পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও অনুগ্রহ আপনাদের সবার সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। আমরা আপনার বিরুদ্ধে পাপ করেছি। হে প্রভু, আপনার দয়া আমাদের দেখান এবং আমাদের পরিত্রাণ দান করুন।
আমরা যখন কোনো এক বিকেলে আমাদের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়াই, তখন দূরের আকাশের দিকে তাকালে মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা যেন এক বিশাল যুদ্ধের ময়দান আর একই সাথে এক গভীর শান্তির আশ্রয়স্থল। আজকের প্রথম পাঠে সাধু পল এফিষীয়দের বলছেন, 'ঈশ্বরের বর্ম পরিধান করো।' এই বর্ম কোনো লোহার তৈরি পোশাক নয়; এটি হলো সত্য, ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বাস এবং ঈশ্বরের বাক্যের এক আধ্যাত্মিক সুরক্ষা। ভাবুন তো, একটি ছোট শিশু যখন তার বাবার হাত ধরে হাঁটতে শেখে, তখন সে কি কোনো বর্ম পরে থাকে? না, তার বাবা-ই হয় তার বর্ম। বেনের কথা ভাবুন, সেই পনেরো বছরের কিশোর, যে ছিল একাধারে মেধাবী এবং অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের। বেনের জীবনটা ছিল এক বিশাল কৌতূহলের আধার। সে যখন তার বাবার সাথে বসে বিমানের রুট ম্যাপ নিয়ে কাজ করত বা তার নিজের হাতে কোড করা গেমসগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকত, তখন সে যেন এই পৃথিবীর সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে অসীমের দিকে হাত বাড়াচ্ছিল। তার সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর স্বপ্নটি কেবল একটি বালখিল্য কল্পনা ছিল না; সেটি ছিল তার হৃদয়ের এক গভীর উড়ান। সে যখন তার প্রিয় বিমানের মডেলগুলো নিয়ে খেলত, তখন তার চোখেমুখে যে আনন্দ খেলা করত, তা ছিল ঈশ্বরের সেই অসীম ভালোবাসারই এক মূর্ত প্রতীক। ১৫ বছর বয়সের সেই ছেলেটি তার ছোট্ট জীবনে যা দেখেছে এবং বুঝেছে, তা অনেক বড় মানুষও পুরো জীবনে অনুধাবন করতে পারে না। তার সেই মেধাবী মনটি যেমন ছিল নিখুঁত, তেমনি তার হৃদয়টি ছিল অপরিসীম দয়াশীল। কিন্তু অ্যালান এবং থাও, আমি জানি চার মাস পেরিয়ে গেছে সেই জুনের তেরো তারিখের পর থেকে। আমি জানি, এই কথাগুলো যখন আপনারা শোনেন, তখন আপনাদের বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। আপনারা যখন সেই ঘরটার সামনে দিয়ে হাঁটেন, কিংবা বেনের সেই গিটহব রিপোজিটরির কোডগুলো স্ক্রোল করেন যেখানে সে তার নিজের হাতে কোড করা গেমসগুলো রেখে গেছে—তখন কি মনে হয় না যে পৃথিবীটা হঠাৎ করেই কেমন থমকে গেছে? হয়তো মাঝেমধ্যে আপনারা রাতে একা জেগে থাকেন এবং আপনাদের মনে এক অদ্ভুত অপরাধবোধ এসে হানা দেয়—নিজের অজান্তেই আপনারা ভাবতে শুরু করেন, 'আমি কি কোথাও কোনো ভুল করলাম? আমি কি আরও একটু বেশি দেখতে পেতাম?' আজ আমি আপনাদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে, যীশুর নামে এই কথাটি বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কোনো বাবা-মায়ের পক্ষে এতটুকু আটকানোর সাধ্য ছিল না। সেই ভারী পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন আজ স্বর্গের ওপার থেকে বেন আপনাদের আগলে রেখেছে। আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি, যীশু জেরুজালেমের দিকে মুখ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানতেন তার সামনে কী আছে, কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। তিনি বলছেন, 'জেরুজালেম, জেরুজালেম, কতবার আমি চেয়েছি তোমাদের সন্তানদের একত্রিত করতে, যেমন একটি মুরগি তার ছানাদের ডানা দিয়ে ঢেকে রাখে।' যীশুর এই করুণা কি আমাদের বেনের কথা মনে করিয়ে দেয় না? সেও তো সবসময় সবাইকে আগলে রাখতে চাইত। মনে পড়ে সেই ঘটনাটির কথা? ১৫ বছর বয়সের একটি কিশোর, সে জানতে পারল যে তার কাকা উইলিয়াম দুটি মারাত্মক স্ট্রোকের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই, নিজের থেকে সে তার মা-বাবার কাছে গিয়ে বলেছিল যে সে তার জমানো সমস্ত পিগি ব্যাংকের টাকাটা কাকার চিকিৎসার জন্য দিয়ে দিতে চায়। সে সেটা ভাঙেনি, কোনো নাটক করেনি, কারো কাছে ঢাকঢোল পেটায়নি—কারণ টাকাটা লাগেনি, কাকার ইনস্যুরেন্স ছিল। কিন্তু তার সেই অফারটি ছিল নিখাদ। পনেরো বছর বয়সের একটি ছেলে, যে unprompted ভাবে নিজের সর্বস্ব তুলে দিতে চেয়েছিল—এটাই ছিল বেনের আসল রূপ। সে জানত না কার কত বড় ইনস্যুরেন্স আছে, সে শুধু জানত তার কাছের মানুষটি কষ্টে আছে আর তাকে সাহায্য করতে হবে। এটিই তো সেই খ্রীষ্টের হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি, যা পল আজ আমাদের বর্ম হিসেবে পরতে বলছেন। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় হিমশিম খাও, তখন ভেবো না যে তুমি একা। তোমার ভাই বেন, যে সবসময় হাসিমুখে তোমার পাশে থাকত, সে আজ ঈশ্বরের আলোয় থেকে তোমাকে দেখছে। সে চায় তুমি যেন তোমার মা-বাবার একটা বড় সান্ত্বনা হয়ে বেঁচে থাকো। তোমার বাবা-মায়ের সেই শূন্য কোলটি তোমরা দুজনে মিলে, তোমাদের ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে রেখো। বেন তো কেবল তোমাদের ছেড়ে যায়নি, সে তো স্বর্গের সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর পাইলট হয়ে আজ ওপর থেকে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে পাহারা দিচ্ছে। আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়ান, শুনুন: আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।