পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শান্তি ও করুণা আপনাদের সবার সঙ্গে থাকুক।
হে প্রভু, তুমি আমাদের করুণা করো। হে খ্রীষ্ট, তুমি আমাদের করুণা করো। হে প্রভু, তুমি আমাদের করুণা করো।
আমরা আজ এমন এক দিনে সমবেত হয়েছি, যা আমাদের হৃদয়ের গভীরতম প্রান্তকে স্পর্শ করে। আজ আমরা 'আমাদের দুঃখের মাতা' কুমারী মারীয়াকে স্মরণ করছি। আমি যখন আজ সকালে প্রার্থনা করছিলাম, আমার চোখের সামনে ফুটে উঠল একটি ছবি—বেনের সেই ছোট ছোট হাত, যা দিয়ে সে তার খেলনা বিমানগুলো যত্ন করে সাজাত। আপনারা যারা বেনের বাবা-মা, আপনারা জানেন সেই হাতগুলোর স্পর্শ কেমন ছিল। সেই হাতগুলো আজ নেই, কিন্তু সেই হাতের কোমলতা আর পবিত্রতা আজও আপনাদের স্মৃতিতে অম্লান। আজ এই শোকের দিনে, যখন আমরা বেনের প্রস্থানের তিন মাস পার করছি, আমরা মারীয়ার দিকে তাকাই। কারণ মারীয়া জানেন—একজন মা হিসেবে তিনি জানেন—সন্তান হারানোর সেই অসহ্য যন্ত্রণা কেমন।
আজকের সুসমাচারে আমরা দেখি, ক্রুশের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকা মারীয়াকে। সেখানে কোনো বড় ভাষণ নেই, কোনো যুক্তিতর্ক নেই। আছে কেবল 'থাকা'। যীশু যখন ক্রুশে ঝুলছেন, তখন মারীয়া সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি সরে যাননি। তিনি সেই যন্ত্রণাকে এড়িয়ে যাননি। তিনি সেই আঘাতকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছেন। সাধু সিমিওন অনেক আগেই বলেছিলেন, 'আপনার নিজের হৃদয়েও এক তলোয়ার বিদ্ধ হবে।' আজ, অ্যালান এবং থাও, আমি জানি সেই তলোয়ার আপনাদের হৃদয়েও বিদ্ধ হয়েছে। বেনের সেই উজ্জ্বল হাসি, তার সেই অদম্য কৌতূহল, তার সেই বাস্কেটবল খেলার জেদ—এগুলো যখন মনে পড়ে, তখন কি সেই তলোয়ারের আঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে না? সেই শূন্য চেয়ার, সেই নিস্তব্ধ ঘর, সেই সকালের নীরবতা—এগুলো কি সেই তলোয়ারের ক্ষত নয়?
কিন্তু শুনুন, মারীয়া কেন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন? তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন কারণ ভালোবাসা কখনো পালিয়ে যায় না। ভালোবাসা যন্ত্রণার শেষ সীমানা পর্যন্ত সঙ্গী হয়ে থাকে। বেনের জীবনের দিকে তাকান। সে ছিল এক আশ্চর্য বালক। তার সেই মেধা, তার সেই কোডিং-এর জগত, তার সেই 'কন চিম এয়ারলাইন্স'-এর স্বপ্ন—এগুলো কি কেবল একটি বাচ্চার কল্পনা ছিল? না, এগুলো ছিল তার আত্মার এক বিশাল আকাশ জয়ের চেষ্টা। তার কাকা উইলিয়ামের অসুস্থতার সময় সে যে তার নিজের পিগি ব্যাংক দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তা কি মনে আছে? সে ভাঙেনি, সে কোনো বড়াই করেনি, সে কেবল বলেছিল, 'আমি আমার সবটুকু দিতে চাই।' এটিই ছিল বেনের আত্মা। সে ছিল এমন এক বালক, যে তার নিজের জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যদের ভালোবাসতে চেয়েছিল।
আমি জানি, শোকের এই পথটি কত বন্ধুর। আমি জানি, অনেক সময় আপনারা ভাবেন, 'আমরা কি আরও ভালো যত্ন নিতে পারতাম? আমরা কি কোথাও ভুল করেছি?' এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে বারবার ফিরে আসে। এই প্রশ্নগুলোই হলো সেই তলোয়ার, যা আপনাদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করছে। আজ আমি আপনাদের একটি কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনারা কোনো ভুল করেননি। ঈশ্বর কখনো রোগ পাঠান না, আর আপনাদের কোনো অবহেলা বেনের এই পরিণতির কারণ নয়। যীশু যখন অন্ধ মানুষটির কথা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন—'না সে, না তার বাবা-মা পাপ করেছে।' বেনের এই অসুস্থতা বা মৃত্যু কারো কোনো ভুলের ফল নয়। এটি এক রহস্যময় শোক, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সেই পাথরটি আজ আপনাদের বুক থেকে নামিয়ে ফেলুন। আপনারা বেনকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন—সেই ভালোবাসা, যা তাকে রোম থেকে ভ্যাটিকান পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা তার প্রতিটি ছোট স্বপ্নকে ডানা দিয়েছে। আপনারা তাকে যে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন, তা ঈশ্বরেরই ভালোবাসা।
