পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন।
আজকের এই পবিত্র দিনে, যখন আমরা সেন্ট ম্যাথিউর ডাক পাওয়ার ঘটনাটি স্মরণ করছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি অতি সাধারণ কিন্তু গভীর অর্থবহ ছবি। এটি কোনো বিশাল কোনো ঘটনার ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট এক সময়ের ছবি—বেন এবং তার ভাই রায়ান, দুজনে মিলে একটি রেস্তোরাঁর টেবিলে বসে আছে। তাদের সামনে একটি বাঁশের তৈরি বাষ্পীয় ঝুড়ি, আর তারা দুজনে খুব মনোযোগ দিয়ে চপস্টিক ব্যবহার করে খাবার ভাগ করে নিচ্ছে। তাদের সেই নিবিড় মনোযোগ, সেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসে থাকা—এটিই ছিল তাদের ভ্রাতৃত্বের এক শান্ত, সুন্দর মুহূর্ত। আজ, যখন আমরা বেনের প্রস্থানের তিন মাস পার করছি, সেই ছোট মুহূর্তটি আমার হৃদয়ে এক গভীর সত্যের মতো গেঁথে আছে।
আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি যীশু করসংগ্রহকারী ম্যাথিউকে দেখছেন। ম্যাথিউ তার পেশাগত কাজের জায়গায় বসে আছেন, সেই জায়গাটি যেখানে মানুষ কেবল হিসাব-নিকাশ করে, যেখানে কেবল মুদ্রার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু যীশু সেখানে গিয়ে তাকে বললেন, 'আমার অনুসরণ কর।' ম্যাথিউ কোনো প্রশ্ন করলেন না, কোনো দ্বিধা করলেন না। তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং যীশুর সাথে চললেন। তিনি কেবল তার পেশা ছাড়লেন না, তিনি তার পুরো জীবনধারা বদলে ফেললেন। যীশু তাকে এমন এক নতুন জগতের দিকে ডাকলেন, যেখানে হিসাবের চেয়ে হৃদয়ের গুরুত্ব বেশি।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও, আমি জানি এই তিন মাস আপনাদের জন্য কেমন। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের হৃদয়কে প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—‘না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।’ বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
বেন ছিল এক অসাধারণ বালক। তার সেই মেধাবী মন, তার সেই কোডিং-এর জগত, আর বিশেষ করে তার সেই উদার হৃদয়ের কথা ভাবুন। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল—সে তো আসলে নিজের পুরো পৃথিবীটাকেই বিলিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল তার ভালোবাসার অকৃত্রিমতাটুকু তুলে ধরেছিল। সেই 'অফার' বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সেই ছোট ছেলেটি, যে তার পিগি ব্যাংক দিয়ে তার প্রিয়জনকে বাঁচাতে চেয়েছিল, সে আজ ঈশ্বরের সেই অসীম ভাণ্ডারে আছে, যেখানে আর কোনো অভাব নেই।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল আমাদের বলছেন, “তোমাদের ডাক পাওয়ার উপযুক্ত জীবনযাপন কর।” তিনি আমাদের বিনয়, নম্রতা এবং ধৈর্যের সাথে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলছেন, “এক দেহ ও এক আত্মা।” বেনের জীবন ছিল ঠিক এই ঐক্যের এক জীবন্ত উদাহরণ। সে যখন তার ভাই রায়ানের সাথে খেলত, যখন সে তার বাবার সাথে বিমান নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করত, তখন সে আসলে সেই ঐক্যের বন্ধনকেই মজবুত করছিল। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানে কেবল বেঁচে থাকা নয়, বরং একে অপরের সাথে যুক্ত থাকা। বেন আজ আর আমাদের মাঝে শারীরিক রূপে নেই, কিন্তু সে সেই 'এক দেহ ও এক আত্মা'-র অংশ হয়ে খ্রীষ্টের মাঝে বেঁচে আছে।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, “চেষ্টা করাই আসল কথা।” তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজকের সুসমাচারে যীশু বলেছেন, “আমি ধার্মিকদের ডাকতে আসিনি, পাপীদের ডাকতে এসেছি।” তিনি আমাদের সেই জায়গাগুলোতে যান, যেখানে আমরা ভেঙে পড়ি, যেখানে আমরা নিজেদের অযোগ্য মনে করি। বেনের সেই মিষ্টি হাসি, তার সেই কৌতূহল, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে আপনাদের হৃদয়ে আছে, সে আপনাদের আগলে রাখছে।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।