পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের ভালোবাসা এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সবার সাথে থাকুক।
হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর।
আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা ঈশ্বরের সেই মহান ভোজের কথা শুনছি, তখন আমার মনের কোণে একটি ছোট ছবি ভেসে উঠছে। এটি কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার ছবি নয়, বরং একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্তের ছবি। মনে পড়ে সেই দিনের কথা, যখন বেন এবং তার ছোট ভাই রায়ান তাদের বাবার সাথে হ্যালোইনের পোশাক পরে হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিল? সেই হলুদ মিনিয়ন পোশাকের আড়ালে ছিল সেই চেনা হাসি—বেনের সেই হাসি, যা তার চারপাশের জগতকে উজ্জ্বল করে তুলত। সেই দিনটি ছিল সাধারণ, কিন্তু তাতে ছিল অকৃত্রিম আনন্দের ছোঁয়া। আজ যখন আমরা ঈশ্বরের সেই ‘মহাবোজের’ কথা পড়ছি, তখন মনে হয়, স্বর্গও হয়তো এমন এক হাসিমুখের প্রতীক্ষায় থাকে।
ইশাইয়াহ নবীর সেই বাণীতে আমরা শুনি, ‘প্রভু সকল জাতির জন্য এক মহাবোজের আয়োজন করবেন।’ সেখানে কোনো শোক থাকবে না, কোনো অশ্রু থাকবে না। সেই পাহাড়ের চূড়ায়, যেখানে প্রভু নিজে চোখের জল মুছিয়ে দেবেন, সেখানে বেনের মতো কোমল হৃদয়ের মানুষগুলোই সবচেয়ে কাছের মেহমান। বেন, আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো, যে তার ১৫ বছরের জীবনে বিশ্বকে তার ভালোবাসার চাদরে জড়িয়েছিল—সে আজ সেই ভোজের অংশ। সে আজ সেই জায়গায়, যেখানে কোনো এয়ারলাইন্স বা কোডিং-এর প্রয়োজন নেই, যেখানে কেবল ঈশ্বরের অনন্ত প্রেম।
কিন্তু প্রিয়জন, আমরা তো এখনো পৃথিবীতে। আমরা সেই ভোজের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের পথচলায় আমরা অনেক সময় সেই ‘শূন্য চেয়ারের’ বেদনা অনুভব করি। অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন আপনাদের কাছে কত দীর্ঘ মনে হয়। যখন আপনারা সেই ঘরটিতে হাঁটেন যেখানে বেনের কম্পিউটারটি এখন নিস্তব্ধ, তখন কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগে না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
আজকের গসপেলের সেই রাজা, যিনি ভোজের আয়োজন করেছিলেন, তিনি আমাদের ডাকছেন। অনেকেই ব্যস্ততার অছিলায় সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। কেউ তার ব্যবসা, কেউ তার জগত নিয়ে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু বেন? বেন ছিল সেই মানুষ, যে ছোটবেলা থেকেই জানত কীভাবে ভালোবাসতে হয়। মনে পড়ে সেই পিগি ব্যাংকের কথা? যখন তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ ছিলেন, তখন ১৫ বছরের সেই বালক তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে।
বেনের সেই উদারতা আজ অন্য অনেক মানুষের জীবনে জল হয়ে ঝরছে। সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—সেটি কেবল ইট-পাথরের তৈরি কোনো কাঠামো নয়। সেটি বেনের হৃদয়ের এক চলমান স্মৃতি। সেটি হলো সেই ‘ভালো অংশ’, যা যীশু আমাদের বেছে নিতে বলেছেন। বেনের সেই হাসি, তার সেই স্বপ্নগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানের স্বপ্নময় লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।