পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও ঈশ্বরের ভালোবাসা আপনাদের সবার সাথে থাকুক।
হে প্রভু, তুমি আমাদের শান্তি, আমাদের প্রতি দয়া করো। হে খ্রীষ্ট, তুমি আমাদের মিলন, আমাদের প্রতি দয়া করো। হে প্রভু, তুমি আমাদের আশা, আমাদের প্রতি দয়া করো।
আমরা যখন কোনো পুরনো মানচিত্রের দিকে তাকাই, তখন আমাদের চোখ আটকে যায় সেই সরু রাস্তাগুলোর ওপর—যেগুলো আমাদের বাড়ির উঠোন থেকে শুরু হয়ে অজানার দিকে চলে গেছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন এক একটি নতুন যাত্রাপথ। আজকের গসপেলের সেই দৃশ্যটি কল্পনা করুন—যীশু তাঁর শিষ্যদের বলছেন, 'কোমর বেঁধে প্রস্তুত থাকো এবং তোমাদের প্রদীপগুলো জ্বালিয়ে রাখো।' এটি কোনো সাধারণ প্রস্তুতি নয়; এটি সেই প্রহরীর প্রস্তুতি, যে রাতের অন্ধকারেও তার প্রভুর আসার অপেক্ষায় জেগে থাকে। এই জেগে থাকাটা যান্ত্রিক নয়, এটি হৃদয়ের এক গভীর আকুলতা।
আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের কথা ভাবুন। বেনের জীবন ছিল যেন এক অসীম কৌতূহলের অ্যারাইভাল লাউঞ্জ। সে যখন তার বাবার সাথে বিমানবন্দরের অবজারভেশন ডেকে দাঁড়িয়ে সেই বিশাল Boeing 737 বিমানগুলোর ওঠানামা দেখত, তখন তার চোখে যে মুগ্ধতা খেলা করত, তা ছিল আসলে এক গভীর প্রাণের স্পন্দন। বেন কেবল বিমান দেখত না, সে দেখত এক অসীম সম্ভাবনা। তার সেই কাল্পনিক 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর কথা যখন সে বলত, তখন তার সেই খিলখিল হাসি যেন আমাদের মনে করিয়ে দিত যে, এই পৃথিবী আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। বেনের প্রতিটি কোডিং লাইন, তার সেই গণিতের জগত, আর তার সেই অদম্য স্বপ্নগুলো ছিল যেন এক একটি প্রদীপ—যা সে খুব যত্ন করে জ্বালিয়ে রেখেছিল। সে জানত না, কিন্তু সে প্রস্তুত ছিল।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পল এফিষীয়দের বলছেন, 'তোমরা আর পরদেশী নও, বরং তোমরা ঈশ্বরের পরিবারের সদস্য।' এই কথাটি কত গভীর! আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় হলো বিচ্ছিন্নতা—কেউ যেন আমাদের ছেড়ে কোথাও চলে না যায়। কিন্তু খ্রীষ্ট এসে সেই দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এক অখণ্ড পরিবারের সদস্য করেছেন। অ্যালান এবং থাও, আমি জানি চার মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই শূন্যতা এখনো আপনাদের হৃদয়ে এক বিশাল সমুদ্রের মতো। আপনারা যখন বেনের সেই প্রিয় জায়গাগুলোতে হাঁটেন, তখন হয়তো মনে হয়, 'কেন এই বিচ্ছেদ?' অনেক মা-বাবা নীরবে এক ভারী পাথর বয়ে বেড়ান—নিজের অজান্তেই তারা ভাবতে শুরু করেন, 'আমি কি কোথাও কোনো ভুল করলাম? আমি কি আরও একটু বেশি দেখতে পেতাম?' আজ আমি আপনাদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে, যীশুর নামে এই কথাটি বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কোনো বাবা-মায়ের পক্ষে এতটুকু আটকানোর সাধ্য ছিল না। সেই ভারী পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন আজ স্বর্গের ওপার থেকে বেন আপনাদের আগলে রেখেছে।
বেনের সেই হৃদয়ের উদারতা কি মনে পড়ে? সেই ১৫ বছরের কিশোর, যে তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার কথা শুনে তার জমানো সমস্ত পিগি ব্যাংকের টাকাটা দিতে চেয়েছিল? সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি, কেবল তার ছোট্ট মন থেকে বলেছিল যে সে তার সবটুকুই দিতে চায়। সেটি ছিল এক শিশুর নিখাদ ভালোবাসা। সে জানত না কার কত বড় ইনস্যুরেন্স আছে, সে শুধু জানত তার কাছের মানুষটি কষ্টে আছে আর তাকে সাহায্য করতে হবে। এটিই কি সেই 'প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা' নয়? বেন তার হৃদয়ের প্রদীপটি দিয়ে অন্যদের পথ আলোকিত করে রেখেছিল। সে শিখিয়ে গেছে, জীবন মানে জমা করা নয়, জীবন মানে বিলিয়ে দেওয়া।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় হিমশিম খাও, তখন ভেবো না যে তুমি একা। তোমার ভাই বেন, যে সবসময় হাসিমুখে তোমার পাশে থাকত, সে আজ ঈশ্বরের আলোয় থেকে তোমাকে দেখছে। সে চায় তুমি যেন তোমার মা-বাবার একটা বড় সান্ত্বনা হয়ে বেঁচে থাকো। তোমার বাবা-মায়ের সেই শূন্য কোলটি তোমরা দুজনে মিলে, তোমাদের ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে রেখো।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন, শুনুন: আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং রক্ষা করুন। তাঁর মুখমণ্ডল আপনাদের ওপর উজ্জ্বল হোক এবং তিনি আপনাদের শান্তি দিন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।