পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমিন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ এবং ঈশ্বরের প্রেম আপনাদের সকলের সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে খ্রীষ্ট, আমাদের প্রতি দয়া কর। হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
আজকের এই দিনে, যখন আমরা পবিত্র ক্রুশের মহোৎসব পালন করছি, আমার চোখের সামনে একটি ছবি ভেসে উঠছে—বেনের সেই ছোট ছোট হাত, যা দিয়ে সে তার প্রিয় খেলনা বিমানগুলো সাজাত। সেই বিমানগুলো, যা সে তার নিজস্ব ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্নে বুনেছিল। সেই ছোট ছেলেটি, যে আকাশের বিশালতাকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করতে চেয়েছিল। আজ, যখন আমরা বেনের প্রস্থান থেকে তিন মাস পার করছি, ক্রুশের এই উৎসব আমাদের সেই আকাশের দিকেই তাকাতে শেখায়, যেখানে সে এখন চিরস্থায়ী শান্তির নীড়ে আশ্রয় নিয়েছে।
আজকের প্রথম পাঠে আমরা দেখি মরুভূমিতে পথচলা ইস্রায়েলীয়দের। তারা ক্লান্ত, তারা বিরক্ত, তারা অভিযোগ করছে। তাদের কাছে মরুভূমি মানেই মৃত্যু, মরুভূমি মানেই ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্নতা। আর সেই মরুভূমির উত্তাপে, যখন তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে এসেছে, তখন তারা সাপের কামড়ের শিকার হয়েছে। আমরা যখন বেনের মতো একজনকে হারাই, আমাদের জীবনও যেন এক মরুভূমিতে পরিণত হয়। সেই মরুভূমিতে আমরাও কি প্রশ্ন করি না? ‘কেন এমন হলো?’ ‘ঈশ্বর কি আমাদের ভুলে গেছেন?’ এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের মনের কোণে দানা বাঁধে, তখন মনে হয় যেন বিষাক্ত সাপের কামড় আমাদের হৃদয়ে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। কিন্তু ঈশ্বর মোশেকে বললেন, ‘একটি ব্রোঞ্জ সর্প তৈরি করে খুঁটিতে টাঙিয়ে দাও, যেন যে কেউ তার দিকে তাকাবে, সে বেঁচে থাকবে।’
এটি কি অদ্ভুত নয়? যে বিষ তাদের মারছিল, সেই বিষেরই প্রতিকৃতি তাদের জীবন ফিরিয়ে দিল। ক্রুশও ঠিক তাই। ক্রুশ ছিল মৃত্যুর প্রতীক, যন্ত্রণার প্রতীক, পরাজয়ের প্রতীক। কিন্তু যীশু যখন সেই ক্রুশে ঝুলে পড়লেন, তখন তিনি সেই মৃত্যুকে নিজের ভেতর দিয়ে পার করে নিলেন। তিনি সেই বিষকে নিজের দেহে ধারণ করলেন, যেন আমরা আর বিষাক্ত না হই। বেনের জীবনের দিকে তাকান। সে ছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—তার মেধা, তার কৌতূহল, তার বাস্কেটবল খেলার সেই অদম্য জেদ। তার সেই হাসি, যা আমাদের সবার হৃদয়ে লেগে আছে। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক গভীর মরুভূমি, কিন্তু ক্রুশ আমাদের বলছে—এই মরুভূমি শেষ নয়।
প্রিয় অ্যালান, প্রিয় থাও, আমি জানি শোকের এই তিন মাস আপনাদের কাছে কত দীর্ঘ। আমি জানি, সেই শূন্য চেয়ারটি, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো আপনাদের হৃদয়ে কত বড় ক্ষত তৈরি করেছে। আপনারা কি কখনো ভাবেন, ‘আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম?’ ‘আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?’ এই প্রশ্নগুলো এক বিশাল বোঝার মতো আপনাদের বুকের ওপর চেপে বসে। আজ, এই পবিত্র ক্রুশের সামনে, আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—‘না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।’ বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে।
বেনের জীবনের একটি ছোট মুহূর্তের কথা ভাবুন। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে নিজের জমানো সমস্ত টাকা দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সে তার পিগি ব্যাংক ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল তার হৃদয়ের উদারতাটুকু তুলে ধরেছিল। সেই ‘অফার’ বা প্রস্তাবটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। সে তার নিজের সম্পদ দিয়ে নয়, তার প্রেমের অকৃত্রিমতা দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছে যে, জীবন মানেই হলো অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সেই ছোট ছেলেটি, যে তার পিগি ব্যাংক দিয়ে তার প্রিয়জনকে বাঁচাতে চেয়েছিল, সে আজ ঈশ্বরের সেই অসীম ভাণ্ডারে আছে, যেখানে আর কোনো অভাব নেই।
আজকের দ্বিতীয় পাঠে সাধু পৌল বলছেন, ‘খ্রীষ্ট যীশু, যদিও তিনি ঈশ্বরের স্বরূপ ছিলেন, তবুও তিনি নিজেকে শূন্য করে দাসের রূপ নিলেন।’ বেনও কি নিজেকে শূন্য করে আমাদের ভালোবাসেনি? সে ছিল এক ছোট দাস, যে তার হাসি দিয়ে, তার কৌতূহল দিয়ে, তার বিমান নিয়ে খেলার সেই সরলতা দিয়ে আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ভালোবাসতে হয়। সে এখন সেই ‘Banquet of Heaven’ বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে, যেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, ‘বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।’
রায়য়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, ‘চেষ্টা করাই আসল কথা।’ তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়। বেনের সেই ‘কন চিম এয়ারলাইন্স’-এর স্বপ্ন আজ স্বর্গের পথে উড়ছে, আর সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে আশীর্বাদ পাঠাচ্ছে।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। বেনের ভালোবাসা কখনো শেষ হয়নি; তা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং আপনাদের রক্ষা করুন। পবিত্র ক্রুশের শক্তিতে আপনারা শান্তিতে থাকুন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।