পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও কৃপা আপনাদের সকলের সাথে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া করুন। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন।
আমরা যখন আজকের প্রথম পাঠে প্রজ্ঞাবান লেখকের সেই বিখ্যাত তালিকাটি শুনি—‘জন্মের সময়, মৃত্যুর সময়; রোপণের সময়, উৎপাটনের সময়’—তখন আমাদের মনে হতে পারে, জীবন যেন কেবলই সময়ের এক বিশাল ক্যালেন্ডার। কিন্তু আমরা যারা প্রিয়জনের বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমরা জানি যে এই সময়গুলো কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ের গভীরে এক গভীর ক্ষত ও একই সাথে এক অসীম আকুলতার জন্ম দেয়। বেনের কথা ভাবুন। আমাদের সেই প্রিয় বেঞ্জামিন ভো। পনেরো বছরের সেই উজ্জ্বল প্রাণ, যার মেধা ছিল কম্পিউটারের কোডিং-এর মতো সূক্ষ্ম, আর যার হাসি ছিল আকাশের মতো প্রশস্ত। তার জীবন কি কেবল একটি সময়ের তালিকা ছিল? না। তার জীবন ছিল একটি উপহার, যা সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে আমাদের হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
বেনের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো কি কেবল অতীত? আপনারা যখন তার সেই বিমানবন্দরের ছবিগুলোর কথা ভাবেন—যেখানে সে তার প্রিয় উড়োজাহাজগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতো, সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন নিয়ে তার সেই মিষ্টি গিগলগুলো—তখন কি মনে হয় না যে, সে কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে ছিল? না। সে ছিল অসীমের এক প্রতিধ্বনি। সে যখন তার বাবার সাথে বিমানবন্দরগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকতো, তখন সে কেবল একটি যন্ত্র দেখতো না; সে দেখতো মানুষের স্বপ্নের ডানা। সে দেখতো কীভাবে মানুষ মাটি ছেড়ে আকাশে উড়তে পারে। আজ সে নিজেও সেই অসীমের আকাশে ডানা মেলেছে।
আমি জানি, অ্যালান এবং থাও, আপনারা এই তিন মাসে কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সেই শূন্য চেয়ার, সেই সকালের নীরবতা, আর মাঝরাতে জেগে উঠে বেনের সেই হাসির শব্দ খোঁজা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যা আপনাদের হৃদয়কে প্রতিদিন বিদ্ধ করে? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমি কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমি কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই ভারী পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। অসুস্থতা বা এই ধরনের শোক মানুষের কোনো লজিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
আজকের সুসমাচারে যীশু তাঁর শিষ্যদের একটি প্রশ্ন করছেন: ‘লোকে আমাকে কে বলে?’ আর তারপর, ‘তোমরা আমাকে কে বলো?’ এটি কেবল পরিচয়ের প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্বাসের প্রশ্ন। যীশু যখন বলেন, ‘পুত্র মানুষকে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে, প্রত্যাখ্যাত হতে হবে এবং তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হতে হবে,’ তখন তিনি আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যটিই সামনে আনেন। কষ্ট এবং মৃত্যু জীবনের শেষ নয়। যীশু আমাদের দেখাচ্ছেন যে, কষ্টের পরেই আসে পুনরুত্থান। বেন আজ সেই পুনরুত্থানের আলোয় আছে। সে আজ সেই ‘Banquet of Heaven’-এ আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তার সেই প্রিয় স্বপ্নের কথা বলছে। তার সেই কৌতূহল, সেই বিমান-spotting-এর প্রতি ভালোবাসা—সেগুলো কি থেমে গেছে? না, সেগুলো এখন ঈশ্বরের অনন্ত আলোয় রূপান্তরিত হয়েছে।
আপনারা যারা আজ একা বোধ করছেন, যারা মনে করছেন যে আপনাদের শোকের কোনো ভাষা নেই—মনে রাখবেন, যীশুও একা প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি যখন নির্জনে প্রার্থনা করছিলেন, তখন তিনি আমাদের একাকীত্বের অংশীদার হয়েছিলেন। তিনি বেনের কষ্ট বুঝেছেন, তিনি আপনাদের কান্নাও বুঝছেন। রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মন মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো। তুমি একা নও। তোমার ভাইয়ের সেই মৃদু হাসি, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে তোমাদের আগলে রাখছে।
বেনের জীবন ছিল সেই সুসমাচারের মতো—‘কিছুই নিও না।’ সে যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই তার হাসি, তার কৌতূহল এবং তার দয়া দিয়ে সে একটি ঘর তৈরি করেছে। সে যখন তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার কথা শুনে তার পিগি ব্যাংকটি দিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন সে কি হিসাব করছিল? না। সে তার নিজের কোনো সম্পদ বা নিরাপত্তার কথা ভাবেনি। সে কেবল চেয়েছিল তার ভালোবাসার অকৃত্রিমতাটুকু উজাড় করে দিতে। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সেই ছোট ছেলেটি, যে তার পিগি ব্যাংক দিয়ে তার প্রিয়জনকে বাঁচাতে চেয়েছিল, সে আজ ঈশ্বরের সেই অসীম ভাণ্ডারে আছে, যেখানে আর কোনো অভাব নেই।
আপনারা যারা দূরদূরান্ত থেকে আজ এই প্রার্থনায় যুক্ত হয়েছেন, যারা নিজেরাও কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন—আজ এই শব্দগুলোকে ধরে রাখুন। বেন আজ আর ব্যথায় নেই। সে ভালো আছে। আর কুমারী মারীয়া, যিনি ক্রুশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের বুক চেরা ব্যথা সয়েছিলেন, তিনি আজ আপনাদের এই মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের কান্নাকে নিজের চাদরে ঢেকে রেখেছেন। তিনি জানেন মা হওয়া মানে কী, তিনি জানেন সন্তান হারানো মানে কী। তিনি আজ আপনাদের সাথে কাঁদছেন এবং আপনাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে—সেই ‘Giếng Gioan Baotixita’ বা জলের কূপটি যেমন তৃষ্ণার্তদের জীবন দিচ্ছে—তেমনি আপনারাও কারো জীবনে একটু শীতল জল হয়ে দাঁড়ান। এটিই হবে বেনের প্রতি আপনাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা। প্রভু আপনাদের শান্তিতে রাখুন, আর বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে চিরদিন আলোর মতো জেগে থাকুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সমস্ত অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।