পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও অনুগ্রহ আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আমরা যখন কোনো এক বিকেলে আমাদের বাড়ির জানালার পাশে দাঁড়াই, তখন দূরের আকাশের দিকে তাকালে মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবনটা যেন এক বিশাল রানওয়ে। বিমান যেমন রানওয়ে থেকে আকাশে উড়াল দেয়, আমাদের জীবনটাও তেমনি ঈশ্বরের পরিকল্পনার এক অনন্ত উড়ান। আজকের প্রথম পাঠে সাধু পল আমাদের সেই অপূর্ব স্তোত্রটি শোনাচ্ছেন: 'খ্রীষ্ট যীশু ঈশ্বরের স্বরূপ হয়েও ঈশ্বরের সমতুল্য হওয়াটা আঁকড়ে ধরে রাখার মতো কিছু বলে মনে করেননি। বরং তিনি নিজেকে শূন্য করলেন, দাসের রূপ ধারণ করলেন।' ভাবুন তো, একটি ছোট শিশু যখন তার প্রথম পদক্ষেপটি ফেলে, তখন সে কি জানে সে কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে? সে জানে না, কিন্তু তার বাবা তার হাতটি শক্ত করে ধরে রাখেন। বেনের কথা ভাবুন, সেই পনেরো বছরের কিশোর, যার জীবন ছিল এক বিস্ময়কর মহাকাশ। তার সেই কৌতূহলী মন, যা দিয়ে সে কোডিংয়ের জটিল জগতকে জয় করত, আর তার সেই প্রিয় বিমানগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ—সে যেন সব সময়ই অসীমের কোনো ঠিকানায় পৌঁছাতে চাইত।
বেনের সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর স্বপ্নটি কেবল একটি বালখিল্য কল্পনা ছিল না; সেটি ছিল তার হৃদয়ের এক গভীর উড়ান। সে যখন তার বাবার সাথে বিমানবন্দরের রানওয়েতে বসে বিমান গুনত, সে তখন কেবল যন্ত্র দেখত না, সে দেখত সৃষ্টির রহস্য। অ্যালান এবং থাও, আমি জানি চার মাস পেরিয়ে গেছে সেই জুনের তেরো তারিখের পর থেকে। আমি জানি, এই কথাগুলো যখন আপনারা শোনেন, তখন আপনাদের বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে। আমি জানি, মাঝেমধ্যে আপনারা যখন বেনের সেই প্রিয় কম্পিউটারটি দেখেন, কিংবা তার সেই কোড করা গেমসগুলোর দিকে তাকান, তখন মনে হয় পৃথিবীটা হঠাৎ করেই কেমন থমকে গেছে। অনেক সময় রাতে একা জেগে থাকার সময় মনে এক অদ্ভুত অপরাধবোধ এসে হানা দেয়—নিজের অজান্তেই আপনারা ভাবতে শুরু করেন, 'আমি কি কোথাও কোনো ভুল করলাম? আমি কি আরও একটু বেশি দেখতে পেতাম?' আজ আমি আপনাদের অত্যন্ত স্পষ্টভাবে, যীশুর নামে এই কথাটি বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কোনো বাবা-মায়ের পক্ষে এতটুকু আটকানোর সাধ্য ছিল না। সেই ভারী পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন আজ স্বর্গের ওপার থেকে বেন আপনাদের আগলে রেখেছে।
আজকের সুসমাচারে যীশু সেই মহান ভোজের কথা বলছেন, যেখানে নিমন্ত্রিতরা নানা অজুহাতে আসতে অস্বীকার করল। কিন্তু প্রভু থেমে থাকেননি। তিনি গৃহের মালিকের মতো আদেশ দিলেন, 'যাও, রাস্তার মোড়ে মোড়ে গিয়ে দরিদ্র, অন্ধ, খোঁড়াদের নিয়ে এসো।' তিনি চান তার ঘর যেন ভরে ওঠে। বেন আজ সেই ভোজের অংশীদার। সে এখন সেই 'Banquet of Heaven'-এ বসে আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো ক্লান্তি নেই। আপনারা যখন বেনের সেই হাসিমুখের কথা ভাবেন, যখন মনে পড়ে সে কীভাবে তার বাবার সাথে বিমান নিয়ে গল্প করতে করতে হাসত, তখন মনে করবেন—সে এখনো সেই হাসিখুশিতেই আছে। সে এখন ঈশ্বরের আলোয় উজ্জ্বল।
বেনের সেই হৃদয়ের উদারতা কি মনে পড়ে? ১৫ বছর বয়সের সেই বালক যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার খবর শুনেছিল, তখন সে তার জমানো সমস্ত পিগি ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে সেটা ভাঙেনি, কোনো নাটক করেনি, কারো কাছে ঢাকঢোল পেটায়নি—কারণ টাকাটা লাগেনি, কাকার ইনস্যুরেন্স ছিল। কিন্তু তার সেই অফারটি ছিল নিখাদ। পনেরো বছর বয়সের একটি ছেলে, যে unprompted ভাবে নিজের সর্বস্ব তুলে দিতে চেয়েছিল—এটাই ছিল বেনের আসল রূপ। সে জানত না কার কত বড় ইনস্যুরেন্স আছে, সে শুধু জানত তার কাছের মানুষটি কষ্টে আছে আর তাকে সাহায্য করতে হবে। এটিই কি সেই 'ভালোবাসা' নয়, যা যীশু আমাদের শিখিয়েছেন? সে তার সামান্য সঞ্চয়টুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল—তার মানে সে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ছিল। এই উদারতাই তো খ্রীষ্টের হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় হিমশিম খাও, তখন ভেবো না যে তুমি একা। তোমার ভাই বেন, যে সবসময় হাসিমুখে তোমার পাশে থাকত, সে আজ ঈশ্বরের আলোয় থেকে তোমাকে দেখছে। সে চায় তুমি যেন তোমার মা-বাবার একটা বড় সান্ত্বনা হয়ে বেঁচে থাকো। তোমরা দুজনে মিলে, তোমাদের ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে এই শূন্যতা ভরিয়ে তোলো। বেন তো কেবল তোমাদের ছেড়ে যায়নি, সে তো স্বর্গের সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর পাইলট হয়ে আজ ওপর থেকে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে পাহারা দিচ্ছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়ান, শুনুন: আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং অনন্ত জীবনে আমাদের পরিচালিত করুন। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।