পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ এবং ঈশ্বরের প্রেম আপনাদের সকলের অন্তরে বিরাজ করুক।
হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর।
আমরা যখন আজকের গসপেলের দিকে তাকাই, তখন যীশুকে দেখি এক কঠোর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। তিনি ফরীশীদের বলছেন, ‘তোমরা পুদিনা আর সবজি থেকে দশমাংশ দাও, কিন্তু ন্যায়বিচার ও ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসার কথা ভুলে যাও।’ যীশু এখানে বাহ্যিক নিয়ম আর অন্তরের সত্যের মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য, তা ধরিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ঈশ্বর কেবল আমাদের বাইরের কাজ বা হিসাব দেখেন না; তিনি দেখেন সেই হৃদয়ের স্পন্দন, যা নিয়মের বেড়াজাল ছাড়িয়ে ভালোবাসার দিকে ধাবিত হয়।
এই কথাগুলো ভাবতে গিয়ে আমার মনে পড়ছে আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভোরের কথা। বেন এমন এক বালক ছিল, যার জীবন কোনো বাহ্যিক নিয়মের দাস ছিল না; তার জীবন ছিল এক মুক্ত আত্মার ছন্দ। মনে আছে সেই দিনটির কথা, যখন সে তার বাবার সাথে বসে বিমানের রুট নিয়ে কথা বলত? সে তার সেই কাল্পনিক ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর কথা বলতে গিয়ে যেভাবে হাসত, সেই হাসিটি ছিল তার হৃদয়ের পবিত্রতা। সে কোডিং-এর জটিল জগত বুঝত, গণিতের কঠিন সূত্র তার কাছে ছিল জলের মতো সহজ, কিন্তু তার জীবনের মূলমন্ত্র ছিল তার সেই কোমল হৃদয়। সে যখন তার অসুস্থ কাকা উইলিয়ামের জন্য তার জমানো সবটুকু দিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন সে কোনো নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা থেকে তা করেনি। সে কেবল তার হৃদয়ের ভালোবাসায় উদ্বেলিত হয়ে বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ সে ভাঙেনি, সে কোনো নাটক করেনি; সে কেবল বলেছিল। আর সেই অফারটিই ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।
অ্যালান এবং থাও, আমি জানি জুন মাসের সেই তেরো তারিখের পর থেকে প্রতিটি দিন কত দীর্ঘ মনে হয়। যখন আপনারা সেই ঘরটিতে হাঁটেন যেখানে বেনের কম্পিউটারটি এখন নিস্তব্ধ, তখন কি আপনাদের মনে সেই প্রশ্নটি জাগে না, যা অনেক মা-বাবা নীরবে বহন করেন? ‘প্রভু, আপনি কি দেখেন না? আমার কি কোথাও কোনো ভুল হয়ে গেল? আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম?’ আজ আমি আপনাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি কথা বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা। ঈশ্বর আপনাদের এই শোকের প্রতিটি ফোঁটা অশ্রু গণনা করছেন। আপনারা কোনো কিছু মিস করেননি। আপনারা তাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক যেমন যীশু আজ বেনকে আগলে রেখেছেন।
সাধু পল গালাতীয়দের চিঠিতে বলছেন, ‘আত্মার ফল হলো প্রেম, আনন্দ, শান্তি, ধৈর্য, দয়া, উদারতা, বিশ্বস্ততা, নম্রতা ও আত্মসংযম।’ বেন কি ছিল না এই ফলের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত? তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই বাস্কেটবল কোর্টে ঘাম ঝরানো প্রচেষ্টা, তার সেই বিমান দেখার নেশা—এসবের গভীরে ছিল এক গভীর আত্মসংযম এবং শান্তি। সে যখন তার ছোট ভাই রায়ানের পাশে বসে থাকত, তখন সে ছিল এক বড় ভাইয়ের ছায়া, এক সুরক্ষার প্রতীক। সে জানত কীভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়। আর এই বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাটিই তো খ্রীষ্টের পথ।
আজকের গসপেলের ‘অদৃশ্য কবর’ বা ‘বোঝা চাপিয়ে দেওয়া’র যে সতর্কবাণী যীশু দিয়েছেন, তা আমাদের শেখায় যে, আমরা যেন শোকের ভারে নিজেকে বা অন্যকে বিচার না করি। অনেক সময় শোক আমাদের এমন এক অন্ধকার কোণে নিয়ে যায়, যেখানে আমরা নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করি। যীশু আজ সেই অন্ধকার থেকে আমাদের টেনে তুলছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি আলোর উৎস।’ যখন আমরা আমাদের প্রিয়জনকে হারাই, তখন আমাদের মনে হয় আমরা যেন এক বিশাল শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন, বেন হারিয়ে যায়নি। সে কেবল এক নতুন রানওয়েতে পা রেখেছে, যেখানে কোনো মেঘ নেই, কোনো অন্ধকার নেই। তার সেই হাসি, তার সেই গিগলগুলো—এগুলো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এগুলো ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত।
রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি যখন তোমার পড়াশোনায় বা তোমার খেলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ো, তখন তোমার ভাইয়ের সেই হাসিমুখটা মনে কোরো। সে তোমার পাশেই আছে, তোমায় আগলে রেখেছে। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
আপনারা যারা আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে সেইসব মা-বাবারা যারা কোনো না কোনো ভারী ক্রস বয়ে বেড়াচ্ছেন—শুনে রাখুন, আপনারা একা নন। যীশু নিজে আপনাদের এই ব্যথার অংশীদার হয়েছেন। তিনি ক্রুশে ঝুলে আপনাদের এই কান্নার ওজন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর আমাদের স্বর্গীয় মা, কুমারী মারিয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের পবিত্র চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—যেমন সি মাকুর সেই তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য তৈরি করা জলের কূপটি—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। বেন, তুমি আমাদের জন্য প্রার্থনা করো, যেমন আমরা তোমার জন্য করছি। আমরা জানি, একদিন সেই স্বর্গের রানওয়েতে আবার আমাদের দেখা হবে, যেখানে কোনো বিদায় নেই, কেবল অনন্ত মিলন। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত দুঃখ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।