পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমিন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর। কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আমাদের তোমার করুণা দেখাও এবং আমাদের পরিত্রাণ দান কর।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা সেন্ট পিয়ো দে পিয়েত্রেলচিনা বা পাদ্রে পিয়োকে স্মরণ করছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি অতি সাধারণ কিন্তু গভীর সত্য। পাদ্রে পিয়ো ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর পুরো জীবন ঈশ্বরের বাক্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছিলেন। তিনি জানতেন যে, ঈশ্বরের বাক্য কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং তা দিয়ে জীবনকে পরিমাপ করার জন্য। আজকের প্রথম পাঠে প্রবচনকার আমাদের বলছেন, ‘ঈশ্বরের প্রতিটি বাক্য পরীক্ষিত।’ আমরা যখন আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে থাকি, তখন এই বাক্যগুলোই হয়ে ওঠে আমাদের একমাত্র আশ্রয়।
আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি যীশু তাঁর বারোজন শিষ্যকে পাঠাচ্ছেন। তিনি তাদের কী বলছেন? ‘যাত্রার জন্য কিছুই নিও না—লাঠি নয়, ঝোলা নয়, খাদ্য নয়, অর্থ নয়।’ এটি কি অদ্ভুত মনে হয় না? পনেরো বছরের একটি ছেলের কথা ভাবুন—বেন, আমাদের বেঞ্জামিন ভো। সে ছিল এক আশ্চর্য বালক, যার চিন্তা ছিল ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জটিল কোডিং-এ, আর যার স্বপ্ন ছিল ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর মতো বিশাল। সে যখন তার বাবার সাথে বিমানবন্দরগুলোতে ‘এয়ারপোর্ট স্পটিং’ করত, তখন সে কি জানত যে তার জীবনের যাত্রা এত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে? না। কিন্তু সে কি প্রস্তুত ছিল? হ্যাঁ, সে প্রস্তুত ছিল তার সেই অকৃত্রিম হৃদয়ের সরলতায়।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি, আজ জুন মাসের সেই ১৩ তারিখের তিন মাস পার হওয়ার পরও আপনাদের হৃদয়ে সেই একই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। সেই শূন্য চেয়ার, সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন, আর মাঝরাতে জেগে উঠে বেনের সেই গিগল বা হাসির শব্দ খোঁজা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমি কি আরও ভালো করতে পারতাম? আমি কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই ভারী পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
বেনের জীবন ছিল সেই সুসমাচারের মতো—‘কিছুই নিও না।’ সে যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার কথা শুনে তার পিগি ব্যাংকটি দিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন সে কি হিসাব করছিল? না। সে তার নিজের কোনো সম্পদ বা নিরাপত্তার কথা ভাবেনি। সে কেবল চেয়েছিল তার ভালোবাসার অকৃত্রিমতাটুকু উজাড় করে দিতে। সে তার পিগি ব্যাংকটি ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। যীশু আজকের সুসমাচারে শিষ্যদের বলছেন, ‘যাই হোক না কেন, যে বাড়িতে তোমরা প্রবেশ করবে, সেখানেই থাক।’ বেনের জীবন ছিল ঠিক তেমনই—সে যেখানেই গিয়েছ, সেখানেই তার হাসি, তার কৌতূহল এবং তার দয়া দিয়ে সে একটি ঘর তৈরি করেছে। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’-এ আছে, যেখানে সে আর কোনো অসুস্থতা বা যন্ত্রণার শিকার নয়। সে এখন সেই চিরস্থায়ী ঘরে, যেখানে যীশু নিজে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, যারা নিজেরাও কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন—আজ এই শব্দগুলোকে ধরে রাখুন। বেন আজ আর ব্যথায় নেই। সে ভালো আছে। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের আশীর্বাদ করুন এবং আমাদের শান্তিতে রাখুন। আমিন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।