আজকের প্রথম পাঠে সাধু পৌল আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আমরা সবাই এক দেহের অঙ্গ। 'শরীরের অংশগুলি অনেক হলেও তারা একটিই শরীর।' বেন সেই দেহের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সে হারিয়ে যায়নি, সে শুধু অন্য এক জগতে পাড়ি দিয়েছে। সে এখন সেই 'Banquet of Heaven' বা স্বর্গের ভোজসভায় আছে। সেখানে কোনো ব্যথা নেই, কোনো কান্না নেই। সে আজ সাধু কার্লো আকুত্তিসের সাথে মিলে আপনাদের জন্য আন্তর্বিনতি করছে। সে আপনাদের বলছে, 'বাবা, মা, আমি ভালো আছি। আমি তোমাদের দেখছি।' রায়ান, তুমি তোমার ভাইয়ের সেই লড়াকু মনোভাব মনে রেখো। সে বলত, 'চেষ্টা করাই আসল কথা।' তুমি তোমার পড়াশোনায়, তোমার খেলায় সেই চেষ্টার প্রতিফলন ঘটাও। তোমরা দুই ভাই মিলে যে বন্ধন তৈরি করেছ, তা মৃত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার নয়।
আপনারা যারা আজ দূর থেকে শুনছেন, যারা কোনো না কোনো শোকের ভার বহন করছেন, আপনারা একা নন। যীশু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের কান্নার ভাষা বোঝেন। তিনি আপনাদের সেই গভীর ক্ষতগুলোকে নিজের হাতে স্পর্শ করছেন। আজ রাতে যখন আপনারা শান্তিতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন মনে রাখবেন, বেন আপনাদের দেখছে, সে আপনাদের ভালোবাসছে। সে এখন ঈশ্বরের পরম শান্তিতে। ধন্য কুমারী মারীয়া, যিনি স্বয়ং তাঁর পুত্রের শোক বহন করেছিলেন, তিনি আজ আপনাদের মাতৃত্বের ও পিতৃত্বের আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখুন।
আজ বাড়ি ফেরার সময় একটি ছোট কাজ করবেন। বেনের সেই উদারতার কথা মনে রেখে, কারো প্রতি একটি ছোট দয়া দেখান। কোনো প্রতিদানের আশা না করে, কাউকে একটু সাহায্য করুন। বেনের নামে যে ভালোবাসা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা যেন আপনাদের জীবনেরও অংশ হয়। আপনারা শান্তিতে থাকুন, কারণ প্রভু আপনাদের সাথে আছেন। তিনি আপনাদের সেই দৌড়বিদের শক্তি দিন, যেন আপনারা শোকের পরেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। বেনের ভালোবাসা কখনো শেষ হয়নি; তা কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়েছে। ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন এবং বেনের পবিত্র স্মৃতি আপনাদের হৃদয়ে শান্তি ও আশা জাগিয়ে রাখুক। আমেন।
For the intentions entrusted to Ben on our prayer wall:
🕯 প্রার্থনা প্রাচীরে আপনার নিজের প্রার্থনা প্রজ্জ্বলিত করুন →
মুক্তিদাতার আজ্ঞায় এবং ঐশ্বরিক শিক্ষায় গঠিত হয়ে, আমরা বলতে সাহস করি:
স্বর্গস্থ আমাদের পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে, তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় রুটি আজ আমাদের দাও, এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো, যেমন আমরা আমাদের অপরাধকারীদের ক্ষমা করি; এবং আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, কিন্তু মন্দ থেকে আমাদের রক্ষা করো। আমেন।
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমাদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের অনন্ত জীবনে নিয়ে যান। আমেন।
✝ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আপনাদের আশীর্বাদ করুন: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।