পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ, ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা আপনাদের সবার সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আমরা যখন কোনো এক বিশাল বিমানবন্দরের অবজারভেশন ডেক থেকে আকাশের দিকে তাকাই, তখন আমাদের চোখ খুঁজে বেড়ায় সেই ধাতব পাখিগুলোকে—সেই বড় বড় জেট বিমানগুলো, যা নীল আকাশ চিরে এগিয়ে চলে। আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের কাছে এই আকাশ ছিল কেবল এক অসীম শূন্যতা নয়, বরং ছিল এক বিশাল সম্ভাবনার ক্যানভাস। সে যখন তার বাবার সাথে দাঁড়িয়ে সেই বিমানগুলোর ওঠানামা দেখত, তখন তার চোখে যে মুগ্ধতা খেলা করত, তা ছিল আসলে এক গভীর আধ্যাত্মিক কৌতূহল। সে যেন জানত, এই পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়েও আরও বড় কোনো গন্তব্য আছে। আজ সাধু ইগনাতিয়াস আন্তিয়োকীয়ার স্মৃতি দিবসে, যিনি নিজের জীবনকে খ্রীষ্টের জন্য এক পবিত্র উৎসর্গ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, আমাদের সামনেও সেই একই প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়: আমরা কি আমাদের চোখ সেই অনন্ত গন্তব্যের দিকে মেলে রেখেছি?
সাধু পল এফিষীয়দের চিঠিতে আজ আমাদের এক অসামান্য আহ্বানের কথা বলছেন। তিনি প্রার্থনা করছেন যেন আমাদের ‘হৃদয়ের চোখ আলোকিত হয়।’ ভাবুন তো, হৃদয়ের চোখ! আমাদের শারীরিক চোখ দিয়ে আমরা হয়তো কেবল চারপাশের অভাব দেখি, সেই শূন্য চেয়ারটি দেখি, সেই নিস্তব্ধ কম্পিউটারটি দেখি। কিন্তু হৃদয়ের চোখ দিয়ে আমরা কী দেখি? আমরা কি সেই আশা দেখতে পাই যা খ্রীষ্টের পুনরুত্থানে আমাদের জন্য সংরক্ষিত আছে? বেনের জীবন ছিল এই হৃদয়ের আলোর এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সে কেবল গণিত বা কোডিং-এর জটিল সমীকরণ মেলাত না; সে তার প্রতিটি কাজে, প্রতিটি হাসিতে ঈশ্বরের সেই মহান পরিকল্পনার এক ছোট অংশকে ধারণ করত। তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন—এসবই ছিল তার হৃদয়ের এক গভীর আকুলতা। সে যেন সব সময় এক বৃহত্তর রানওয়ের খোঁজ করত, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই।
কিন্তু আমরা যখন শোকের কথা বলি, তখন আমাদের সততার সাথে সেই ক্ষতগুলোকে স্বীকার করতে হয়। জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে, অ্যালান এবং থাও, আপনাদের প্রতিটি সকাল যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার মতো। আপনারা যখন সেই ঘরটিতে হাঁটেন, যেখানে বেনের সেই প্রিয় স্মৃতিগুলো এখনো জীবন্ত, তখন কি মনে হয় না যে পৃথিবীটা হঠাৎ করেই কেমন অচেনা হয়ে গেল? অনেক মা-বাবা নীরবে এক ভারী পাথর বয়ে বেড়ান—নিজের অজান্তেই তারা ভাবতে শুরু করেন, ‘আমি কি কিছু মিস করলাম? আমি কি আরও সচেতন হতে পারতাম?’ আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে বলছি: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
বেনের সেই উদারতার কথা মনে পড়ে? যখন তার কাকা উইলিয়াম অসুস্থ ছিলেন, তখন ১৫ বছরের সেই বালক তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। আজকের গসপেলের সেই বাণীর দিকে তাকান, যেখানে যীশু বলছেন, ‘যে আমাকে মানুষের সামনে স্বীকার করবে, মানুষের পুত্রও তাকে ঈশ্বরের দূতদের সামনে স্বীকার করবেন।’ বেন তার ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে, তার সেই অমলিন হাসির মাধ্যমে, তার সেই অসীম সহমর্মিতার মাধ্যমে খ্রীষ্টকেই স্বীকার করে গেছে। সে জানত না, কিন্তু ঈশ্বর জানতেন যে তার সেই হৃদয়ের অফারটি স্বর্গের খাতায় সোনার অক্ষরে লেখা আছে।
আজকের গসপেলের সেই কঠিন সতর্কবাণী—‘পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে নিন্দা’—আসলে আমাদের সেই সত্যের দিকেই নিয়ে যায় যে, ঈশ্বরকে চেনা মানেই হলো ভালোবাসাকে চেনা। পবিত্র আত্মা আমাদের শেখান কীভাবে শোকের মাঝেও আশা খুঁজে পেতে হয়। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।