পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের কৃপা, ঈশ্বরের প্রেম ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আপনার করুণা আমাদের দেখান এবং আমাদের পরিত্রাণ দিন।
আমরা প্রায়শই আমাদের জীবনের বড় বড় বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি—আমাদের সাফল্য, আমাদের ক্যারিয়ার, আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু আজ গসপেলের শুরুতে যীশু আমাদের এমন এক দৃশ্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন যা খুব সাধারণ অথচ গভীর। মানুষ একে অপরকে পিষ্ট করে ভিড় করছে, যেন তারা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মরিয়া। এই ভিড়ের মাঝে যীশু দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কোনো ভিআইপি নন, তিনি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সিংহাসনে নেই। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন সাধারণ মানুষের মাঝে, আর তার প্রথম কথাটিই হলো সতর্কবাণী: ‘ফরীশীদের খামির থেকে সাবধান।’
ফরীশীদের খামির মানে কী? এটি হলো ভণ্ডামি। এটি হলো এমন এক জীবন, যা বাইরে থেকে খুব ধার্মিক দেখায় কিন্তু ভেতরে কোনো সত্য নেই। যীশু বলছেন, ‘এমন কিছু গোপন নেই যা প্রকাশিত হবে না।’ এটি কি কোনো ভয় দেখানোর কথা? না, এটি আসলে একটি মুক্তির বার্তা। আমরা যারা শোকের ভারে নুয়ে আছি, যারা মনে করি আমাদের চোখের জল, আমাদের না বলা আর্তনাদ কেউ দেখছে না—যীশু আজ বলছেন, ঈশ্বর সব দেখেন। তিনি সেই অন্ধকার কোণগুলোও দেখেন যেখানে আমরা একা একা কাঁদি।
আজ আমি আপনাদের সাথে বেনের কথা বলতে চাই—আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন। বেন ছিল এক উজ্জ্বল কিশোর, যার মন ছিল আকাশের মতো বিশাল। তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই কোডিং-এর জগত, কিংবা তার প্রিয় বিমানগুলোর প্রতি ভালোবাসা—এগুলো কোনো বাইরের সাজসজ্জা ছিল না। এগুলো ছিল তার হৃদয়ের সহজাত প্রকাশ। মনে পড়ে, সে তার বাবার সাথে বসে বিমানের রুট নিয়ে কত না আলোচনা করত? সে তার সেই কাল্পনিক ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা বলতে গিয়ে যেভাবে হাসত, সেই হাসিটি ছিল তার হৃদয়ের পবিত্রতা। সে জানত কীভাবে মুহূর্তের গভীরে গিয়ে বসতে হয়। সে ছিল এক আধুনিক দিনের অভিযাত্রী।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন কত কঠিন। সেই শূন্য চেয়ার, বেনের সেই প্রিয় জায়গাটি—এগুলো কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগায় না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমার কি কোথাও কোনো ভুল হয়ে গেল? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম?’ আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
যীশু আজ আমাদের বলছেন, ‘পাঁচটি চড়ুই পাখি তো দুটি পয়সায় বিক্রি হয়, তবুও ঈশ্বরের কাছে তাদের একটিও বিস্মৃত হয় না।’ ভাবুন তো, ঈশ্বর আমাদের মাথার প্রতিটি চুল পর্যন্ত গুনে রেখেছেন! যদি একটি ছোট চড়ুই পাখির খবর ঈশ্বর রাখেন, তবে তিনি কি আপনাদের বেনের খবর রাখেন না? অবশ্যই রাখেন। বেন আজ সেই স্বর্গের ভোজে আছে, যেখানে কোনো অসুস্থতা নেই, কোনো দুঃখ নেই। তার সেই হাসি, তার সেই স্বপ্নগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে যেমন তার বাবার সাথে সেই আইসক্রিমের দোকানের স্বপ্নময় লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তেমনি সে আজ স্বর্গের সেই আনন্দময় ভোজে অংশ নিচ্ছে। তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’ এখন স্বর্গের রানওয়েতে উড়ছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
বেনের সেই উদারতার কথা মনে পড়ে? যখন তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ ছিলেন, তখন ১৫ বছরের সেই বালক তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। আজ যখন আপনারা শোকের ভারে ক্লান্ত, তখন বেনের সেই উদার মনটাকে মনে করুন। সে আপনাদেরই সন্তান, সে আপনাদেরই ভালোবাসার ফসল। সেই ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।