পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও করুণা আপনাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করুন।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা আমাদের স্বর্গীয় মাতা কুমারী মারিয়াকে জপমালার রানীরূপে স্মরণ করছি, তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি অত্যন্ত পরিচিত কিন্তু গভীর দৃশ্য। সুসমাচারে আমরা দেখি, যীশু প্রার্থনা করছেন। শিষ্যরা তাঁকে দেখছেন, তাঁর নীরবতায় তারা এমন এক শক্তির স্পর্শ পাচ্ছেন যা তারা আগে কখনো অনুভব করেননি। তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রভু, আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান।’ তারা কেবল শব্দ শিখতে চাননি; তারা সেই হৃদয়ের ভাষা শিখতে চেয়েছিলেন, যা যীশুর পিতাকে স্পর্শ করে।
বেনের কথা ভাবলে আমার মনে পড়ে তার সেই অদম্য কৌতূহলের কথা। তার সেই প্রিয় বিমানগুলো, সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন, আর কম্পিউটারের কোডিং-এর জগতে তার সেই গভীর ডুব—এসবই কি ছিল না এক প্রকার প্রার্থনা? বেন যখন তার বাবার সাথে বসে নতুন কোনো কোড লিখত বা কোনো এয়ারলাইন্সের রুট নিয়ে আলোচনা করত, তখন সে কেবল কাজ করছিল না; সে আসলে তার বাবার সাথে এক গভীর সংযোগ তৈরি করছিল। সেই মুহূর্তগুলো ছিল তার জীবনের এক জীবন্ত জপমালা—প্রতিটি কোড, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি গিগল ছিল ঈশ্বরের প্রতি তার এক একটি নিবেদন। সে যখন তার বাবার সাথে সেই ইউরোপের সফরে ছিল, তখন সে কেবল শহর দেখছিল না, সে দেখছিল ঈশ্বরের সৃষ্টিকে। সে ছিল এক আধুনিক দিনের অভিযাত্রী, যে জানত কীভাবে মুহূর্তের গভীরে গিয়ে বসতে হয়।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে, প্রতিটি দিন আপনাদের কাছে কতটা দীর্ঘ। সেই শূন্য চেয়ার, বেনের সেই প্রিয় জায়গাটি, তার কম্পিউটারের সেই অন্ধকার স্ক্রিন—এগুলো কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগায় না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমাদের এই ব্যথা কি আপনার চোখে পড়ে না? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
প্রথম পাঠে সাধু পল বলছেন, ‘আমি আমার মায়ের গর্ভ থেকে আমাকে পৃথক করেছিলেন।’ বেনের ক্ষেত্রেও কি তাই নয়? এই ছোট মানুষটি, যে তার ১৫ বছরের জীবনে আমাদের শিখিয়ে গেল কীভাবে অন্যের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতে হয়—মনে পড়ে সেই পিগি ব্যাংকের কথা? সে তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে।
আজকের সুসমাচারে যীশু আমাদের শেখাচ্ছেন, ‘পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে গণ্য হোক।’ জপমালার প্রতিটি দানা যেন সেই পবিত্রতারই এক একটি পদক্ষেপ। যখন আমরা মারিয়ার কাছে যাই, আমরা আসলে যীশুর কাছেই যাই। আমরা আমাদের কষ্ট, আমাদের শূন্যতা, আমাদের বেনের সেই হাসি—সবকিছু তাঁর চরণে রাখি। মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
বেনের সেই হাসি, তার সেই গিগলগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা।
প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের মন্দ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।