পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমিন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ এবং ঈশ্বরের প্রেম আপনাদের সকলের অন্তরে বিরাজ করুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই পবিত্র দিনে আমরা যখন স্বর্গের সেই অগণিত দূতদের কথা ভাবি, তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অসীম ঐশ্বরিক মহিমা। দানিয়েল নবীর দর্শনে আমরা দেখলাম সেই ‘প্রাচীনতম’ বা পরমেশ্বরকে, যার সিংহাসন আগুনের শিখায় ঘেরা এবং যার চারপাশে হাজার হাজার স্বর্গদূত সেবায় নিয়োজিত। এই স্বর্গীয় দৃশ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের এই দৃশ্যমান জগত ছাড়াও এক অদৃশ্য, পবিত্র জগত আছে, যেখানে ঈশ্বরের গৌরব চিরকাল বিরাজমান। আজ এই দিনে আমরা আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো—বেন—এর কথা মনে করছি, যে এখন সেই স্বর্গীয় সভারই এক অংশ।
বেনের কথা ভাবলে আমার মনে পড়ে সেই বালকটিকে, যে তার বাবার সাথে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। আপনারা কি সেই মুহূর্তগুলো কল্পনা করতে পারেন? যখন সে তার প্রিয় বিমানের মডেলগুলো নিয়ে কথা বলত, বা যখন সে তার সেই কাল্পনিক ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা ভেবে গিগল করত, তখন সে আসলে কী খুঁজছিল? সে কেবল বিমান খুঁজছিল না; সে খুঁজছিল অসীমকে। সে খুঁজছিল সেই সীমানা, যেখানে আকাশ আর ঈশ্বর মিলেমিশে এক হয়ে যায়। পনেরো বছরের সেই উজ্জ্বল ছেলেটি, যার মাথা ভরা ছিল কোডিং-এর জটিল সূত্রে আর মন ভরা ছিল অসীম ভালোবাসায়, সে আজ সেই স্বর্গের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে আছে।
আজকের সুসমাচারে আমরা নাথানিয়েলের কথা পড়ছি। যীশু তাকে দেখেই বলেছিলেন, ‘দেখ, এ সত্যই ইস্রায়েলীয়, এর মধ্যে কোনো ছলনা নেই।’ নাথানিয়েল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি আমাকে কীভাবে চিনলেন?’ যীশু উত্তরে বললেন, ‘ফিলিপ তোমাকে ডাকার আগেই, তুমি যখন ডুমুর গাছের নিচে ছিলে, আমি তোমাকে দেখেছি।’ এই লাইনটি আমার হৃদয়ে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়। ‘আমি তোমাকে দেখেছি।’ বেন যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, বা যখন সে তার প্রিয় কম্পিউটারের সামনে বসে গভীর রাতে কাজ করত, তখন কি সে জানত যে যীশু তাকে দেখছেন? সে যখন তার সেই ছোট পিগি ব্যাংকটি তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য দিতে চেয়েছিল—সেটি সে ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল বলেছিল ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই’—তখন কি সে জানত যে ঈশ্বর তার সেই উদারতাকে স্বর্গের খাতায় লিখে রেখেছেন? যীশু তাকে দেখেছিলেন, ঠিক যেমন তিনি নাথানিয়েলকে দেখেছিলেন।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের জন্য এক দীর্ঘ অন্ধকার সুড়ঙ্গের মতো। সেই শূন্য চেয়ার, সেই সকালের নীরবতা, আর মাঝরাতে যখন ঘরটা বেনের উপস্থিতিতে পূর্ণ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কেবল ছায়া থাকে—সেগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা প্রতিদিন আপনাদের হৃদয়কে বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমি কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়েছে?’ এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই ভারী পাথর। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
স্বর্গদূতদের এই দিনে আমরা বুঝতে পারি, বেন এখন আর কোনো সীমাবদ্ধতায় নেই। সে এখন সেই ‘অ্যাসেন্ডিং অ্যান্ড ডিসেন্ডিং’ বা স্বর্গীয় সিঁড়ির অংশ, যা যীশুর মাধ্যমে স্বর্গ ও মর্ত্যকে যুক্ত করে। নাথানিয়েলকে যীশু বলেছিলেন, ‘তুমি এর চেয়েও বড় জিনিস দেখবে।’ বেন আজ সেই ‘বড় জিনিস’ দেখছে। সে আজ সেই অসীম আলোয় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কোডিং এর জটিলতা নেই, কেবল ঈশ্বরের অশেষ প্রেম। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
বেনের জীবন ছিল সেই সুসমাচারের মতো—অকপট এবং উদার। সে যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই সে তার হাসি, তার কৌতূহল এবং তার দয়া দিয়ে একটি ঘর তৈরি করেছে। সে এখন সেই চিরস্থায়ী ঘরে, যেখানে যীশু নিজে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
আর আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, যারা নিজেরাও কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন—আজ এই শব্দগুলোকে ধরে রাখুন। বেন আজ আর ব্যথায় নেই। সে ভালো আছে। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমিন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমিন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।