পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা ঈশ্বরের আঙুরক্ষেতের কথা শুনছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি ছবি। এটি কোনো প্রাচীন দৃশ্য নয়, এটি আমাদের খুব কাছের এক স্মৃতি। মনে পড়ে, বেনের সেই ছোট হাতের আঙুলগুলো যখন কম্পিউটারের কিবোর্ডের ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যেত? সে যখন কোডিং করত, তার সেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর কৌতূহল যেন এক নতুন জগত তৈরি করত। সে তার বাবাকে বলত তার সেই কাল্পনিক ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা। সে যখন বলত, তার সেই গিগল বা মৃদু হাসি যেন পুরো ঘরটাকে আলোয় ভরিয়ে দিত। সে এক অনন্য আঙুরগাছ ছিল—যা ঈশ্বর নিজে পরম যত্নে রোপণ করেছিলেন, যার চারপাশে তিনি ভালোবাসার এক মজবুত বেড়া দিয়েছিলেন।
কিন্তু আজকের প্রথম পাঠে ঈশ্বর যখন তাঁর আঙুরক্ষেতের কথা বলেন, তখন তিনি এক গভীর ব্যথার কথা জানান। তিনি সব আয়োজন করেছিলেন, সব যত্ন নিয়েছিলেন, কিন্তু বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন বুনো আঙুর। এই কথাটি আমাদের হৃদয়ে এক প্রশ্ন তোলে: কেন? কেন এত যত্ন, এত ভালোবাসা, এত স্বপ্ন—তবুও কেন এমন পরিণতি? অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন আপনাদের কাছে কতটা ভারী। সেই শূন্য চেয়ার, সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন, আর মাঝরাতে যখন ঘরটা বেনের উপস্থিতিতে পূর্ণ মনে হয় কিন্তু বাস্তবে কেবল এক নিঃসঙ্গ নীরবতা থাকে, তখন কি মনে হয় না যে ঈশ্বর যেন অনেক দূরে সরে গেছেন? আপনারা কি নিজেদের অজান্তেই সেই প্রশ্নটি বারবার করেন, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন: ‘আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? কোথাও কি কোনো ভুল হয়ে গেল?’
আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
সুসমাচারে যীশু যখন আঙুরক্ষেতের মালিকের গল্পটি বলেন, তখন তিনি সেই মালিকের কথা বলেন যিনি তাঁর পুত্রকে পাঠালেন। তিনি ভেবেছিলেন, ‘তারা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।’ কিন্তু সেই পুত্রকেই প্রত্যাখ্যান করা হলো। যীশু নিজে সেই প্রত্যাখ্যাত পাথর, যিনি শেষ পর্যন্ত কোণাকৃতির পাথর বা ‘কর্নারস্টোন’ হয়ে উঠলেন। বেন ছিল সেই কোমল হৃদয়ের অধিকারী, যে তার নিজের পিগি ব্যাংকটি তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সেই অফারটি ছিল তার হৃদয়ের এক পবিত্র উৎসর্গ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, ভালোবাসা মানেই হলো নিজেকে উজাড় করে দেওয়া, কোনো হিসাব না করে। বেন আজ সেই স্বর্গের মহান মালিকের আঙুরক্ষেতে আছে, যেখানে সে আর কোনো অসুস্থতার শিকার নয়।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের হৃদয়ে তাঁর শান্তি বজায় রাখুন। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।