পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও ভালোবাসা আপনাদের সবার অন্তরে বিরাজ করুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা সন্ত কর্নিলিয়াস এবং সিপ্রিয়ানের পবিত্র স্মৃতি উদযাপন করছি, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটি ছবি। এটি কোনো বড় কোনো অনুষ্ঠানের ছবি নয়, বরং বেনের সেই ছোট এক সময়ের ছবি—বেন এবং তার ভাই রায়ান একটি রেস্তোরাঁয় বসে আছে, টেবিলে ভাতের বাটি, টাটকা শাকসবজি আর লেবুর টুকরো। একজন তাদের মধ্যে সাদা ন্যাপকিন দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রেখেছে, আর অন্যজন তার ব্রেসসহ সেই বড়, মিষ্টি হাসিটি দিচ্ছে। সেই হাসিটি ছিল জীবনের জয়গান। সেই হাসিটি ছিল এমন এক সরলতা, যা আমাদের আজকের এই কঠিন সময়েও মনে করিয়ে দেয় যে, ভালোবাসা কোনো জটিল হিসাব নয়; ভালোবাসা হলো একসাথে থাকা, একসাথে হাসা, আর একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেই অকৃত্রিম আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল আমাদের ভালোবাসার এক অপূর্ব সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, “প্রেম ধৈর্যশীল, প্রেম দয়ালু।” তিনি আমাদের সতর্ক করছেন যে, আমরা যদি দেবদূতের ভাষায় কথা বলি, যদি পাহাড় সরানোর মতো বিশ্বাস রাখি, কিন্তু যদি আমাদের মধ্যে প্রেম না থাকে, তবে আমরা কিছুই নই। বেন, আমাদের প্রিয় বেঞ্জামিন ভো, সেই প্রেমের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিল। তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই কোডিং-এর জগত, তার সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন—এগুলো কি কেবল একটি বাচ্চার কল্পনা ছিল? না, এগুলো ছিল তার আত্মার এক বিশাল আকাশ জয়ের চেষ্টা। তার বাবা অ্যালান যখন তার সাথে রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখতেন, তখন সেই বিমানগুলো কেবল যন্ত্র ছিল না, সেগুলো ছিল বেনের হৃদয়ের বিশালতা।
আমি জানি, আজ তিন মাস হলো বেন আমাদের ছেড়ে গেছে। আমি জানি, এই তিন মাস অ্যালান এবং থাওয়ের জন্য কত দীর্ঘ। সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়, যার কথা আমরা বারবার অনুভব করি? অনেক সময় আপনারা ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই পাথর, যা আপনাদের বুক থেকে নামাতে হবে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—‘না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।’ বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
আজকের সুসমাচারে যীশু সেই প্রজন্মের মানুষের কথা বলছেন যারা কেবল অভিযোগ করে। তারা বলে, ‘আমরা বাঁশি বাজালাম, তোমরা নাচলেনা। আমরা শোক করলাম, তোমরা কাঁদলে না।’ জীবন অনেক সময় আমাদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে আমরা কেবল অভিযোগই খুঁজে পাই। কেন এমন হলো? কেন এই অকাল বিদায়? কিন্তু যীশু আমাদের বলছেন, প্রজ্ঞা তার সন্তানদের দ্বারাই প্রমাণিত হয়। বেনের জীবন ছিল সেই প্রজ্ঞার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তার সেই উদারতা মনে আছে? যখন সে তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল? সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল বলেছিল, ‘আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।’ এটিই ছিল বেনের আত্মা। সে ছিল এমন এক বালক, যে তার নিজের জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যদের ভালোবাসতে চেয়েছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে তার নিজের সম্পদ দিয়ে নয়, তার প্রেমের অকৃত্রিমতা দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।
বেন এখন সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, ‘বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।’ রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। বেনের ভালোবাসা কখনো শেষ হয়নি; তা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। মনে রাখবেন, যেমন সাধু পৌল বলেছেন, ‘প্রেম কখনো শেষ হয় না।’ বেনের সেই হাসি, তার সেই কৌতূহল, তার সেই ভালোবাসা আজ ঈশ্বরের অনন্ত স্মৃতিতে সংরক্ষিত। সে আপনাদের হৃদয়ে আছে, সে আপনাদের আগলে রাখছে। আজ এই প্রার্থনাটুকু নিয়ে ঘরে ফিরুন—যে জীবন আমরা যীশুর জন্য উৎসর্গ করি, তা কখনো নষ্ট হয় না। তা অনন্তকাল বেঁচে থাকে। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল অশুভ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।