক যখন বলেন, ‘হে তরুণ, তোমার যৌবনের দিনে আনন্দ করো,’ তখন তিনি কেবল সময়ের একটি সংক্ষিপ্ত হিসাব দিচ্ছেন না। তিনি আমাদের জীবনের সেই বসন্তের দিকে তাকাতে বলছেন, যখন সবকিছু নতুন মনে হয়, যখন স্বপ্নগুলো আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো—বেন—সে ছিল সেই বসন্তের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তার পনেরো বছরের জীবন ছিল যেন একটি দ্রুতগামী বিমানের মতো, যা রানওয়ে ছেড়ে সবেমাত্র মেঘের রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে।
আপনারা যারা বেনের কথা মনে করেন, আপনারা জানেন তার সেই অদ্ভুত কৌতূহলের কথা। সে কেবল সাধারণ কিশোর ছিল না; সে ছিল এক ছোট প্রকৌশলী, যে তার বাবার সাথে ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা কোডিং-এর জটিল গোলকধাঁধায় হারিয়ে যেতে ভালোবাসত। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা মনে আছে? যখন সে তার বাবার সাথে বিমানবন্দরগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকত, তখন তার চোখে ছিল অসীম আকাশ। সে যখন সেই এয়ারলাইন্স নিয়ে কথা বলত, তখন তার সেই গিগল বা মৃদু হাসি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র শব্দগুলোর একটি। সে যেন জানত, জীবন কেবল মাটির ওপর দিয়ে হাঁটা নয়, বরং ডানা মেলে ওড়া।
কিন্তু আজ এই পাঠের গভীরে যখন আমরা যাই, তখন লেখক আমাদের সতর্ক করছেন: ‘তোমার স্রষ্টাকে স্মরণ করো।’ এটি কোনো ভয়ের কথা নয়, এটি একটি আমন্ত্রণ। বেন আমাদের শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্রষ্টাকে স্মরণ করতে হয়—তার সেই অকৃত্রিম দয়ার মাধ্যমে। মনে পড়ে সেই ঘটনাটি? যখন তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ ছিলেন, তখন সে তার পিগি ব্যাংকটি দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই ছোট্ট ছেলেটির হৃদয়ে ছিল এক অসীম দয়ার সমুদ্র। সে জানত না সম্পদ কি, সে কেবল জানত ভালোবাসা মানেই নিজেকে উজাড় করে দেওয়া।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের জন্য এক দীর্ঘ অন্ধকার সুড়ঙ্গের মতো। সেই শূন্য চেয়ার, সেই সকালের নীরবতা, আর মাঝরাতে যখন ঘরটা বেনের উপস্থিতিতে পূর্ণ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কেবল ছায়া থাকে—সেগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা প্রতিদিন আপনাদের হৃদয়কে বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমি কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়েছে?’ এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই ভারী পাথর। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
আজকের সুসমাচারে যীশু শিষ্যদের বলছেন, ‘মানুষের পুত্রকে মানুষের হাতে সমর্পণ করা হবে।’ শিষ্যরা বুঝতে পারছিল না, তারা ভয় পাচ্ছিল। অনেক সময় আমাদের জীবনেও এমন কিছু ঘটে যা আমরা বুঝতে পারি না। কেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এত দ্রুত নিভে যায়? কেন আমাদের এত প্রিয় মানুষটিকে এত তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে হয়? এই ‘কেন’-এর উত্তর আমাদের বুদ্ধিতে নেই, এটি আছে কেবল ঈশ্বরের হৃদয়ে। যীশু যখন বলেন তিনি সমর্পিত হবেন, তখন তিনি আমাদের বলছেন যে, তিনি আমাদের সমস্ত কষ্ট, সমস্ত বিচ্ছেদ, সমস্ত শূন্যতার অংশীদার। তিনি আপনাদের এই কান্নার অংশীদার।
বেন আজ সেই ‘Banquet of Heaven’-এ আছে। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তার সেই প্রিয় স্বপ্নের কথা বলছে। তার সেই কৌতূহল কি থেমে গেছে? না। সে এখন সেই অসীম আকাশে ডানা মেলেছে, যে আকাশের স্বপ্ন সে ছোটবেলা থেকে দেখত। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ একা বোধ করছেন, যারা মনে করছেন যে আপনাদের শোকের কোনো ভাষা নেই—মনে রাখবেন, যীশুও একা প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি যখন নির্জনে প্রার্থনা করছিলেন, তখন তিনি আমাদের একাকীত্বের অংশীদার হয়েছিলেন। তিনি বেনের কষ্ট বুঝেছেন, তিনি আপনাদের কান্নাও বুঝছেন। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
বেনের জীবন ছিল সেই সুসমাচারের মতো—‘কিছুই নিও না।’ সে যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই তার হাসি, তার কৌতূহল এবং তার দয়া দিয়ে সে একটি ঘর তৈরি করেছে। সে এখন সেই চিরস্থায়ী ঘরে, যেখানে যীশু নিজে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।